একনেক সভা কাল

উঠছে সাড়ে ৮ হাজার কোটি টাকার ৫ প্রকল্প

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ৫ প্রকল্প অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৮ হাজার ৫৮১ কোটি টাকা। সভায় সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে গণভবন থেকে এনইসি সম্মেলন কক্ষের সঙ্গে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী। একনেক কার্যপত্র থেকে এ তথ্য জানা গেছে। কার্যপত্রে দেখা গেছে, কাল মঙ্গলবার একনেক সভায় ‘ঘূর্ণিঝড় আম্পান ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পল্লী সড়ক অবকাঠামো পুনর্বাসন’ শীর্ষক প্রকল্প অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। প্রকল্পটি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় থেকে পরিকল্পনা কমিশনে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এর মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৫ হাজার ৯০৫ কোটি টাকা। প্রকল্পটি অনুমোদনের পর সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে চলতি বছরের অক্টোবর থেকে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর নাগাদ বাস্তবায়ন করবে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। আম্পানে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও ঢাকা বিভাগের ১৪টি জেলার ৬৯টি উপজেলায় এটি বাস্তবায়ন করা হবে। অন্যদিকে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া রংপুর, রাজশাহী, খুলনা, ঢাকা, ময়মনসিংহ, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের ৭টি বিভাগের ২৮টি জেলার ১৮২টি উপজেলা এবং অতিবর্ষণে রাজশাহী, খুলনা, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রাম বিভাগের ২২টি জেলার ১৩৯টি উপজেলায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন এলাকা ধরা হয়েছে। প্রকল্পটি ২০২০-২১ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) ‘২০১৯ সালের বন্যায় ও অতিবর্ষণে পল্লী সড়ক অবকাঠামো পুনর্বাসন’ শিরোনামে বরাদ্দবিহীন অননুমোদিত নতুন প্রকল্প তালিকায় অন্তর্ভুক্ত আছে। এছাড়া পরিকল্পনা কমিশনের কার্যক্রম বিভাগের প্রণয়নকৃত উচ্চ অগ্রাধিকার প্রকল্পের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রকল্পের প্রধান কার্যক্রম হলো ২ হাজার ৩৮৮ কিলোমিটার উপজেলা সড়ক পুনর্বাসন করা হবে। ২ হাজার ২৭৫ কিলোমিটার ইউনিয়ন সড়ক, গ্রাম সড়ক পুনর্বাসন ১ হাজার ৫৩৫ কিলোমিটার, আরসিসি সড়ক পুনর্বাসন ৭৮ কিলোমিটার, ব্রিজ পুনর্বাসন বা পুনঃনির্মাণ ৪ হাজার ৬৩২ মিটার (২৬৮টি), কালভার্ট পুনর্বাসন বা পুনঃনির্মাণ ৬৯২ মিটার (২৩৯টি) এবং বৃক্ষ রোপণ ৩২৮ কিলোমিটার। এ বিষয়ে কৃষি, পানিসম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের সদস্য (সচিব) মো. জাকির হোসেন আকন্দ বলেন, ঘূর্ণিঝড় আম্পান, বন্যা ও অতিবর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত পল্লী অবকাঠামোগুলো জলবায়ু সহনশীল টেকসই অবকাঠামো হিসেবে নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোতে অর্থনৈতিক গতিশীলতা আনা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে পল্লী অঞ্চলের নিরবছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

এছাড়া কৃষি-অকৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিসহ সার্বিক দারিদ্র্য বিমোচনে প্রকল্পটি ইতিবাচক অবদান রাখবে।

একনেকে উপস্থাপিত অন্য প্রকল্পগুলো হলো ‘যমুনা নদীর ডান তীরের ভাঙন হতে গাইবান্ধা জেলার ফুলছড়ি উপজেলাধীন কাতলামারী ও সাঘাটা উপজেলাধীন গোবিন্দি এবং হলদিয়া এলাকা রক্ষা’ প্রকল্প। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদনের পর চলতি বছরের জুলাই থেকে জুন ২০২৩ সালে বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড। প্রকল্পটির জন্য মোট ব্যয় হবে ৭৯৮ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। ‘গুরুত্বপূর্ণ পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প : বরিশাল, ঝালকাঠি ও পিরোজপুর জেলা (১ম সংশোধিত)’ প্রকল্প। স্থানীয় সরকার বিভাগ/স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবে প্রকল্পটি অনুমোদনের পর বাস্তবায়ন করবে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। ১ হাজার ২৫৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নভেম্বর ২০১৭ থেকে জুন ২০২৩ সালে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবে ‘খুলনা সিটি কর্পোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থার উন্নয়ন’ প্রকল্পটিও একনেকে অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। প্রকল্পটি ৩৯৩ কোটি টাকা ব্যয়ে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর ২০২৩ সালে বাস্তবায়ন করবে খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি)। এ প্রকল্পটিতে কেসিসি ৭৮ কোটি ৬৮ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে। এছাড়া ‘শেখ হাসিনা সাংস্কৃতিক পল্লী নির্মাণ’ প্রকল্পটি প্রথম সংশোধনের জন্য একনেক সভায় উপস্থাপন করা হবে। এ প্রকল্পটিও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় বাস্তবায়ন করবে। সংশোনী প্রস্তাব অনুমোদন পেলে মার্চ ২০১৬ থেকে জুন ২০২২ মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।

সংশোধনীতে প্রকল্পটির ব্যয় বেড়েছে ১০৩ কোটি টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জামালপুর পৌরসভা।