মৃত চিকিৎসকের স্বাক্ষরে প্যাথলজি রিপোর্ট

রাজধানীতে একজন চিকিৎসক সম্প্রতি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। কিন্তু শ্যামলীর হাইপোথাইরয়েড সেন্টার প্যাথলজি রোগীর রিপোর্টে জালিয়াতির মাধ্যমে ওই চিকিৎসকের স্বাক্ষর ব্যবহার করে আসছে। এ ছাড়া নানা অনিয়ম রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। গতকাল শনিবার র‌্যাবের অভিযানে জালিয়াতি ও অনিয়মের বিষয় উঠে আসে। প্রতিষ্ঠানটির দুই কর্মচারী সোহেল রানা ও রাসেলকে দুই বছরের কারাদন্ড দিয়েছে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

র‌্যাব জানিয়েছে, গতকাল র‌্যাব-২ শ্যামলী স্কয়ারের বিপরীতে ২/১ নম্বর বাড়ির হাইপোথাইরয়েড সেন্টারে অভিযান চালায়। আলম। তিনি বলেন, অধ্যাপক ডা. মনিরুজ্জামান কখনো হাইপোথাইরয়েড সেন্টারে চাকরি করেননি। কিন্তু তার স্বাক্ষর জাল করে রোগীর প্যাথলজি রিপোর্ট দিয়ে আসছিল প্রতিষ্ঠানটি। ওই চিকিৎসক গত মে মাসে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। এরপরও তার স্বাক্ষরে প্যাথলজি রিপোর্ট দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া আরও কয়েকজন চিকিৎসকের স্বাক্ষর অগ্রিম করে রাখা হয়েছে। পরীক্ষা না করেই এসব চিকিৎসকের স্বাক্ষরে রিপোর্ট দেওয়া হয়। এটি খুবই বিপজ্জনক রোগীর জন্য। দুই কর্মচারীকে আটক করা হয়। তারা স্বীকার করেছেন দু-একটা পরীক্ষা করানো হলেও অসংখ্য রোগীর নমুনা নিয়ে পরীক্ষা না করিয়েই রিপোর্ট দেওয়া হতো। ঢাকার বাইরের বিভিন্ন জেলা থেকেও কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে রোগীর নমুনা এনে রিপোর্ট মেইলে পাঠিয়ে দেওয়া হতো।

সারওয়ার আলম জানান, ১০ বছর ধরে এ প্রতিষ্ঠান এভাবে জালিয়াতি করে আসছে। এই অপরাধে দুই কর্মচারীকে দুই বছরের কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে। মালিক আবদুল বারেক পলাতক আছেন।