ঘোড়াশাল পলাশ ইউরিয়া ফার্টিলাইজার প্রকল্প

বিদেশি কর্মীর নিরাপত্তায় গোয়েন্দা নজরদারি

সাড়ে ১০ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ঘোড়াশাল পলাশ ইউরিয়া ফার্টিলাইজার প্রকল্পে দুই-তিন হাজার বিদেশি কর্মী কাজ করছেন। তাদের মধ্যে ১৫-২০ জন প্রকল্প এলাকায় এখন অবস্থান করছেন। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে প্রকল্প এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধিসহ একটি নিরাপত্তাচৌকি স্থাপনের দাবি জানিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছিল শিল্প মন্ত্রণালয়। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে সম্প্রতি ডিআইজি দপ্তরের প্রতিনিধি এবং পুলিশ সুপার প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেছেন। এ ক্ষেত্রে প্রকল্প এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি বিষয়ে একমত পোষণ করে এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে একটি নিরাপত্তাচৌকি স্থাপন করা হচ্ছে। অন্যদিকে প্রকল্পের কাজে গতি আনা ও আমদানিকৃত যন্ত্রপাতির ব্যয় কমাতে শুল্ক এবং ভ্যাট কমানোর বিষয়েও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) চিঠি দেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি প্রকল্পের বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনাসংক্রন্ত সভার কার্যবিবরণী থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

কার্যবিবরণী থেকে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি হয়েছে ১৫ দশমিক ৮৬ শতাংশ, যার মধ্যে জিওবি খাতে শূন্য দশমিক ৫৫ শতাংশ এবং বৈদেশিক ঋণ খাতে ১৫ দশমিক ৩১ শতাংশ। প্রকল্পটি মোট ১০ হাজার ৪৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০১৮ সালের অক্টোবর মাসে অনুমোদন পায়। এর মধ্যে জিওবি ১ হাজার ৮৪৪ কোটি ও প্রকল্প সাহায্য ৮ হাজার ৬১৬ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে ধরা হয়। ২০২২ সালের জুনে এর কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

এ বিষয়ে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব কে এম আলী আজম বলেন, প্রকল্পটির বাস্তবায়ন পর্যায়ে চলমান কার্যক্রমকে আরও গতিশীল এবং উদ্ভূত বিভিন্ন সমস্যার যথাযথ সমাধান কল্পে সভাটি আয়োজন করা হয়। সভায় বিভিন্ন সমস্যায় উঠে আসে, যা সমাধানে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

প্রকল্প পরিচালক মো. রাজিউর রহমান মল্লিক বলেন, অদ্যাবধি গৃহীত প্রকল্পের কাজের অগ্রগতির ভিত্তিতে সাধারণ ঠিকাদারকে মোট ১ হাজার ১৬৬ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। জিওবি খাতে প্রকল্প এলাকার মাটি পরীক্ষা বা সয়েল টেস্ট, নতুন রাস্তা নির্মাণ, বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ, প্রকল্প অফিস ও প্রকল্পের কর্মকর্তাদের আবাসিক ভবন তৈরি, প্রকল্প এলাকায় ইউটিলিটি লাইন স্থানান্তর,  তীরভূমি ব্যবহারের লাইসেন্স গ্রহণ, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে ২ হাজার ৪০ টন বা ঘণ্টা সারফেস ওয়াটার ব্যবহারের জন্য ক্লিয়ারেন্স গ্রহণ, প্রকল্প এলাকায় অবস্থিত গ্যাসলাইনসমূহ তিতাস গ্যাস অ্যান্ড ট্রান্সমিশন কোম্পানির মাধ্যমে স্থানান্তর বিষয়ে কাজ চলছে। এ ছাড়া প্রকল্প এলাকা থেকে ঘোড়াশাল  রেলস্টেশন পর্যন্ত রেললাইন স্থাপনের জন্য বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃক সমীক্ষা সম্পাদন করা হয়েছে। প্রকল্পের বিভিন্ন মালামাল (যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ) আনা হচ্ছে। ইতিমধ্যে ৫টি কনসাইনমেন্টে ইউজি পাইপ, ফিটিংসসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ প্রকল্প এলাকায় পৌঁছেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিশ্বব্যাপী কভিড-১৯ মহামারীর কারণে প্রকল্পের সার্বিক কার্যক্রম প্রায় পাঁচ মাস বিলম্বিত হয়েছে। বিলম্বিত সময়ের সমন্বয় করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিসিআইসির অনুরোধে সাধারণ ঠিকাদার কর্তৃক ২০২০-২১ অর্থবছরের মালামাল আমদানির শিপমেন্ট শিডিউলে পরিবর্তন করেছে। ফলে প্রকল্পের আওতায় ২০২০-২১ অর্থবছরে আমদানিকৃত মালামালের সিডি ভ্যাট বাবদ বরাদ্দকৃত রাজস্ব ব্যয়ে সব মালামালের কাস্টমস ডিউটি পরিশোধ করা যাবে না।

এ পর্যায়ে পরিকল্পনা বিভাগের যুগ্ম সচিব উম্মে সায়মা বলেন, চলতি অর্থবছরে এই প্রকল্পের অনুকূলে সিডি ভ্যাট খাতে ৩০ কোটি টাকা বরাদ্দ আছে। বিসিআইসির তথ্যানুযায়ী ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রকল্পে প্রায় ৬৫০ কোটি টাকার সংস্থান করতে হবে। অর্থাৎ ১২০ কোটি টাকার ঘাটতি রয়েছে। প্রয়োজনীয় এ অর্থ বরাদ্দ প্রদানের নিমিত্ত ইতিমধ্যে অর্থ বিভাগ এবং পরিকল্পনা কমিশনের কার্যক্রম বিভাগ, শিল্প ও শক্তি বিভাগে ডিও লেটার প্রেরণ করা হয়েছে। সভায় অর্থ বিভাগ ও কার্যক্রম বিভাগ কর্তৃক ডিও পত্রের আলোকে সিডি ভ্যাটের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান করা হবে। অধিকন্তু প্রয়োজনীয় অর্থের সংকুলান না থাকায় এনবিআরের কাছে অনুরোধ করা হয়েছে।

সভায় শিল্প সচিব বলেন, সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্প ও দেশের খাদ্যনিরাপত্তা ব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিধায় ডিফার পেমেন্টের ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানিয়ে এনবিআরকে ডিও লেটার প্রেরণ করা হবে।