সাসটেইনেবল অ্যাপারেল সামিট

অংশীদারত্ব ছাড়া পোশাক শিল্পে টেকসই অর্জন সম্ভব না

দেশের পোশাক শিল্পে আগের চেয়ে বিস্ময়করভাবে উন্নয়ন হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের অনেক অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে। কিন্তু এ খাত সংশ্লিষ্ট সবার অংশীদারত্ব ছাড়া টেকসই অর্জন সম্ভব না। গতকাল রবিবার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘২য় সাসটেইনেবল অ্যাপারেল সামিট-২০২০’ শীর্ষক আলোচনায় বক্তারা এসব কথা বলেন। আলোচনায় পোশাক খাতের শ্রমিকদের স্বাস্থ্য, স্বাস্থ্যবীমা ও পুষ্টি নিশ্চিতে জোর দেন তারা।

নেদারল্যান্ডস সরকার, এসএনভি, ওয়ার্কিং উইথ ওমেন, জিএআইএন, স্ক্যালিং আপ নিউট্রেশন, বিজিএমইএ, ব্র্যাক, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র, ওয়েভ আওয়ার ফিউচার ফাউন্ডেশন, ওয়েবলিং ফর মার্কেটিং প্লাটফর্ম, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, আরএমজি সেন্টার ও ভ্যালো যৌথভাবে এই সামিটের আয়োজন করে। চার সেশনের ওই সম্মেলনে সংশ্লিষ্ট খাতের প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন।

সম্মেলনে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব কে এম আবদুস সালাম বলেন, ‘পোশাক খাত আমাদের অর্থনীতির হৃৎস্পন্দন। সরকার এটি বুঝতে পেরে এই সেক্টরের দিকে নজর দিয়েছে। কিন্তু সমস্যা হলো এ খাতের শ্রমিকরা বেশিরভাগ গ্রাম থেকে আসে। তারা স্বাস্থ্য বিষয়ে তেমন একটা সচেতন না। তাই তাদের সচেতন করা সবচেয়ে জরুরি। সরকার সব নাগরিকের সমান সুযোগ নিশ্চিতে বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে। আমরা শ্রমিকদের বিভিন্ন দাবির বিষয়ে সচেতন। একইসঙ্গে আমরা খেয়াল রেখেছি আমাদের উন্নয়নের চাকা যাতে ঘুরে। করোনায় শ্রমিকদের বিষয়ে আমাদের মানবিক হতে হবে।’

এসএনভি’র আরএমজি টিম লিডার ফারাহথিবা রাহাত খান বলেন, ‘শ্রমিকরা আর্থিকভাবে সচ্ছল না। তারা যেখানে বসবাস করে সেটিও অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর। তাদের বিভিন্ন বিষয়ে সংকোচ আছে, সেগুলো দূর করতে হবে। এজন্য তাদের কথা আমাদের শুনতে হবে। তাদের মোটিভেট করতে হবে। তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। মনে রাখতে হবে শ্রমিককে কেন্দ্র করেই সবকিছু চলছে।’

এসএনভি বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. অ্যালার্ট ভ্যান ডেন হাম বলেন, ‘শ্রমিক উন্নয়নে বাংলাদেশ অনেক প্রশংসনীয় অগ্রগতি এনেছে। ২০ হাজারের বেশি স্বাস্থ্যবীমা হয়েছে। এখন মালিক, ক্রেতা, সরকার, দাতা সবাই মিলে একটি যৌথ ওয়ার্কফ্রেম করতে হবে।’

আইএলও’র কান্ট্রি ডিরেক্টর মো পৌটিআইনেন বলেন, ‘গত ৫ বছরে পোশাক খাতে শ্রমিকদের বিস্ময়কর উন্নয়ন হয়েছে। কিন্তু করোনাকালে প্রায় ১০ লাখ শ্রমিক চাকরি হারিয়েছে। এখন তাদের জন্য হেলথ কেয়ার করতে হবে। সমন্বিতভাবে শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কাজ করতে হবে। তাদের ফেয়ারলি ওয়ার্কিং ব্যবস্থা হয় সেই ব্যবস্থা করতে হবে।’

বিজিএমইএ সহসভাপতি মো. মশিউল আজম বলেন, ‘করোনায় পোশাক খাত বড় একটা ধাক্কা খেয়েছে। গত ৭ বছরে এই খাতে অনেক বিনিয়োগ হলেও পণ্যের দাম বাড়েনি। বর্তমানে ১২০টি গ্রিন কারখানা চালু আছে। আরও অনেকগুলো পাইপলাইনে। সবকিছুর জন্য প্রয়োজন টাকা। সাসটেইনেবল বিনামূল্যে আসে না। এগুলো ক্রেতাদের মনে রাখতে হবে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব হেলথ ইকোনমিক বিভাগের পরিচালক ড. নাসরিন সুলতানা বলেন, ‘গবেষণায় দেখা গেছে অসুস্থতার জন্য মাসে ২ দিন শ্রমিকরা অনুপস্থিত থাকেন। বাৎসরিক অনুপস্থিতির হার ৭ দশমিক ৩ শতাংশ। ১৫ শতাংশ শ্রমিক অসুস্থ হলেও অবহেলা বা অর্থের অভাবে কোনো চিকিৎসা নেন না। প্রতি মাসে অনুপস্থিতির কারণে কারখানার মাসে লোকসান হয় ৫৬০ টাকা। টেকসই স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পারলে সবাই লাভবান হবেন।

জিআইএন বাংলাদেশের কান্ট্রি কো-অর্ডিনেটর সৈয়দ মুনতাসীর রিদওয়ান বলেন, নিউট্রেশনে খুব বেশি যে খরচ বিষয়টি তেমন না। আমাদের দেশে যেসব ফল-ফ্রুট হয় সেগুলোর সুষম ব্যবহার করলেই এটা পূরণ হবে। কেবল প্রয়োজন এগুলো ন্যায্যমূল্যে শ্রমিকদের কাছে সরবরাহের ব্যবস্থা করা। এটা একটা ব্যবসায়িক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে করতে হবে। এজন্য হয়তো প্রাথমিক পর্যায়ে কিছু খরচ হবে। কিন্তু এতে খুব সহজেই সবার পুষ্টি নিশ্চিত করা যাবে।