তেলবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত

সিলেটের সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার সাতগাঁও রেলওয়ে স্টেশনের আউটার সিগন্যাল এলাকায় একটি তেলবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ায় সিলেট-ঢাকা ও সিলেট-চট্টগ্রাম রুটে রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। গতকাল শনিবার দুপুর ১২টার দিকে চট্টগ্রাম থেকে সিলেটে আসার পথে ইঞ্জিন ও ৬টি বগিসহ ট্রেনটি উল্টে যায়। স্থানীয়দের ভাষ্য, এ ঘটনায় বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল পড়ে যাওয়ায় তা সংগ্রহে ভিড় জমায় এলাকাবাসী। এ নিয়ে তেল সংগ্রহকারী ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ৫ জন আহত হন। তারা শ্রীমঙ্গল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

সাতগাঁও রেলওয়ের কর্তব্যরত স্টেশন মাস্টার মো. আব্দুর রহিম জানান, ৯৫১ নম্বর তেলবাহী ট্রেনটি সকালে আখাউড়া রেলওয়ে জংশন স্টেশন থেকে সিলেটের উদ্দেশে ছেড়ে আসে। দুপুর ১২টার দিকে সাতগাঁও রেলওয়ে স্টেশন আউটার সিগন্যাল এলাকায় পৌঁছালে ইঞ্জিন ও ৬টি বগিসহ ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয়।

শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার সাখাওয়াত হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘খবর পেয়ে আখাউড়া জংশন থেকে উদ্ধারকারী ট্রেন ঘটনাস্থল এসে পৌঁছায়। কখন নাগাদ ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হবে তা সঠিক জানা নেই।’ তবে গতকাল রাত ১০টা পর্যন্ত উদ্ধারের কাজ চলমান বলে এ প্রতিবেদককে জানান তিনি।

ভানুগাছ রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার সেলিম আহমেদ বলেন, রেললাইন স্বাভাবিক না হওয়ায় সন্ধ্যায় সিলেটের সঙ্গে সব চলাচলকৃত ট্রেনের যাত্রা বাতিল করে কর্র্তৃপক্ষ। সিলেটের উদ্দেশে আজ (শনিবার) কোনো ট্রেন ছাড়বে না। সেইসঙ্গে সিলেট থেকেও কোনো ট্রেন ছেড়ে যাবে না।

এদিকে ট্রেন লাইনচ্যুতের ঘটনায় পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। আগামী সাত দিনের মধ্যে ওই কমিটি তাদের রিপোর্ট জমা দেবে। রেলওয়ের বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা (ঢাকা) মঈনুল ইসলামের নেতৃত্বে কমিটিতে আছেন বিভাগীয় প্রকৌশলী (ঢাকা) সুলতান আলী, বিভাগীয় সংকেত ও টেলিযোগাযোগ প্রকৌশলী (ঢাকা) আবু হেনা, বিভাগীয় প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) রেজাউল করিম।

তদন্ত কমিটির প্রধান মঈনুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের ৭ দিনের সময় দেওয়া হয়েছে। তবে আমরা এর আগেই প্রতিবেদন জমা দিয়ে দেব।’ প্রতিবেদনটি তৈরিতে সহযোগিতা করেছেন মৌলভীবাজার, শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ প্রতিনিধি।