বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) এয়ার উইংয়ের হেলিকপ্টার উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল রবিবার প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বিজিবি সদর দপ্তর পিলখানার বীর উত্তম আনোয়ার হোসেন প্যারেড গ্রাউন্ডে রাশিয়া থেকে কেনা দুটি অত্যাধুনিক এমআই-১৭১-ই হেলিকপ্টার উদ্বোধন করেন।
বিডিআর বিদ্রোহের দিকে ইঙ্গিত করে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনা অনাকাক্সিক্ষত। এ ধরনের ঘটনা যেন আর ঘটতে না পারে সে জন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। এ ধরনের ঘটনা আর ঘটুক তা আমি চাই না। কারণ এ ঘটনায় যারা জড়িত তারা নিজেদের, বাহিনীর এবং দেশের ক্ষতি সাধন করেছে।’ বিডিআর বিদ্রোহে নিহতদের রুহের মাগফিরাতও কামনা করেন তিনি।
বক্তব্যের শুরুতে শেখ হাসিনা জাতির পিতা এবং পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট শাহাদাতবরণকারী পরিবারের সদস্য এবং জাতীয় চার নেতাসহ মুক্তিযুদ্ধে আত্মাহুতিদানকারী বিজিবি সদস্যদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা দেশব্যাপী ছড়িয়ে দিতে গিয়ে আত্মাহুতিদানকারী তৎকালীন ইপিআর সদস্যদেরও স্মরণ করেন তিনি।
গতকাল সকাল সাড়ে ১০টায় বিজিবির সুসজ্জিত চৌকস দলের প্রধানমন্ত্রীকে রাষ্ট্রীয় সালাম প্রদানের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। অনুষ্ঠানে বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. সাফিনুল ইসলাম স্বাগত বক্তব্য দেন। বিজিবি নির্মিত ‘ত্রিমাত্রিক সক্ষমতা অর্জনে বিজিবি’ শীর্ষক একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান এবং জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মোস্তাফা কামাল উদ্দীন বক্তব্য দেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশ সরকার কর্র্তৃক বিজিবিকে একটি বিশ^মানের আধুনিক সীমান্তরক্ষী বাহিনী হিসেবে রূপান্তরের নিমিত্তে ‘বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ ভিশন ২০৪১’-এর পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৬ সালের মে মাসে বিজিবি এয়ার উইংয়ের কার্যক্রম শুরু হয় এবং ২০২০ সালের জানুয়ারি মাসে বিজিবির জন্য রুশ প্রজাতন্ত্র থেকে দুটি অত্যাধুনিক এমআই-১৭১-ই হেলিকপ্টার ক্রয় করা হয়।’
তিনি বলেন, ‘আজ (রবিবার) থেকে বিজিবি দেশমাতৃকার সীমান্ত এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি অর্পিত দায়িত্ব পালনের নিমিত্তে জলে, স্থলে ও আকাশপথে বিচরণ করবে। এটি শুধু বিজিবির উন্নতি নয়, এটি দেশবাসীর জন্যও অত্যন্ত গৌরবের। ‘বিজিবি এয়ার উইং’য়ের এই যাত্রা বিজিবির সার্বিক কর্মকাণ্ডকে আরও গতিশীল করবে।’
বিজিবির বহরে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ১২টি হাইস্পিড বোট ও দুটি পন্টুন সংযুক্ত করা হয়েছে উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, ‘বিজিবির জন্য অত্যাধুনিক দুটি ফাস্ট ক্রাফট, সমুদ্রগামী সাতটি অত্যাধুনিক হাইস্পিড বোট, দুটি মেরিনা ও দুটি ট্রেইলার ক্রয় প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এ দেশের গরিব, দুঃখী ও মেহনতি মানুষের মুখে হাসি ফুটিয়ে একটি সুখী, সমৃদ্ধিশালী বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন। জাতির জনকের স্বপ্ন পূরণে বিজিবি তার ঐতিহ্য সমুন্নত রেখে সামনের দিকে এগিয়ে যাবে এবং একদিন বিশ্বের শ্রেষ্ঠতম সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মর্যাদা লাভ করবে।’ পরে তিনি বিজিবি এয়ার উইংয়ের দুটি হেলিকপ্টার ‘বীরশ্রেষ্ঠ নুর মোহাম্মদ’ ও ‘বীরশ্রেষ্ঠ আব্দুর রউফ’-এর উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিজিবি সদর দপ্তর পিলখানায় বীর উত্তম আনোয়ার হোসেন প্যারেড গ্রাউন্ডে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মোস্তাফা কামাল উদ্দীন, বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. সাফিনুল ইসলামসহ বিজিবির সর্বস্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারী, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া অনলাইনে জনসাধারণের উপভোগের জন্য অনুষ্ঠানটি জাতীয় সম্প্রচারমাধ্যমে সম্প্রচার করা হয়।