দিনাজপুরের হাকিমপুরে মেয়েকে (১৩) ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে দুলাল হোসেন (৪৫) নামে এক সৎ বাবার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কিশোরীর মা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন দুলাল। এদিকে টাকা খেয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে।
গত ১ নভেম্বর হাকিমপুরের হিলির কালিগঞ্জ গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে। পরদিন কিশোরীর মা থানায় মামলা করেন। অভিযুক্ত দুলাল হিলির কালিগঞ্জ গ্রামের যদু মিয়ার ছেলে ও পেশায় ফল ব্যবসায়ী। ভুক্তভোগী কিশোরীর মায়ের বাড়ি নীলফামারীতে কয়েক বছর পূর্বে এক ছেলে ও এক মেয়েসহ দুলালের সঙ্গে তার দ্বিতীয় বিয়ে হয়।
কিশোরীর মা জানান, সোমবার রাত ২টার দিকে তিনি ও তার মেয়ে ঘরে দুই চৌকিতে শুয়ে ছিলেন। এ সময় দুলাল বাহির থেকে এসে মেয়ের জামা খুলে ফেলে বুকে ও পায়ে হাত দেয় এবং ধর্ষণচেষ্টা করে। তিনি এসব দেখতে পেয়ে দুলালকে ধরে ফেলেন। ডাক-চিৎকার করলেও অনেক রাত হওয়ায় কেউ আসেনি। তখন কমিশনারকে বিচার দেব বললে দুলাল তাকে বালিশচাপা দিয়ে চলে যায়।
থানায় অভিযোগ দিয়েছেন জানিয়ে তিনি বলেন, পুলিশ বাড়িতে এসে ঘটনা শুনে চলে গেছে। কিন্তু কেউ আমাদের বিচার করছে না। মা-বেটি পাগল বলে এদের কোনো বিচার হবে না বলে জানিয়েছে।’ স্বামীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান তিনি।
টাকা খেয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে হাকিমপুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ইসরাইল শেখ বলেন, অভিযোগ শুনে পুলিশসহ আমি ওই বাড়িতে যাই। এ সময় ওই কিশোরীর মা জানান, তার স্বামী দুলাল তার মেয়ের গায়ে হাত দিয়েছে। তবে ওই ঘটনার পর থেকে দুলাল পলাতক রয়েছে।
হাকিমপুর থানার ওসি ফেরদৌস ওয়াহিদ জানান, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। ইতিপূর্বেও এই ধরনের ঘটনায় স্থানীয়ভাবে নাকি বিচার সালিশ হয়েছিল। দুলালকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।