মাস্ক পরা বাধ্য করতে কঠোর হচ্ছে পুলিশ

নভেল করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট কভিড-১৯ রোগের দ্বিতীয় ঢেউ প্রতিরোধ করতে নড়েচড়ে বসেছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো। গত ২৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘নো মাস্ক নো সার্ভিস’ করার ঘোষণা দেওয়া হয়। তারই প্রেক্ষিতে কঠোর হচ্ছে পুলিশ। রাস্তাঘাট, অফিস-আদালত ও ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানে বাধ্যতামূলক মাস্ক পরানোর জন্য ঢাকাসহ সারা দেশে অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। যারা মাস্ক না পরে বাসার বাইরে বের হবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অ্যাকশনে যাবে পুলিশ। তাৎক্ষণিক ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা দেওয়া হবে। ইতিমধ্যে খুলনায় পুলিশ ও জেলা প্রশাসকের তত্ত্বাবধানে অভিযান শুরু হয়েছে। প্রতিদিনই সাজা দিচ্ছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। গতকাল মঙ্গলবারও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৈঠক করেছেন। এর আগে পুলিশ সদর দপ্তরেও বৈঠক হয়েছে।

সচিবালয়ে মাস্ক ছাড়া কোনো দর্শনার্থী বা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আটকে দিচ্ছে পুলিশ। ঢাকার বিপণিবিতানগুলোতেও মাস্ক ছাড়া ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না।

এদিকে, বিদেশ থেকে আসা লোকজনকে কঠোর নজরদারির আওতায় আনতে জেলার পুলিশ সুপার ও মেট্রোপলিটন কমিশনাদের বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। নির্দেশনা পেয়ে পুুলিশ কর্মকর্তারা কাজ শুরু করে দিয়েছেন বলে দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন একাধিক কর্মকর্তা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশ সদর দপ্তরের এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্রবাসীরা দেশে ফিরে বাসাবাড়িতে থাকছেন না এমন তথ্য আমরা পেয়েছি। তাদের এসব কর্মকাণ্ড মেনে নেওয়া যায় না। সারা দেশের বাসাবাড়িতে এ বিষয়ে খোঁজখবরের উদ্যোগ নিয়েছি। মালিক ও প্রহরীদের বিদেশ থেকে কেউ আসামাত্র থানাকে অবহিত করতে বলা হয়েছে। কেউ তথ্য গোপন করলে তাকে গ্রেপ্তারসহ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হয়েছে। বাংলাদেশেও দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হওয়ার আশঙ্কা থেকে সরকার আগাম প্রস্তুতি নিচ্ছে। সচিবালয়, অফিস-আদালত ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ‘নো মাস্ক নো সার্ভিস’ কার্যকর করা হচ্ছে। সম্প্রতি আইজিপিসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে পুলিশ সদর দপ্তরে বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে উপস্থিত পুলিশের এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সারা দেশে মাস্ক পরা বাধ্য করতে রেঞ্জ ডিআইজি ও পুলিশ সুপারদের বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। চলতি মাস থেকে যারা বাইরে থেকে দেশে এসেছেন, তাদের ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইনে নজরদারি করতে বলা হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘খুলনার মতো শিগগিরই অন্য জেলাগুলোয় অভিযান চালানো হবে। রাস্তায় ভ্রাম্যমাণ আদালত থাকবে নিয়মিত। সাজা ও জরিমানা আদায় করা হবে।’

এদিকে গতকাল ডিএমপি সদর দপ্তরে করোনা সংক্রমণ রোধে একটি বৈঠক হয়। বৈঠকে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলকসহ নানা বিষয়ে নিয়ে আলোচনা হয়। সংক্রমণ রোধে ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তা নিয়োগ, তাদের দায়িত্ব বণ্টন, আবাসন, অ্যাম্বুলেন্স ও খাবার ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (প্রশাসন) মীর রেজাউল করিম। তিনি বলেন, ‘পুলিশ সদস্যদের কারও করোনার উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত পরীক্ষা করতে হবে। ছুটি থেকে আসা প্রত্যেক সদস্যকে কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করতে হবে। সর্বক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করার জন্য ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তাদের সতর্ক থাকতে হবে।’

ডিএমপির এক কর্মকর্তা জানান, ডিএমপির সদর দপ্তর, থানা বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে মাস্ক ছাড়া কেউ প্রবেশ করতে পারবে না। দেশের সব বিমানবন্দর ও স্থলবন্দরের ইমিগ্রেশনকে বিদেশ থেকে আসা লোকদের তালিকা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

পুলিশের খুলনা রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) ড. খন্দকার মুহিদ উদ্দিন বলেন, ‘রাস্তায় বের হলেই মাস্ক পরতে হবে। জেলার আইনশৃঙ্খলা সভায় এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ইতিমধ্যে খুলনায় অভিযান শুরু হয়েছে। পুলিশের প্রতিটি সদস্যকে মাস্ক পরে ডিউটি ও বাইরে গেলে তা ব্যবহার করতে বলা হয়েছে।’

পুলিশ সদর দপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘করোনা প্রতিরোধে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে জরুরি স্বাস্থ্য বার্তা সব ইউনিটে প্রচারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আতঙ্কিত না হয়ে ভাইরাসের বিস্তার যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে সচেতন হতে সব পুলিশ ইউনিটকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। চীন, ইতালি, কুয়েত, যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশে থেকে আসা প্রবাসীদের মনিটরিং করা হচ্ছে।’