লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারীতে আবু ইউনুছ মোহাম্মদ সহীদুন্নবী জুয়েলকে (৫০) পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় আরও একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় দায়ের করা তিনটি মামলায় মোট ৩২ জনকে গ্রেপ্তার করা হলো। সোমবার রাতে গ্রেপ্তার ব্যক্তি হলেন আফিনুর রহমান (২৩)। তিনি উপজেলার বুড়িমারী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের নামাজিপাড়ার বাসিন্দা।
মঙ্গলবার বিকেলে তাকে লালমনিরহাট আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন, জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের পরিদর্শক মাহমুদুন্নবী।
এদিকে লালমনিরহাট জেলা প্রশাসন থেকে গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্যদের মঙ্গলবার প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা থাকলেও তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেননি। এ বিষয়ে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় যোগাযোগ করা হলে লালমনিরহাটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও তদন্ত কমিটির প্রধান টিএমএ মমিম দেশ রূপান্তরকে বলেন, সামান্য কিছু কাজ বাকি থাকায় তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়নি। বুধবার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, গত ২৯ অক্টোবর লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী কেন্দ্রীয় বাজার জামে মসজিদে ‘কোরআন অবমাননার’ গুজব ছড়িয়ে জুয়েল ও তার সঙ্গী একই এলাকার সুলতান রুবায়াত সুমনকে গণপিটুনি দিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে আটকিয়ে রাখেন স্থানীয়রা। পরে সন্ধ্যায় ইউপি ভবন ভেঙে প্রশাসনের উপস্থিতিতে জুয়েলকে পিটিয়ে হত্যা করে মরদেহ আগুনে পুড়িয়ে দেয় উত্তেজিত জনতা।
এ সময় পাথরের আঘাতে পাটগ্রাম থানার ওসি সুমন কুমার মহন্তসহ ১০ পুলিশ সদস্য আহত হন। পুলিশ জুয়েলের সঙ্গী রুবায়াত সুমনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।
এ ঘটনায় নিহত জুয়েলের চাচাতো ভাই সাইফুল আলম, পাটগ্রাম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শাহজাহান আলী ও বুড়িমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু সাঈদ নেওয়াজ নিশাত বাদি হয়ে পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করেন। ৩টি মামলাই জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ তদন্ত করছে ।