মাতারবাড়ী কয়লানির্ভর বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের সংযোগ সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ২০১৫ সালে। অনুমোদনকালে ব্যয় ধরা হয়েছিল ৬০২ কোটি টাকা। ইতিমধ্যে প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু প্রায় সাড়ে ৫ বছর পার হয়ে গেলেও প্রকল্পে বাস্তবায়ন সন্তেুাষজনক অগ্রগতি হয়নি। এখন নতুন করে প্রকল্পের বাড়তি ২৯৭ কোটি টাকা চায় সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তর। এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাবের ওপর আগামী ২৩ নভেম্বর প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় নোটিস থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তরের প্রস্তাবনা থেকে জানা গেছে, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ স্থাপনের জন্য প্রস্তাবিত সংযোগ সড়কটি হাতে নেওয়া হয়। ৬০২ কোটি ৩২ টাকা ব্যয়ে ২০১৫ সালের জুলাই থেকে চলতি বছরের জুন মেয়াদে বাস্তবায়নের কথা ছিল। এর মধ্যে জাপানের উন্নয়ন সংস্থা জাইকা ৫০৪ কোটি ৭১ লাখ টাকা দেওয়ার কথা ছিল। পরে প্রকল্পটির কিছু অঙ্গের (কম্পোনেন্ট) পরিমাণ ও ব্যয় বৃদ্ধির কারণে ব্যয় বাড়ানো হয়। এতে মোট ব্যয় দাঁড়ায় ৬৫৯ কোটি ৯৭ টাকা।
নতুন করে প্রকল্পের আরও কিছু নতুন অঙ্গের অন্তর্ভুক্ত করে আবারও ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে। নতুন অঙ্গের মধ্যে সেতুর দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি, সড়ক এলাইনমেন্ট পরিবর্তনসহ সংশ্লিষ্ট কিছু কর্মকা- যুক্ত করা হয়েছে। এর মেয়াদ ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানোর আবদারও করে প্রকল্পের ২য় সংশোধিত প্রকল্প প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে প্রেরণ করা হয়েছে। নতুন সংশোধনীতে প্রকল্পের ব্যয় বাড়িয়ে ৯৫৭ কোটি ২৮ লাখ টাকা করার কথা বলা হয়েছে। এতে জাপানের ঋণ হিসেবে ৭২৫ কোটি ১৪ লাখ টাকা পাওয়া যাবে বলা বলা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য মো. মামুন আল রশীদ বলেন, প্রকল্পের প্রস্তাবনার ওপর কিছু বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হবে। পিইসি সভায় এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের অক্টোবর পর্যন্ত প্রকল্পটির ক্রমপুঞ্জিত আর্থিক অগ্রগতি ২১৮ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে জিওবি ৭৮ কোটি ও প্রকল্প ঋণ ১৪০ কোটি টাকা, যা মোট ব্যয়ের ৩৩.১১ শতাংশ। প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি ৩২.১৬ শতাংশ।
প্রকল্প সংশোধনের কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, প্রকল্পের ডিজাইন ও সুপারভিশন পরামর্শকের সংখ্যা বাড়াতে হবে, এ খাতে ২০ কোটি ২২ লাখ টাকা, যানবাহন সংগ্রহ (জিপ) খাতে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা, ডাবল কেবিন পিকআপের জন্য ৬০ লাখ টাকা বাড়াতে হবে। অন্যদিকে স্পিডবোট কিনতে ১ কোটি ২০ লাখ টাকা ফেরত দেওয়া হবে। এ ছাড়া পুনর্বাসন এবং ক্ষতিপূরণ খাতে ৫ কোটি টাকা হ্রাস পাবে, ২০.৫৫ কিলোমিটার সড়ক মেরামত অঙ্গটি বাদ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে, এ খাতে ৪৬ কোটি ৬৮ লাখ টাকা কমবে। সড়ক পুনর্বাসন খাতে ৯.৩৬ কিলোমিটার সড়ক হ্রাস পাবে, তবে এ খাতে ৩ কোটি ১৮ লাখ টাকা ব্যয় বৃদ্ধি পাবে। অন্যদিকে সড়ক নির্মাণ খাতে ১.৮৩ কিলোমিটার সড়ক হ্রাস পাবে, তবে এ খাতে ১১৮৭৫.৮৪ লাখ টাকা বৃদ্ধি পাবে।
বড় ব্রিজ নির্মাণ অঙ্গে ১২২ মিটার বৃদ্ধি পাওয়ায় ২৮ কোটি ১৭ লাখ টাকা, কালভার্ট (নতুন) নির্মাণ অঙ্গে ৪৭.৩০ মিটার বৃদ্ধি পাওয়ায় ১৬ কোটি ৪০ লাখ টাকা, জেটি নির্মাণ খাতে ১ কোটি ৫৭ লাখ টাকা, গার্ড রেইল, সাইন, সিগন্যাল, অন্যান্য নিরাপদ অঙ্গে ১ কোটি ৪৪ লাখ টাকা এবং বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধ নির্মাণ বাবদ ৯ কোটি টাকা ব্যয় বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে।
পরিকল্পনা কমিশন বলছে, প্রকল্পের মেয়াদ ৫ বছর ৩ মাস অতিবাহিত হওয়ার পরও সামগ্রিক অগ্রগতি সন্তোষজনক নয়। প্রকল্পে ৬৪০ মিটার দৈর্ঘ্যে বড় সেতুর পরিমাণ বৃদ্ধি করে ৭৬২ মিটার দৈর্ঘ্যরে সেতু প্রস্তাব করা হয়েছে। এর ফলে এ অঙ্গে ২৮ কোটি ১৭ লাখ টাকা ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। এ ছাড়া ৭০.০২ মিটার দৈর্ঘ্যরে আরসিসি গার্ডার সেতু নতুনভাবে অন্তর্ভুক্তির ফলে ৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা বাড়তি ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে, যার ব্যাখ্যা প্রয়োজন। এভাবে নতুন আরসিসি গার্ডার সেতু নির্মাণের বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোনো অবজারভেশন আছে কি-না সে বিষয়ে সভায় আলোচনা করা হবে। প্রস্তাবিত সংশোধিত ডিপিপিতে নতুন অঙ্গ হিসেবে ৪৭.৩০ মিটার কালভার্ট, রেগুলেটর ১৮.৩০ মিটার, আরসিসি ড্রেন ১৮৩৭ মিটার বাবদ যথাক্রমে ১৬ কোটি ৪০ লাখ, ১৯ কোটি ৬০ লাখ টাকা ও ১৩ কোটি ২৯ লাখ টাকা ব্যয় চাওয়া হয়েছে। নতুন অঙ্গ সংযোজনের যৌক্তিকতা ও যৌক্তিক ব্যয় নির্ধারণের বিষয়ে সভায় আলোচনা করা হবে। সংশোধিত প্যাকেজে ২টি সøুইস গেট, ৩টি আরসিসি গার্ডার ব্রিজ, ৩টি ওয়াটার ইনলেট প্রভৃতি অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা আছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সড়ক পথে পূর্বে এ ধরনের ব্যবস্থা ছিল কি-না বা বিশদ কর্মপরিকল্পনায় এ বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত আছে কি-না সে বিষয়ে আলোচনা প্রয়োজন।
নতুন অন্তর্ভুক্ত অঙ্গ হিসেবে সিকিউরিটি সার্ভিস চার্জ খাতে ৭২ লাখ টাকা রাখা হয়েছে। কতজনকে কী হারে এবং নিয়োগ পদ্ধতি কী হবে সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। অভ্যন্তরীণ ভ্রমণ ব্যয় এবং অভ্যন্তরীণ বদলি ব্যয় ২৮ লাখ টাকা এবং ৩ লাখ টাকা থোক বরাদ্দ রাখা হয়েছে। নতুন এ দুটি খাতে বরাদ্দ রাখার প্রয়োজন হয় সে বিষয়ে সভায় আলোচনা করা হবে।