করোনাভাইরাস সংকটেও প্রবাসী আয়ে ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত রয়েছে। চলতি মাসের ১২ দিনেই ১০৬ কোটি ৬০ লাখ (এক দশমিক শূন্য ৬৬ বিলিয়ন) ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। বাংলাদেশি মুদ্রায় (প্রতি ডলার ৮৪ টাকা ধরে) এ অংক আট হাজার ৯৫৪ কোটি টাকার বেশি।
গতকাল সোমবার বিজ্ঞপ্তিতে অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, একক মাসের মাত্র ১২ দিনে এর আগে কখনো এত পরিমাণ রেমিট্যান্স আসেনি। বাংলাদেশের ইতিহাসে এটি একটি বিরল ঘটনা। চলতি অর্থবছরে জুলাই থেকে ১২ নভেম্বর পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৯৮৯ কোটি ১০ লাখ ডলার। যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে প্রায় ৪৩ দশমিক ৪২ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স এসেছিল ৬৮৯ কোটি ৭০ লাখ ডলার। প্রবাসী আয়ের এ ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত থাকার জন্য সরকারের ২ শতাংশ নগদ প্রণোদনাসহ বিভিন্ন পদক্ষেপের প্রভাব রয়েছে।
অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, অপ্রত্যাশিত অভিঘাত কভিড-১৯ এর প্রভাবে বড় অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছে সারা বিশ্ব। এই সময়টায় রেমিট্যান্সযোদ্ধারা কষ্ট করে অর্থ পাঠিয়ে আমাদের অর্থনীতি গতিশীল রাখতে চালকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন।
তিনি বলেন, ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে বৈধপথে রেমিট্যান্স পাঠালে ২ শতাংশ নগদ প্রণোদনা দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। এর পর পর রেমিট্যান্স বাড়তে শুরু করলে অনেকেই বলতে শুরু করলেন, এগুলো ঠিক নয়, থাকবে না, টেকসই নয়। চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে যখন অসাধারণ এবং অবিশ্বাস্য গতিতে রেমিট্যান্স অর্জিত হচ্ছিল, তখন কর্মীরা তাদের কাজকর্ম বা ব্যবসা গুটিয়ে দেশে ফিরে আসছেন-সহ বিভিন্ন মন্তব্য করতে শুরু করলেন। সেই সব লোকের সঙ্গে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থাও তাল মিলিয়ে বলতে শুরু করল, এ প্রবাহ ঠিক নয়, টেকসই হবে না।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, প্রণোদনা ঘোষণার পর থেকে আজ পর্যন্ত রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধির যে প্রবাহ, তাতে তাদের ভবিষ্যদ্বাণী ভুল প্রমাণিত হয়েছে। আমরা সঠিক ছিলাম, আরও একবার তা প্রমাণিত হলো। ১২ নভেম্বর পর্যন্ত প্রবাসী আয় এসেছে এক বিলিয়ন ডলারেরও বেশি, যা মাত্র ১২ দিনে কখনো অর্জিত হয়নি। গড়ে প্রতি মাসে দুই বিলিয়ন ডলারের ওপরে প্রবাসী আয় অর্জন, এটি বিরল ঘটনা।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, গত অর্থবছর প্রবাসীরা মোট এক হাজার ৮২০ কোটি ৪৯ লাখ ডলার দেশে পাঠিয়েছেন। দেশীয় মুদ্রায় যা প্রায় এক লাখ ৫৪ হাজার ৭৪২ কোটি টাকা।