চলে গেলেন সাবেক ডেপুটি স্পিকার শওকত আলী

সাবেক ডেপুটি স্পিকার, আগরতলা মামলার অন্যতম আসামি, মুক্তিযোদ্ধা কর্নেল (অব.) শওকত আলী আর নেই। ইন্নালিল্লাহি ........ রাজিউন। গতকাল সোমবার সকালে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন তিনি। তার বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর। হাসপাতালের লাইফ সাপোর্টে ছিলেন তিনি। কিডনি, ডায়াবেটিস, নিউমোনিয়া ও উচ্চ রক্তচাপসহ বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছিলেন শওকত আলী।

শওকত আলীর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এক শোকবার্তায় মরহুমের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান তারা। এছাড়া সাবেক এই ডেপুটি স্পিকারের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়া, চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী।

শরীয়তপুরের নড়িয়া পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের  লুংসিং গ্রামের সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন শওকত আলী। শরীয়তপুর-২ আসন থেকে ছয়বার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। ১৯৬৯ সালে বঙ্গবন্ধুসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা করে পাকিস্তানি সামরিক জান্তা। তাদের মধ্যে শওকত আলীকে অন্যতম আসামি করা হয়। রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি ও বাংলা একাডেমির আজীবন সদস্য ছিলেন কর্নেল শওকত। কয়েকটি অসাধারণ বইয়ের রচয়িতা তিনি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘সত্য মামলা আগরতলা’, ‘কারাগারের ডায়েরি’ এবং ‘গণপরিষদ থেকে নবম সংসদ’। মুক্তিযোদ্ধা সংহতি পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও ৭১ ফাউন্ডেশনের প্রধান উপদেষ্টা ছিলেন তিনি। গতকাল বাদ মাগরিব তার নামাজে জানাজা বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে বিকাল ৩টায় তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য তার মরদেহ জাতীয় শহীদ মিনারে নেওয়া হয়। আজ সকালে তার মরদেহ শরীয়তপুর জেলার নড়িয়ায় নেওয়া হবে।