গল্পপ্রধান সিনেমায় মূলধারার তারকারা

হলিউডে বহু বছর ধরে গল্পনির্ভর আর অ্যাকশন-এনিমেশন ছবি হাত ধরাধরি করে এগিয়ে চলেছে। তবে বলিউড ও ঢালিউডে একাধিপত্য বাণিজ্যিক ঘরানার সিনেমার। প্রযোজকরাও বাণিজ্যিক সিনেমাতেই লগ্নি করতে আগ্রহী। বাণিজ্যিক ঘরানার সিনেমা থেকেই উঠে আসতেন বড় বড় তারকারা। তারকাদের নামেই সিনেমা চলত অনেকাংশে। কিন্তু এখন সময় বদলেছে। এখন সব জায়গাতেই ভাল কনটেন্টের কদর। তারকাখ্যাতি আস্তে আস্তে ফিকে হচ্ছে, শক্তিশালী হচ্ছে গল্পের আবেদন। তাইতো বলিউডের মতো আমাদের দেশের বাণিজ্যিক ঘরানার তারকারাও আস্তে আস্তে গল্পপ্রধান সিনেমার প্রতি আগ্রহী হচ্ছেন। বাণিজ্যিক ঘরানার কয়েকজন তারকা প্রথমবারের মতো গল্পপ্রধান সিনেমায় নাম লিখিয়েছেন।

এক সময়ের ঢালিউডের বক্স অফিস কুইনখ্যাত নায়িকা অপু বিশ্বাস ক্যারিয়ারে মোট ৮০টির মতো সিনেমায় অভিনয় করেছেন। তার প্রতিটি সিনেমাই বাণিজ্যিক ঘরানার। এই প্রথম সরকারি অনুদানের সিনেমায় কাজ করছেন তিনি। নাম ‘ছায়াবৃক্ষ’। সিনেমাটি গল্পপ্রধান। এতে থাকবে না গ্ল্যামারের ছটা, নাচানাচি বা মারামারি। ‘ছায়াবৃক্ষে’ অপুর নায়ক নিরব হোসেন। তিনিও বাণিজ্যিক সিনেমার জন্য পরিচিতি পেয়েছেন। তবে ইদানীং তার সিনেমা নির্বাচনেও পরিবর্তন এসেছে। তিনি এখন ‘ক্যাসিনো’র মতো বাণিজ্যিক সিনেমা যেমন করছেন তেমনি গল্পপ্রধান ‘ছায়াবৃক্ষ’ বা ‘তিতুমীর’-এও কাজ করছেন। ইতিমধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় এ সিনেমায় নিরব ও অপুর লুক ভাইরাল হয়েছে। অনেকে তো তাদের চিনতেই পারছেন না। এতে চা বাগানের কর্মীর ভূমিকায় দেখা যাবে অপু বিশ^াসকে। তিনি বলেন, ‘আমি কোনো সিনেমাকেই ছোট করে দেখি না। যে ধরনের কাজের সুযোগ আসে সেটাকেই গুরুত্বের সঙ্গে করতে চাই। আগে যখন সো কলড বাণিজ্যিক সিনেমা করেছি তখনো চেষ্টা করেছি গল্পের চরিত্র অনুযায়ী অভিনয়ের। তবে গল্পপ্রধান চরিত্রে কাজের ক্ষেত্রে আলাদা প্রস্তুতির দরকার হয়। আমি সেই প্রস্তুতি নিয়েই ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়েছি। চরিত্রের জন্য অনেকটাই ওজন কমিয়েছি। মেকাপের বদলে বরং আমার মেক ডাউন করা হয়েছে। আশা করছি নতুন ধরনের এ সিনেমায়ও দর্শক আমাকে সাদরে গ্রহণ করবেন।’

নিরব বলেন, ‘গল্পপ্রধান সিনেমার ক্ষেত্রে চরিত্র নিয়ে অনেক ভাবতে হয়। এই প্রথমবার আমাকে আর অপু বিশ^াসকে গ্ল্যামারবিহীন চরিত্রে দেখা যাবে। মেকাপ, চুল, কস্টিউম, সহশিল্পী, কাজের পরিবেশ- সব মিলিয়ে অন্যরকম অভিজ্ঞতা। নিজেকে যখন আয়নায় দেখছি, নিজেই চিনতে পারছি না।’ তিনি আরও বলেন, ‘নতুন লুকে নতুন ধারার সিনেমায় আসছি, তবে আমার টেনশন হচ্ছে না। গল্পটিই এমন, তাই দর্শক নতুন নিরবকে খুঁজে পাবেন।’

জনপ্রিয় চিননায়িকা নুসরাত ফারিয়াকেও এবার গল্পপ্রধান সিনেমায় দেখা যাবে। নূর ইমরান মিঠুর পরিচালনায় ‘পাতালঘর’ সিনেমার শ্যুটিং এরইমধ্যে শেষ করেছেন তিনি। ফারিয়া বলেন, ‘কোনো তালিম ছাড়াই সিনেমায় এসেছিলাম। তাই অভিনয় কী সেটা বুঝতেই অনেক সময় লেগেছে। কিন্তু এখন সিনেমা বা অভিনয় নিয়ে আমার চিন্তায় অনেক পরিবর্তন এসেছে। ভবিষ্যতে এমন কিছু সিনেমা করতে চাই যা আমাকে ভালো অভিনেত্রী হিসেবে মানুষের মনে বাঁচিয়ে রাখবে।’

আরেক জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি অ্যাকশন, রোমান্টিক ও ড্রামাটিক সিনেমায় নিজেকে অনেকবার প্রমাণ করেছেন। কিন্তু একেবারেই গ্ল্যামারহীন লুকে তার যাত্রা শুরু হয় লকডাউনের মধ্যেই। রায়হান রাফির স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘অক্সিজেন’-এ তাকে ভালো অভিনেত্রী হিসেবে আবিষ্কার করেছেন দর্শক। সামনেও তাকে একাধিক গল্পপ্রধান সিনেমাতে দেখা যাবে বাণিজ্যিক সিনেমার পাশাপাশি। তিনি বলেন, ‘আমি পরিচালকনির্ভর আর্টিস্ট। পরিচালক যেভাবে চান আমি সেভাবেই অভিনয় করি। তবে গল্পপ্রধান চরিত্রে কাজ করতে আলাদা ভালোলাগা কাজ করে। দিনশেষে সবাই চায় তার কাজ যেন মানুষের মনে দাগ কাটে। এ ধরনের সিনেমায় সেই সুযোগটা বেশি।’

গ্ল্যামারাস চিত্রনায়িকা পরীমনিকে কেউ একসময় গল্পপ্রধান সিনেমায় ভাবতেই পারত না। কিন্তু গিয়াসউদ্দিন সেলিমের ‘স্বপ্নজাল’ করার পর তার কাজের ধরনে যে পরিবর্তন এসেছে সে কথা অনেকেই জানেন। এরপর থেকে তাকে ‘অ্যাডভেঞ্চার অব সুন্দরবন’, ‘পাফ ড্যাডি’সহ কয়েকটি গল্পনির্ভর কাজে যুক্ত হতে দেখা গেছে।

জনপ্রিয় চিত্রনায়ক বাপ্পী চৌধুরীও সম্প্রতি এ ধরনের সিনেমায় যুক্ত হয়েছেন। শ্যুটিং করেছেন আশরাফ শিশিরের ‘৫৭০’ সিনেমায়। এটি একটি ঐতিহাসিক ছবি।

‘পোড়ামন ২’, ‘নূরজাহান’, ‘দহন’-এর মতো বাণিজ্যিক সিনেমায় নিজেকে প্রমাণ করেছেন পূজা চেরী। তবে এই প্রথম সাহিত্যনির্ভর সিনেমা ‘হৃদিতা’য় নাম ভূমিকায় কাজ করছেন তিনি।