বাইডেন জমানায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৪৬তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে এবং বিজয়ী হিসেবে জো বাইডেনের নামও ঘোষিত হয়েছে। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো পর্যন্ত ফলাফল মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। কিন্তু আমার মনে হয়, তিনিও শেষ পর্যন্ত ফলাফল মেনে নেবেন। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, গত চার বছরে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ঘিরে যে অনিশ্চয়তা এবং অনাস্থা বিশ্বে তৈরি হয়েছিল জো বাইডেন সেখান থেকে দেশটিকে বের করে আনতে পারবেন। ট্রাম্পের সময় যুক্তরাষ্ট্র প্রচলিত ধারা থেকে বেরিয়ে এসেছিল এবং যেসব নীতিমালা প্রণীত হয়েছিল, তাতে দেশটির ভাবমূর্তিতে একটা নেতিবাচক প্রভাব পড়েছিল। যুক্তরাষ্ট্র অনেকগুলো সংস্থা থেকে বেরিয়ে এসেছিল। যেমন সাম্প্রতিক সময়ে তারা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেয়। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র কতটুকু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, তা বলা যাচ্ছে না। তবে কভিড-১৯ এর সময়ে এ ধরনের প্রত্যাহারের ফলে বৈশ্বিক প্রক্রিয়া যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, সেটা নিঃসন্দেহে বলা যায়। এর আগে এরকম পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্ব দিয়েছিল। তাই এবারও আশাবাদ ছিল যে এরকম চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্ব দেবে। সেটা আর্থিক দিক থেকে হতে পারে, কূটনৈতিকভাবে হতে পারে, এমনকি ‘কনভেনিং পাওয়ার’ হিসেবেও হতে পারে।  কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের প্রত্যাহার করে নেওয়াতে এ মহামারী মোকাবিলায় নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে শূন্যতা তৈরি হয়েছিল। এছাড়াও তারা জাতিসংঘের হিউম্যান রাইটস কাউন্সিল থেকে নিজেদের সরিয়ে নিয়েছিল। এসব সংস্থা বিশ্বের জনগণের ব্যবসা-বাণিজ্য, যোগাযোগ, মহামারী প্রতিরোধের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ভূমিকা রেখে থাকে। তাই ট্রাম্পের সময় এসব সংস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সরে আসার ফলে নেতৃত্বশূন্যতা তৈরি হয়েছিল। বাইডেন বিজয়ী হওয়ার ফলে এসব ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যে অবশ্য তিনি বিজয়ী ঘোষণায় বলেছেন যে যুক্তরাষ্ট্র ‘ক্লাইমেট ডিলে’ ফিরে আসবে, জাতিসংঘের হিউম্যান রাইটস কাউন্সিলে পুনর্বার যোগদান করবে। তাই সামগ্রিকভাবে বলা যায়, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে এসব সংস্থার মাধ্যমে নেতৃত্ব দিয়ে আসছিল, সেসব জায়গায় আবার তারা ফিরে আসার ফলে সাময়িকভাবে সৃষ্ট বিশ্ব নেতৃত্বের শূন্যতা আবার পূরণ হবে।  অবশ্য বাইডেন প্রশাসন এক্ষেত্রে আভ্যন্তরীণভাবে কিছুটা প্রতিরোধের সম্মুখীন হতে পারে, তবে বিশ্বের ইতিবাচক স্বার্থের কথা বিবেচনা করে নতুন প্রেসিডেন্টের নেতৃত্বে মার্কিন জনগণ এসব কর্মকাণ্ডে সমর্থন দিয়ে থাকবেন। যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে বাইডেনের এ বিজয় শুধু দেশটির ভেতরেই নয়, বহির্বিশ্বেও আশার সঞ্চার করেছে।  বাংলাদেশের মতো অন্যান্য রাষ্ট্রও এ বিজয়কে ইতিবাচকভাবেই দেখছে।  

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রশাসনের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নির্ভর করবে দেশটির এশিয়া-নীতি কোন পথে চালিত হবে তার ওপর। ওয়াশিংটনের এশিয়া-নীতির চোখ দিয়েই বাংলাদেশকে দেখা হবে। সেক্ষেত্রে এশিয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে তারা চীনকে বিবেচনা করবে। আর চীনের সঙ্গে যদি তাদের সম্পর্ক ট্রাম্পের সময়ের বৈরিতা থেকে মুক্ত হয়ে সহযোগিতাপূর্ণ কিংবা ভারসাম্যপূর্ণ হয়ে ওঠে, তাহলে সেটা বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক হবে। বিশেষ করে আমাদের যে উন্নয়ন আকাক্সক্ষা, উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টা, সে বিবেচনায় সবার সঙ্গেই সহযোগিতাপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের নয়া প্রশাসনের সঙ্গে আমাদের সহযোগিতার সম্পর্ক বজায় রাখতে বড় ধরনের ‘ডিপ্লোম্যাটিক স্পেস’-এর বড় একটা সুযোগ তৈরি হবে। একটা বড় প্রেক্ষাপটে আমাদের কৌশলগত সম্পর্কের বিষয়টি এখানে আলোচিত হলো। এখন আমাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের একেবারে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিষয়টি আলোচনা করা প্রয়োজন। আমাদের বাইডেন প্রশাসনের সঙ্গে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক বজায় রাখার প্রচেষ্টা আগামীতে রাখতে হবে। তবে সহযোগিতার বিষয়টি তো আর একতরফা নয়।  যুক্তরাষ্ট্রকেও সহযোগিতার বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে। তারা যদি সহযোগিতার প্রয়োজন অনুভব না করে, তাহলে আমরা জোর করে সহযোগিতার বিষয়টি তাদের উপলব্ধিতে আনতে পারব না। প্রথমে আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় বিষয়টি হলো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য। মনে রাখতে হবে, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের রপ্তানি ক্ষেত্রে সর্ববৃহৎ বাজার। প্রতি বছর আমরা ৩০ মিলিয়ন অর্থমূল্যের পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করে থাকি। তবে আমার মনে হয় যে জো বাইডেনের নতুন সরকার বাংলাদেশের যেসব সুযোগ-সুবিধা ওই দেশে রয়েছে, সেগুলো কমিয়ে আনবে না কিংবা সেক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করবে না। তারা এ সুবিধাগুলো বজায়ই রাখবে। 

এখানে দুটি জিনিস বিবেচনায় আনতে হবে। প্রথমটি হলো জেনারেলাইজড সিস্টেম অফ প্রিফারেন্সেস বা জিএসপি সুবিধা ফেরত পাওয়ার প্রচেষ্টা চালাতে হবে। ২০১৩ সাল থেকে এ সুবিধা স্থগিত হয়ে আছে। এক্ষেত্রে শুধু কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে গেলেই হবে না, উপরন্তু তারা যে ১৬ দফা কর্মপরিকল্পনা আমাদের দিয়েছিল, সেটাকেও অগ্রাধিকার দিয়ে বাস্তবায়নের রাস্তায় অগ্রসর হতে হবে। তাই এই ১৬ দফা কর্মপরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে আমরা তাদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারব।  তখন তাদের সহযোগিতার জন্য কিংবা জিএসপি পুনর্বার ফেরত পাওয়ার জন্য কূটনৈতিক তৎপরতায় জোর দেওয়া যাবে। আর এটা হলে আমাদের ‘নন-কনভেনশনাল প্রোডাক্টে’র রপ্তানির জন্য একটা জানালা খুলে যাবে। এখন আমরা হয়তো ৩০ মিলিয়নের পণ্য রপ্তানি করছি, ভবিষ্যতে এর পরিমাণ আরও বেড়ে যাবে। আমরা এখন অনেক ‘নন-ট্র্যাডিশনাল’ পণ্য তৈরি করছি। এর মধ্যে রয়েছে প্লাস্টিক, সিরামিকস, ফার্মাসিউটিক্যালস ইত্যাদি। তবে ফার্মাসিউটিক্যালস রপ্তানির বাজার যুক্তরাষ্ট্রে বেশি একটা তৈরি হবে না। তবে অন্য পণ্যগুলোর চাহিদা সেখানে থাকবে। 

আরেকটি বিষয় হলো, যুক্তরাষ্ট্রে যখন ডেমোক্র্যাটরা ক্ষমতায় থাকে, তখন তারা শ্রমিকের অধিকার এবং মানবাধিকারের বিষয়টি বিশেষ বিবেচনায় রাখে। এজন্য সরকারের বাইরেও অনেক সংস্থা থাকে যারা এগুলো মনিটরিং করে। ট্রাম্প কিংবা রিপাবলিকান প্রশাসন কিন্তু এগুলো তেমন একটা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে না।  তাই এখন যেহেতু জো বাইডেনের নেতৃত্বে ডেমোক্র্যাট প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রের শাসন ক্ষমতা পরিচালনা করবে, সেহেতু আমাদের এ বিষয়গুলোতে মনোযোগ দিতে হবে।  আমরা যে রেডিমেড গার্মেন্টস রপ্তানি করি কিংবা আরও যেসব পণ্যের বাজার সম্প্রসারিত করতে চাইব, সেসব পণ্য তৈরির ক্ষেত্রে এ বিষয়গুলো বিবেচনায় না হলে বিপাকে পড়ে যেতে পারি। শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, আন্তর্জাতিক বাজারে আমাদের পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে সবসময়ে এ বিষয়গুলো খেয়াল রাখা দরকার। আমাদের পণ্যের প্রক্রিয়াজাতকরণ বিষয়ে কোনো অবাঞ্ছিত প্রশ্ন যেন না তৈরি হয়, যেটা আমাদের ভাবমূর্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলতে পারে, সেটা সবসময়ে অনুধাবন করতে হবে। 

যুক্তরাষ্ট্রে ১০ লাখের মতো বাংলাদেশি অভিবাসী রয়েছেন, যাদের অধিকাংশই নিয়মিত। তবে একটা উল্লেখযোগ্য বাংলাদেশি রয়েছেন, যারা নিয়মিত নন।  যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১১ মিলিয়নের মতো অভিবাসী রয়েছেন, যারা অনিয়মিত। এখন বাইডেন প্রশাসন এসব অভিবাসীর নিয়মিতকরণের ব্যাপারে উদ্যোগ নিতে পারে।  এর ফলে আমাদের যেসব অভিবাসী অনিয়মিত রয়েছেন, তারা নিয়মিত হওয়ার মাধ্যমে ব্যক্তিগত ও পারিবারিকভাবে স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ জীবনে ফিরে আসতে পারবেন এবং তাদের পাঠানো অর্থ দিয়ে আমাদের অর্থনীতি লাভবান হবে। এখানে উল্লেখ করা দরকার যে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের তৃতীয় রেমিট্যান্স সরবরাহকারী দেশ। সেজন্য বাইডেন প্রশাসনের অভিবাসন নিয়মিতকরণের পদক্ষেপ আমাদের লাভবান করবে। 

রোহিঙ্গা ইস্যু আমাদের জন্য একটি বড় বিষয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এ বিষয়ে আমাদের সবসময় সমর্থন দিয়ে আসছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে তারা এ প্রশ্নে বাংলাদেশের পক্ষে দাঁড়িয়েছে। তারা মিয়ানমারের সামরিক জান্তাদের পরিচালিত এ গণহত্যাকে সবসময় নিন্দা করে এসেছে। তাদের এ অবস্থান বাইডেন প্রশাসনের সময়েও অব্যাহত থাকবে বলে আশা করা যায়। তবে রোহিঙ্গা সংকট একটা ভূ-রাজনৈতিক কৌশলেরই উপাদান। তাই সহসা এর সমাধান আশা করা যায় না। তবে চীনের সঙ্গে যদি যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়ে ওঠে তখন আমরা রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে মিয়ানমারকে বাধ্য করার ব্যাপারে দুই দেশের সম্মতি আদায়ের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালাতে পারি। এখন যেহেতু চীনের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ভয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি চীনের ভয় কাজ করছে, সেটারই সুযোগ নিচ্ছে মিয়ানমার। এই পরিস্থিতি যদি না থাকে তাহলে এই দুই বৃহৎ রাষ্ট্রের মাধ্যমে মিয়ানমারের মানবতাবিরোধী তৎপরতার ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য যেমন প্রচেষ্টা চালানো যাবে, তেমনি মিয়ানমারও চাপের মধ্যে থাকবে। অবশ্য এগুলো সবই অনুমাননির্ভর আলোচনা।  তবে বাইডেন প্রশাসন যেহেতু তার অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে বেশি মনোযোগী থাকবে এবং তাদের জন্য আন্তর্জাতিক আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সমাধানের গুরুদায়িত্ব থাকবে, তাই মিয়ানমারের বিষয়ে তাদের ভূমিকাকে জোরালো করার কূটনৈতিক দায়িত্ব মূলত বাংলাদেশের। এদিকে গত দুই বছরের মতো সময় ধরে মিয়ানমারের সঙ্গে আমাদের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক স্থগিত হয়ে আছে। সেজন্য আমাদের এখন থেকে উদ্যোগী হতে হবে। বিশেষ করে, চীন যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের প্রস্তাবনা দিয়েছে, সেটার ক্ষেত্রে আমাদের ইতিবাচক সাড়া দেওয়া উচিত। কেননা, নিকট প্রতিবেশী হিসেবে মিয়ানমারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক অব্যাহত রাখা জরুরি। দেশটির সঙ্গে আমাদের রোহিঙ্গা ইস্যু ছাড়াও ব্যবসা-বাণিজ্য সংক্রান্ত স্বার্থ রয়েছে। সেক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কোন্নয়নের মাধ্যমে আমরা মিয়ানমারের কাছ থেকে অন্যান্য সুবিধা আদায় যেমন করতে পারি, তেমনি এক সময় মিয়ানমারকে রোহিঙ্গাদের ওপর জাতিগত নিপীড়ন বন্ধে এবং বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের টেকসই প্রত্যাবাসনে সম্মত করাতে পারি। এক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের একটা ইতিবাচক ভূমিকা আমাদের পক্ষে অত্যন্ত সহায়ক হবে।

মনে রাখতে হবে, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগকারী দেশ। আমরা দীর্ঘদিন ধরে ‘ব্লু  ইকোনমি’র কথা বলে আসছি। কিন্তু এ ব্যাপারে যে পরিমাণ বিনিয়োগ দরকার, তা পাচ্ছি না। এজন্য আমাদের তেল-গ্যাস উত্তোলন থেকে শুরু করে অন্যান্য খনিজসম্পদ উত্তোলনের ব্যাপারে মার্কিন বিনিয়োগ যদি বেশি করে আকর্ষণ করতে পারি, তাহলে আমরা অনেক লাভবান হব। অবশ্য অনেক মার্কিন কোম্পানি এসব বিষয়ে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী। এজন্য আমাদের যথোপযুক্ত বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে হবে। আবার বাইডেন প্রশাসন যেহেতু ‘ক্লাইমেট ডিলে’ ফিরে যাবে, সেহেতু আমরা জলবায়ু পরিবর্তনজনিত নানা তহবিল এবং সহায়তা যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে পেতে পারব বলে মনে হয়। আমরা জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য খুব একটা দায়ী না হলেও এর ফলে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্যতম। তাই এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রসহ নানা দেশের সহায়তা আমাদের দরকার। যুক্তরাষ্ট্র আমাদের খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ থেকে শুরু করে জীবনযাত্রার উন্নয়নজনিত বিভিন্ন সহায়তা দিতে পারে।  সর্বোপরি, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আমাদের সারা বিশ্বের মতোই অনেক প্রত্যাশা রয়েছে।  আর বাইডেনের জয়লাভে আমাদের প্রত্যাশার পারদ আরও উঁচুতে উঠে গিয়েছে।  এখন সেই প্রত্যাশা পূরণের জন্য আমাদেরও কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যেতে হবে। তাহলেই আমরা আমাদের কাক্সিক্ষত যে অর্জনের প্রত্যাশা যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে করছি, সেটি পূরণ করা অনেকটা সম্ভব হতে পারে।

লেখক সাবেক কূটনীতিক