মেয়েদের আইপিএল খ্যাত উইমেন্স টি-টোয়েন্টি চ্যালেঞ্জের ফাইনালে সোমবার সুপারনোভাসকে ১৬ রানে হারিয়ে প্রথম শিরোপা জিতেছে ট্রেইলব্লেজার্স। শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আগে ব্যাট করে ১১৮ রান তুলেছিল স্মৃতি-সালমারা। জবাবে ১০২ রানে আটকে যায় প্রথম দুই আসরের চ্যাম্পিয়ন সুপারনোভাস। চার ওভারে ১৮ রানে ৩ উইকেট নিয়ে জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক সালমা খাতুন।
ফাইনালে সালমার বোলিং নৈপুণ্যে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ট্রেইলব্লেজার্স। শেষ দুই ওভারে সুপারনোভাসের দরকার ছিল ২৮ রান। সালমা ১৯তম ওভারে ৪ রান দিয়ে দুই উইকেট নেন। অধিনায়ক স্মৃতি মান্ধানা সালমার বোলিংয়ের প্রশংসা করেছেন, ‘সালমা ছিল দুর্দান্ত। ওইরকম স্পেলই ম্যাচ জেতায়। অভিজ্ঞ ক্রিকেটার সে। আমি কেবল তাকে বলেছি, নিজের ওপর বিশ্বাস রাখতে এবং সে প্রতিদান দিয়েছে। তার স্পেলগুলো ছিল ম্যাচজয়ী।’
আর সালমার অনুভূতি, ‘বাংলাদেশ থেকে খেলতে এসেছি। দলও চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। এতে আমি খুশি। তবে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি, দেশের সম্মান রাখতে পেরেছি। ভবিষ্যতে আরও ভালো খেলতে পারব ইনশাল্লাহ।’ পরিস্থিতির সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার কারণেই সফল হতে পেরেছেন বলে মনে করেন সালমা, ‘প্রথমবার আইপিএল খেলার অভিজ্ঞা অন্যরকম। তবে তা উপভোগ্য। করোনার কারণে দেশে এবং দুবাইয়ে প্রায় চারবার করোনা টেস্ট করাতে হয়েছে। দুবাই এসে একটানা ছয় দিন কোয়ারেন্টাইনে আবদ্ধ থাকতে হয়েছে। দলে যারা ভারতীয় খেলোয়াড় ছিল, তাদের আগে থেকেই চিনতাম। কিন্তু একসঙ্গে আইপিএল (টি-টোয়েন্টি চ্যালেঞ্জার্স) খেলব, এই বিষয়ে কারও সঙ্গে কথা হয়নি। মাত্র চারজন আমরা বাইরে থেকে খেলতে গিয়েছি। সবার সঙ্গে খুব আন্তরিক সম্পর্ক হয়েছে। সবাই আমাকে বাংলাদেশি খেলোয়াড় হিসেবে বেশ সম্মান করেছে। ড্রেসিং রুমে সতীর্থরাও অনেক সাহায্য করেছে। সবাই সবাইকে সাহায্য করেছি। এছাড়া দলের ম্যানেজার, কোচ, ট্রেইনার, ফিজিও সবার কাছ থেকে অনেক ভালো ব্যবহার পেয়েছি। যার ফলে দলের সমন্বয় ভালো হয়েছে। এখানে এসে স্মৃতি মান্ধানার সঙ্গে অনেক ভালো সম্পর্ক হয়েছে।’ পরের মৌসুমে উইমেন্স টি-টোয়েন্টি চ্যালেঞ্জার্সে বাংলাদেশি নারী ক্রিকেটারদের অংশগ্রহণ বাড়বে বলে মনে করেন সালমা, ‘উইমেন্স টি-টোয়েন্টি চ্যালেঞ্জে খেলার মতো বাংলাদেশে আরও অনেক ক্রিকেটার আছেন। যেহেতু দল মাত্র তিনটি। দল বাড়লে আশা করি বাংলাদেশ থেকে আরও দুই-তিনজন খেলোয়াড় ডাক পাবে। এখানে আমার ও জাহানারার অংশগ্রহণ দেশে মেয়েদের আরও উজ্জীবিত করবে ভালো ক্রিকেট খেলার জন্য। সেই সঙ্গে আমাদের অভিজ্ঞতা নতুনদের অনুপ্রাণিত করবে ফিটনেস ধরে রেখে ভালো ক্রিকেট খেলতে।’