বুক বিল্ডিং পদ্ধতির নিলাম

উচ্চমূল্যে ইনডেক্স অ্যাগ্রোর শেয়ার কিনল মিউচুয়াল ফান্ড

বুক বিল্ডিং পদ্ধতির নিলামে উচ্চমূল্যে ইনডেক্স অ্যাগ্রো লিমিটেডের শেয়ার কিনে নিল বিভিন্ন মিউচুয়াল ফান্ড। যোগ্য বিনিয়োগকারীদের জন্য নির্ধারিত শেয়ার বরাদ্দ পেতে কোনো কোনো মিউচুয়াল ফান্ড ইনডেক্স অ্যাগ্রোর প্রতি শেয়ার ১০০ টাকায় কেনার প্রস্তাব দিয়েছে। উচ্চমূল্যের প্রস্তাবের কারণে যোগ্য বিনিয়োগকারীদের জন্য নির্ধারিত শেয়ারের ৫৭ শতাংশের বেশি বরাদ্দ পেয়েছে ৩৪টি মিউচুয়াল ফান্ড ও সম্পদ ব্যবস্থাপক প্রতিষ্ঠান। বুক বিল্ডিং পদ্ধতির নিলাম পর্যালোচনায় এমন তথ্য মিলেছে।

ইনডেক্স অ্যাগ্রোর শেয়ারের প্রান্তসীমা মূল্য (কাট-অফ প্রাইস) নির্ধারণে যোগ্য বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণে ইলেকট্রনিক সাবস্ক্রিপশন সিস্টেমে ১ থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত টানা ৭২ ঘণ্টার নিলাম অনুষ্ঠিত হয়। ওই নিলামে মোট ১৯১টি যোগ্য বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করে। তবে মিউচুয়াল ফান্ড, সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি কয়েকটি ব্রোকারেজ হাউজ ও মার্চেন্ট ব্যাংকের উচ্চ দরপ্রস্তাবের কারণে অন্য যোগ্য বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বরাদ্দ পাননি।

উচ্চ দরপ্রস্তাবকারী মিউচুয়াল ফান্ডগুলো ইনডেক্স অ্যাগ্রোর শেয়ার ৬২ থেকে সর্বোচ্চ ১০০ টাকায় কেনার প্রস্তাব দেয়। যোগ্য বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে নির্ধারিত পরিমাণের অর্থ সংগ্রহের জন্য নিলামে ইনডেক্সের শেয়ার ৬২ টাকায় এসে পূর্ণ হয়। ফলে বুক বিল্ডিং পদ্ধতির নিলামে ইনডেক্স অ্যাগ্রো লিমিটেডের কাট-অফ প্রাইস (প্রান্ত-সীমামূল্য) ৬২ টাকা নির্ধারিত হয়। নিলামে যোগ্য বিনিয়োগকারীদের জন্য ৩৮ লাখ ৯৩ হাজার ২৬৫টি শেয়ার বরাদ্দ করা হয়। উচ্চমূল্যে শেয়ার দর নির্ধারণ হওয়ায় এক কোটির কম শেয়ার ছেড়ে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে যাচ্ছে ইনডেক্স অ্যাগ্রো।

ইনডেক্স অ্যাগ্রো পুঁজিবাজার থেকে বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে ৫০ কোটি টাকা সংগ্রহ করবে। ১ নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া টানা ৭২ ঘণ্টার নিলামে যোগ্য বিনিয়োগকারীদের প্রস্তাবিত দরের ভিত্তিতে কোম্পানিটির কাট-অফ প্রাইস নির্ধারিত হয়। নিলামে কোম্পানিটির সর্বোচ্চ দর ওঠে ১০০ টাকা এবং সর্বনিম্ন ১১ টাকা। যদিও নিলামে সবচেয়ে বেশি অর্থাৎ ৫১ কোটি টাকার শেয়ার কেনার প্রস্তাব আসে ৪০ টাকা দরে। এ ছাড়া ৩৮ ও ৩৯ টাকায়ও শত কোটি টাকার শেয়ার কেনার প্রস্তাব দেন যোগ্য বিনিয়োগকারীরা। তবে এদের কেউই শেয়ার পাননি। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। এর আগে নিলামে অস্বাভাবিক দর প্রস্তাব করায় ওয়ালটন ও মীর আখতারে যোগ্য বিনিয়োগকারীদের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)।

পর্যালোচনায় দেখা গেছে, নিলামে অংশগ্রহণকারী প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের মধ্যে মোট ৫৮টি প্রতিষ্ঠান বুক বিল্ডিংয়ের নিলামে ইনডেক্স অ্যাগ্রোর শেয়ার বরাদ্দ পেয়েছে। এর মধ্যে ৩১টি মিউচুয়াল ফান্ড ও তিনটি সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান। নিলামে প্রতি শেয়ার ১০০ টাকায় সর্বোচ্চ দরপ্রস্তাবকারী পাঁচটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যার মধ্যে চারটিই মিউচুয়াল ফান্ড। এগুলো হলো বিসিবি আইসিএল গ্রোথ ফান্ড, এস্কোয়ার আইসিএল অ্যাপারেল ফান্ড, আইসিএল ব্যালেন্সড ফান্ড ও ইনসেপটা ফার্মাসিউটিক্যালস এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ড ফান্ড। এর বাইরে ইমপ্রেস ক্যাপিটাল লিমিটেডও ১০০ টাকা দরে ৫০ হাজার শেয়ার কেনার প্রস্তাব দিয়ে বরাদ্দ পেয়েছে।

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দরপ্রস্তাব দিয়েছে ডিএসই পরিচালক রকিবুর রহমানের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান মিডওয়ে সিকিউরিটিজ লিমিটেড। এই ব্রোকারেজ হাউজটি ৮১ টাকা দরে ইনডেক্স অ্যাগ্রোর ৬১ হাজার ৭০০ শেয়ার বরাদ্দ পেয়েছে।

মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর মধ্যে লংকাবাংলা, শান্তা, সিএপিএম (ক্যাপিটাল অ্যান্ড অ্যাসেট পোর্টফোলিও ম্যানেজমেন্ট) ও ইউএফএস সংশ্লিষ্ট বেমেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ড বুক বিল্ডিংয়ে অধিকাংশ শেয়ার বরাদ্দ পেয়েছে। এর মধ্যে লংকাবাংলা পরিচালিত পাঁচটি মিউচুয়াল ফান্ড ছাড়াও লংকাবাংলা ফাইন্যান্স, লংকাবাংলা সিকিউরিটিজ, লংকাবাংলা ইনভেস্টমেন্টস ও লংকাবাংলা অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি শেয়ার পেয়েছে, যারা সম্মিলিতভাবে ৬ লাখ ৫৫ হাজার ১০০ শেয়ার ৬৭ থেকে ৬৯ টাকায় পেয়েছে। এটি  যোগ্য বিনিয়োগকারীদের জন্য বরাদ্দ করা মোট শেয়ারের প্রায় ১৭ শতাংশ।

এ ছাড়া সিএপিএম কোম্পানি লিমিটেড ও এর পরিচালিত তিনটি মিউচুয়াল ফান্ড ৭৫ টাকা দরে ২ লাখ ৫৮ হাজার শেয়ার বরাদ্দ পেয়েছে। আর ইউএফএস পরিচালিত পাঁচটি মিউচুয়াল ফান্ড ৭২ টাকা দরে ৩ লাখ ৪৭ হাজার শেয়ার বরাদ্দ পেয়েছে।

ইনডেক্স অ্যাগ্রোর প্রসপেক্টাস পর্যালোচনায় দেখা যায়, কোম্পানিটির নিট মুনাফার হার তুলনামূলক কম। ২০১৯ সালের ৩০ জুন হিসাব বছরে ইনডেক্স অ্যাগ্রোর পণ্য বিক্রি থেকে আয় হয় ৪৩২ কোটি টাকা। এ সময় কর-পরবর্তী নিট মুনাফা হয় ২৭ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। এতে নিট মুনাফার হার দাঁড়ায় ৬ দশমিক ৪ শতাংশ। আগের বছরে এর নিট মুনাফার হার ছিল ৬ দশমিক ১ শতাংশ। অথচ একই সময়ে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত আমান ফিড লিমিটেডের নিট মুনাফার হার এই কোম্পানির তুলনায় বেশি ছিল। ২০১৮ সালের ৩০ জুন হিসাব বছরে আমান ফিড লিমিটেডের পণ্য বিক্রি থেকে আয় ছিল ৫২৮ কোটি টাকা। এ সময় কোম্পানিটির নিট মুনাফা হয় ৫৩ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। এ হিসেবে নিট মুনাফার অনুপাত দাঁড়ায় ১০ দশমিক ১৭ শতাংশ।

ইনডেক্স অ্যাগ্রোর পরিশোধিত মূলধন হচ্ছে ৩৯ কোটি টাকা। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে (ইপিএস) ৭ টাকা ৭ পয়সা। আর শেয়ারপ্রতি সম্পদ (এনএভিপিএস) রয়েছে ৪৫ টাকা ৩ পয়সা।