সতর্ক করল এফআরসি

অ্যাডভেন্ট ফার্মার নিরীক্ষক নিয়োগ অবৈধ

আইন লঙ্ঘন করে বহিঃনিরীক্ষক নিয়োগ দিয়েছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত অ্যাডভেন্ট ফার্মা লিমিটেড। অডিট কমিটির সুপারিশ ও সাধারণ সভার অনুমোদন ছাড়াই ২০১৮-১৯ হিসাব বছরের আর্থিক বিবরণীর জন্য কোম্পানির নিয়োগ করা নিরীক্ষক অবৈধ বলে মনে করছে ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল (এফআরসি)। সম্প্রতি অ্যাডভেন্ট ফার্মাকে এ ধরনের কার্যক্রমের জন্য কঠোরভাবে সতর্ক করেছে এফআরসি।

অ্যাডভেন্ট ফার্মা একাদশ বার্ষিক সাধারণ সভার (এজিএম) সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কে এম হাসান অ্যান্ড কোম্পানিকে ২০১৮-১৯ হিসাব বছরের বহিঃনিরীক্ষক হিসেবে নিয়োগের অনুমোদন দেয়। কিন্তু কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, বহিঃনিরীক্ষক হিসেবে অন্য একটি নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান (আহমেদ জাকের অ্যান্ড কোং) নিরীক্ষা প্রতিবেদনে স্বাক্ষর করেন। অডিট কমিটির সুপারিশ ছাড়াই কোম্পানিটি শুধু পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন নিয়ে নতুন করে নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দিয়েছে। এ ছাড়া নতুন বহিঃনিরীক্ষক নিয়োগের বিষয়টি সাধারণ সভা থেকেও অনুমোদন নেওয়া হয়নি। এতে এফআরসি মনে করছে, ২০১৮-১৯ হিসাব বছরের আর্থিক বিবরণী প্রত্যয়নকারী বহিঃনিরীক্ষক আহমেদ জাকের অ্যান্ড কোম্পানির অ্যাডভেন্ট ফার্মার বোর্ড কর্তৃক নিয়োগ বৈধ ছিল না।  

নিরীক্ষক নিয়োগে অনিয়মের বিষয়ে অ্যাডভেন্ট ফার্মা এফআরসিকে দেওয়া ব্যাখ্যায় জানিয়েছে, ২০১৮ সালের ৬ ডিসেম্বর ১১তম বার্ষিক সাধারণ সভায় ২০১৮-১৯ হিসাব বছরের জন্য কোম্পানির বহিঃনিরীক্ষক হিসেবে কে এম হাসান অ্যান্ড কোম্পানিকে নিয়োগ দেওয়া হলেও অনিবার্য কারণবশত তারা নিরীক্ষা সম্পন্ন করতে সম্মত হয়নি এবং এ কাজ থেকে ইস্তফা দেয়। পরে ২০১৯ সালের ২৪ মার্চ কোম্পানির বোর্ড সভায় নতুন বহিঃনিরীক্ষক হিসেবে আহমেদ জাকের অ্যান্ড কোম্পানিকে ২০১৮-১৯ হিসাব বছরের জন্য নিয়োগ অনুমোদন করা হয়। এটি বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) ২০১৮ সালের করপোরেট সুশাসন কোডের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

এসইসির করপোরেট সুশাসন কোড অনুযায়ী, কোম্পানির অডিট কমিটিকে যাচাই-বাছাই করে বহিঃনিরীক্ষক নিয়োগের জন্য সুপারিশ করতে হবে এবং সেই সুপারিশের ভিত্তিতে বোর্ড পরবর্তী সময়ে করণীয় নির্ধারণ করবে। কিন্তু অ্যাডভেন্ট ফার্মার বহিঃনিরীক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে এসইসির করপোরেট সুশাসন কোডের ব্যত্যয় হয়েছে। অডিট কমিটি যাচাই-বাছাই করার আগেই কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ নিয়মবহির্ভূতভাবে আহমেদ জাকের অ্যান্ড কোম্পানিকে পদত্যাগকারী বহিঃনিরীক্ষকের জায়গায় নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা পর্ষদের ক্ষমতাবহির্ভূত। এ ক্ষেত্রে কোম্পানি আইনও লঙ্ঘন করা হয়েছে।

কোম্পানি আইনের ২১০ ধারা অনুযায়ী, বহিঃনিরীক্ষকের কোনো পদ সাময়িকভাবে শূন্য হলে পর্ষদ তা পূরণ করতে পারবে এবং পদটি শূন্য থাকাকালে অন্য বহিঃনিরীক্ষক কেউ থাকলে কাজ চালিয়ে নিতে পারবে। তবে শর্ত থাকে যে ওই শূন্যতা কোনো নিরীক্ষকের কারণে ঘটে থাকলে শুধু কোম্পানির সাধারণ সভায় ওই শূন্য পদ পূরণ করা যাবে। তাই বহিঃনিরীক্ষক নিয়োগে কোম্পানির সাধারণ সভায় অনুমোদন না নেওয়ায় অ্যাডভেন্ট ফার্মার ২০১৮-১৯ হিসাব বছরের আর্থিক বিবরণী প্রত্যয়নকারী হিসেবে আহমেদ জাকের অ্যান্ড কোম্পানির বোর্ড কর্তৃক নিয়োগ বৈধ ছিল না বলে মনে করছে এফআরসি। এভাবে বহিঃনিরীক্ষক নিয়োগ ও নিরীক্ষা কাজ করায় অ্যাডভেন্ট ফার্মার পর্ষদের স্বচ্ছতা ও পূর্ণ পেশাদারত্বের অভাব থাকায় সম্প্রতি কঠোরভাবে সতর্ক করে এফআরসি।