অবৈধ সম্পদ ও পাচার

সম্রাটের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র অনুমোদন দুদকের

২২৩ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সিঙ্গাপুর এবং মালয়েশিয়ায় পাচারের অভিযোগে যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের বহিষ্কৃত সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল রবিবার কমিশনের সভায় এই অভিযোগপত্র অনুমোদন দেওয়া হয় বলে দেশ রূপান্তরকে নিশ্চিত করেছেন দুদকের পরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য।

গত বছরের ১২ নভেম্বর ২ কোটি ৯৪ লাখ ৮০ হাজার ৮৭ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে সম্রাটের বিরুদ্ধে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ঢাকা-১ এ মামলা করেন দুদকের উপ-পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম। প্রায় এক বছরের তদন্ত শেষে কমিশনে এই অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। কমিশন ইতিমধ্যে তা অনুমোদন দেওয়ায় শিগগিরই এই অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করা হবে।

দুদকের তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, তদন্তকালে জব্দ করা রেকর্ডপত্র, ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও আসামির বক্তব্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, সম্রাট অবৈধ কার্যক্রমের মাধ্যমে তার ভাই ফরিদ আহমেদ চৌধুরী ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মোস্তবা জামানের নামে রাজধানীর কাকরাইলে ৪২৫০ বর্গফুটের ফ্ল্যাট কিনে নিজে ভোগদখল করেছেন। এছাড়া আয়কর নথির মাধ্যমে উৎসবিহীন ব্যবসার মূলধনসহ ৩ কোটি ৪০ লাখ ৩ হাজার ৯১৩ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জন করেছেন বলে প্রমাণ মিলেছে। সম্রাট সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার ৩টি ক্যাসিনোতে ২ কোটি ৩ হাজার সিঙ্গাপুরি ডলার ক্যাশ আউট করে নিজের নামে গচ্ছিত রেখেছেন বা বিদেশে বিনিয়োগ করেছেন বলে প্রমাণিত হয়েছে। ফলে তিনি বেনামে কেনা ফ্ল্যাটসহ অবৈধভাবে ২২২ কোটি ৮৮ লাখ ৬২ হাজার ৪৯৩ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করে তা নিজে ভোগদখলে রাখেন। যা দুদক আইনের ২৭ (১) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এর মধ্যে ২১৯ কোটি ৪৮ লাখ ৫৮ হাজার ৫০০ টাকা বিদেশে (সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়া) পাচার, আয়ের অবৈধ উৎস গোপন বা আড়ালের মাধ্যমে অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন। অর্থ পাচারের তথ্য পেতে সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় এমএলআর (মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিসট্যান্ট রিকুয়েস্ট) পাঠিয়েছে দুদক।

গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান শুরু হওয়ার পর ৬ অক্টোবর কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয় সম্রাটকে। বন্যপ্রাণীর চামড়া রাখার অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালতে ছয় মাসের কারাদণ্ডের পাশাপাশি সম্রাটের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদক আইনে মামলা হয়। এসব মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে তিনি বর্তমানে কারাগারে আছেন।