ঢাকা-১৮ সিরাজগঞ্জ-১ আসনে ফের নির্বাচন দাবি বিএনপির

ঢাকা-১৮ ও সিরাজগঞ্জ-১ আসনের উপনির্বাচন বাতিল করে নতুন নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে বিএনপি। গতকাল শুক্রবার গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের পক্ষে এ দাবি জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনা ঘটানো হচ্ছে, যে উপনির্বাচনটা হলো এটা একেবারেই নির্বাচন হয়নি। এটা একটা পাতানো ও জালিয়াতির নির্বাচন হয়েছে, সেটা থেকে জনগণের দৃষ্টি দূরে রাখার জন্য এই বাস পোড়ানোর ঘটনাগুলো ঘটানো হচ্ছে। এটা নিঃসন্দেহে সরকারের একটা পরিকল্পনা যে নির্বাচন প্রক্রিয়াটা ধ্বংস করা এবং দেশে একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা, তারই নমুনা আমরা দেখতে পারছি।’ তিনি বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবার একেকটা সেন্টারের সামনে ২-৩-৪-৫শ করে বাইরে থেকে লোকজন এনে জড়ো করে রেখেছিল আওয়ামী লীগের প্রার্থী। ভোটকেন্দ্রে যে-ই গেছে তাকে মেরে বের করে দেওয়া হয়েছে। এখানে নির্বাচনের নরমাল যে পদ্ধতি এর কোনো কিছুর সুযোগ পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন বলুন আর যারা দেশ চালাচ্ছে তারা রাখেনি। সবচেয়ে বড় কথা পুলিশ এসব অপকর্মে সহযোগিতা করেছে।’

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ নানা মিথ্যাচার করবে এই নির্বাচনকে জাস্টিফাই করার জন্য। কিন্তু কোনোভাবে এই নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।’

সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা-১৮ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী এসএম জাহাঙ্গীরের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টাম-লীর সদস্য আমানউল্লাহ আমান বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবার বিভিন্ন কেন্দ্রে আমাদের প্রার্থী নিজে এবং তার প্রধান এজেন্ট আবদুস সালাম গেছেন, সেখানে তারা দেখেছেন কেন্দ্রে ভোটারদের কোনো উপস্থিতি ছিল না। ভোটারদের বের করে দিয়ে তারা সন্ত্রাসীদের জড়ো করেছে। আমাদের প্রার্থীদের সেন্টারে ঢুকতে দেওয়া হয়নিÑ এটা আমরা মিডিয়াতে দেখেছি।’

তিনি বলেন, ‘এটা কোনো নির্বাচন হয়নি, এটা একটা তামাশার নির্বাচন হয়েছে। সরকার ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারের যৌথ প্রযোজনায় এই উপনির্বাচন ভোট ডাকাতির নির্বাচন হয়েছে, তামাশা হয়েছে। সরকারের ইচ্ছানুযায়ী তাদের প্রার্থীকে জেতানোর জন্য নির্বাচন কমিশনের যা কিছু করা দরকার তারা সেটাই করেছে।’

সিরাজগঞ্জ-১ আসনের উপনির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থী সেলিম রেজার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ও দলের সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেন, ‘সিরাজগঞ্জ-১ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপির ভোটার কেন্দ্রে ভোট দিতে এলে তাকে ফিঙ্গার প্রিন্ট মেরে নিয়ে বলেছে যে, এবার আপনি চলে যান। অর্থাৎ বাটন চাপ দেবে নৌকা প্রতীকে, সেই ভোট চলে যাবে নৌকায়। এভাবে তারা ভোট ডাকাতি, ভোট ছিনতাই করেছে। এবার নতুন এই স্টাইল চালু করেছে।’

তিনি বলেন, ‘আজকে এসব নির্বাচন থেকে আবার নতুন করে প্রমাণিত হলো, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কোনো বিকল্প নাই। ওইরকম সরকার ছাড়া নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ হবে না। আমি আশা করি, আগামীতে আন্দোলনের কোনো বিকল্প নাই।’

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টাম-লীর সদস্য আবদুস সালাম ও সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, ভারপ্রাপ্ত তথ্যবিষয়ক সম্পাদক রিয়াজুদ্দিন নসু ও চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং কর্মকর্তা শায়রুল কবির খান।