‘গভর্নর সাহেব আপনি বলুন’

১৯৮০-এর দশকের শেষের দিকে জাতীয় ঋণ সালিশি বোর্ডের প্রথম বৈঠক, প্রেসিডেন্ট হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বোর্ডের প্রধান, সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী ও সচিবরা আছেন। সদস্য সচিব এম মোকাম্মেল হক (তখন ভূমি সচিব এবং ঋণ সালিশি আইন বাস্তবায়নের প্রধান নির্বাহী)। সদস্য সচিব ঋণগ্রস্ত কৃষকের দুর্দশার একটি চিত্র তুলে ধরে, এই স্বাগত উদ্যোগের সাফল্য কামনা করে মাইক্রোফোন ছেড়ে দিলেন। তারপর শুরু হলো প্রেসিডেন্ট বন্দনা। পাছে প্রতিযোগিতায় হেরে যান সেজন্য অভিধানের বাছাই করা বিশেষণগুলো প্রেসিডেন্টের নামের সঙ্গে প্রয়োগ করা শুরু হলো। বাম রাজনীতি থেকে আসা একজন মন্ত্রী রেজোয়ানুল হক ইদু মিয়া সবাইকে মার দিয়ে বলে দিলেন, মহামান্য রাষ্ট্রপতি আপনি শেরেবাংলা আবুল কাশেম ফজলুল হককেও মøান করে দিয়েছেন। ১৯৩৮ সালে ঋণ সালিশি আইন করে শেরেবাংলা কিছুসংখ্যক ঋণগ্রস্ত মানুষের কিছু উপকার করেছিলেন। কিন্তু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সারা দেশের কৃষকসমাজকে রক্ষা করার যে উদ্যোগ নিয়েছেন, তাতে পৃথিবীর ইতিহাসে তার নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে যুগ যুগ ধরে মানুষ প্রেসিডেন্ট এরশাদের নাম বলে বেড়াবে।

আমি দায়িত্ব নিয়েই লিখছি, সেই বৈঠকের কনিষ্ঠতম অংশগ্রহণকারী হিসেবে আমার দায়িত্ব ছিল বোর্ড সদস্য ও প্রেসিডেন্টের বক্তব্য নোট করা এবং সভাশেষে দিন ফুরোনোর আগে বৈঠকের পূর্ণ কার্যবিবরণী সদস্য সচিবের কাছে উপস্থাপন করা। তিনি তা দেখবেন, প্রয়োজনীয় সংশোধনের পরামর্শ দেবেন। রাতারাতি সংশোধন ও পরিমার্জন সম্পন্ন করে সকালে তার হাতে দিতে হবে। তিনি তাতে প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর গ্রহণ করবেন। এম মোকাম্মেল হকের এ গতির সঙ্গে যারা নিজেদের মেলাতে পারতেন না, তারা কটুকাটব্য করতেন। আমি তা বেশ উপভোগ করতাম। সে বৈঠকে যে প্রশংসা প্রেসিডেন্ট শুনেছেন, অন্তত সেদিন তিনি খানিকটা হলেও লজ্জাও পেয়েছেন। অত্যন্ত সাদাসিধে কিন্তু দৃঢ়কণ্ঠের কিছু কথায় সেদিনের বৈঠকে যিনি ভারসাম্য এনে দিলেন তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর। তার নাম শেগুফতা বখত চৌধুরী। শেগুফতা নামের একটি মেয়েকে চিনতাম বলেই তার নামটা আমার কাছে মেয়েলি নামই মনে হয়েছে। তবে তিনি যেহেতু এস বি চৌধুরী নামেই পরিচিত ছিলেন, ‘শেগুফতা’ নামটি অনেকেরই অজানা থাকার কথা। বৈঠকে কৃষকদের নির্দিষ্ট অঙ্ক পর্যন্ত ঋণের সুদ মওকুফের একটি প্রস্তাব কার্যপত্রেই ছিল। কিন্তু আলোচনাপর্বে প্রেসিডেন্টের প্রশংসা করতে করতে ‘প্রিন্সিপাল অ্যামাউন্টসহ ইন্টারেস্ট’ মওকুফের জন্য মন্ত্রীদের কেউ কাকুতি-মিনতি করতে থাকেন। এটাকে সমর্থন করেননি সদস্য সচিব, তবে যথার্থই বলেছেন : মহামান্য রাষ্ট্রপতি, আপনি যাদের কোটি টাকা ঋণ দেন খেলাপি হয় তারাই। কিন্তু পাঁচ-দশ হাজার টাকা ঋণ নেওয়া কৃষক খেলাপি হয়ও না, সাহসও পায় না। এবার প্রেসিডেন্ট গভর্নরকে বললেন, গভর্নর সাহেব, আপনি বলুন। শেগুফতা বখত চৌধুরী প্রেসিডেন্টের উদ্যোগের সীমিত প্রশংসা করে বললেন, স্যার এই দেশ আপনার, এই দেশের গরিব কৃষকও আপনার। এই দেশের ব্যাংক এবং ব্যাংকার তারাও আপনার। ব্যাংক একটি প্রতিষ্ঠান, এই প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব পদ্ধতি ও শৃঙ্খলা রয়েছে। যেভাবে আলোচনা হচ্ছে তা করতে হলে ব্যাংকিং ইনস্টিটিউশন ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আপনি নিশ্চয়ই স্যার আপনার নিজের প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি চাইবেন না। প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি না করেও কৃষকের সহায়তা করার পথ বের করা যাবে। প্রেসিডেন্ট দ্বিধাগ্রস্ত অবস্থায় বললেন, তাহলে এই বৈঠকে এটা থাক।

আমার কার্যবিবরণী লেখা শেষ করে ভূমি সচিবের হাতে দিয়ে আমার মতো এত কনিষ্ঠের জন্য সমীচীন হচ্ছে না জেনেও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে ফোন করলাম। তিনি সচিব ছাড়া অন্য কারও সঙ্গে কথা বলবেন কেন কিন্তু তিনি কথা বললেন এবং যখন বিকল্প কোন সহায়তার কথা তিনি ভেবেছেন জিজ্ঞেস করলে বললেন, সবচেয়ে সহজটা হচ্ছে কোনো খাতের অব্যয়িত অর্থ থেকে কৃষি সহায়তার জন্য একটি থোক বরাদ্দ ডিসিদের দেবেন, একটি লিড ব্যাংক তাকে সহায়তা করবে। ঋণের সুদের টাকাটা প্রকৃত ঋণগ্রহীতার পক্ষে ব্যাংকে জমা দিয়ে দিলে কৃষক সুদের দায় থেকে মুক্ত হবে। সরকার যদি মূল টাকার ঋণ থেকেও তাকে মুক্ত করতে চায়, তাহলে সে টাকাও দিয়ে দিতে পারে। আমি আমার তখনকার বিবেচনায় অনেকটা না বুঝেই বললাম, তাতে কী লাভ হলো? যেভাবেই যাক রাষ্ট্রেরই তো টাকা। গভর্নর বললেন, কিছু টাকার চেয়ে ‘ব্যাংকিং ইনস্টিটিউশন’টার মূল্য অনেক বেশি। এটাও ছিল আমার জন্য একটি বড় শিক্ষা। প্রতিষ্ঠানকে প্রতিষ্ঠানের মতো বেড়ে উঠতে দিতে হবে, কাঠামোকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এমন কোনো সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া যাবে না। লোকরঞ্জনবাদী জনপ্রিয়তা কিংবা চটকদার রাজনীতির ফায়দা হাসিলের জন্য রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার রাজনৈতিক অভিসন্ধি ও কায়েমি স্বার্থবাদ বরাবরই ছিল কিন্তু তা প্রতিহত করতেন প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। সম্ভবত সে ধরনের প্রধান নির্বাহীদের একজন ছিলেন শেগুফতা বখত চৌধুরী। তার অন্য কোনো কার্যক্রম কাছ থেকে দেখার সুযোগ আমি পাইনি। তবে এস বি চৌধুরীর সহকর্মীদের কাছ থেকে তার দৃঢ়তার কথা শুনেছি।

সেই গভর্নর চৌধুরী ১১ নভেম্বর ২০২০ প্রয়াত হলেন। তার জন্ম ১৯৩১ সালে। ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের অর্থনীতির ছাত্র শেগুফতা বখত বাংলাদেশ ব্যাংকের চতুর্থ গভর্নর (প্রথম : এ এন এম হামিদউল্লাহ, দ্বিতীয় : এ কে নাজিরউদ্দীন আহমেদ, তৃতীয় : মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম), ১৯৮৭-এর এপ্রিল থেকে শুরু করে ১৯৯২-এর ডিসেম্বর পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেছেন। বিচারপতি সাহাবুদ্দীনের নেতৃত্বাধীন প্রথম তত্ত্বাবধায়ক সরকারেও তিনি উপদেষ্টা ছিলেন। কৌতূহলী পাঠকের জন্য একটি তথ্য : সৈয়দ মুজতবা আলী ছিলেন শেগুফতা বখত চৌধুরীর আপন মামা। তারপর যারা গভর্নর হয়েছেন, তাদের সবার সঙ্গেই আমার কমবেশি দেখা-সাক্ষাৎ হয়েছে। সে প্রসঙ্গ পরে আনা যাবে, কিন্তু তার আগের একজন গভর্নর এ কে নাজিরউদ্দীন আহমেদের কাছে তার মৃত্যুর ক’বছর আগে (জন্ম ১৯৩১, মৃত্যু ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬) আমাকে নিয়ে গিয়েছিলেন ডেইলি স্টারের ‘ক্রসটক’খ্যাত মোহাম্মদ বদরুল আহসান। (বদরুল পরে ফার্স্টনিউজ সাপ্তাহিকের সম্পাদক ছিলেন। অকালমৃত্যু ঘটেছে আমাদের এই মেধাবী বন্ধুটির; একসময় তিনি ছিলেন স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের কর্মকর্তা)। তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন। নাজিরউদ্দীন আহমেদ আমাকে তার লেখা ‘অব ডিরেগুলেশন অ্যান্ড সেন্ট্রাল ব্যাংক অটোনমি’ নামের গ্রন্থটি দিয়েছিলেন এবং ইঙ্গিতে বললেও তিনি ব্যাংকিং মাফিয়া চক্র এবং ক্ষমতাসীনদের পারস্পরিক নির্ভরশীলতায় বৃত্তাবদ্ধ থাকার আতঙ্কজনক পরিস্থিতির কথা বলেছেন। তিনি তার একদা নিজের প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ব্যাংক প্রসঙ্গে বলেছেন, এর নির্বাহী হওয়ার প্রস্তাব রাজনীতিবিদ কিংবা বুদ্ধিজীবীর নিজে থেকেই প্রত্যাখ্যান করা উচিত ‘দিজ ইজ নট দেয়ার কাপ অব টি’। নাজিরউদ্দীন আহমেদের অকালপ্রয়াত কন্যা রামিনার সঙ্গে আমার পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন জনপ্রিয় সংবাদপাঠক তাহমিনা জাকারিয়া।

* * *

অপ্রাসঙ্গিক হবে না যদি আমি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আরও দুজন অধিকর্তার কথা বলি। আমার বিলেত বাসকালে (১৯৯৩-১৯৯৬) তাদের একজনকে একবার দূর থেকে দেখেছি, তবে হাসিমুখ এই মানুষটিকে খবরের কাগজে প্রায়ই এবং এক আধবার টেলিভিশনেও দেখেছি। হাসিমুখই তার ব্র্যান্ড। তার নাম এডি জর্জ, ১৯৯৩ থেকে ২০০৩ দশ বছরের বেশি সময় ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের গভর্নর ছিলেন। ব্যাংকিং শৃঙ্খলার প্রশ্নে তিনি ‘স্টেডি এডি’ বা অনড় এডি নামে পরিচিত ছিলেন। তার প্রাথমিক পরিচিতি অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকার। ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমানুয়েল কলেজে অর্থনীতি পড়েছেন। চাকরির শুরু ব্যাংক অব ইংল্যান্ডেই ১৯৬২ সালে। প্রথম দিকে পূর্ব ইউরোপ তার দায়িত্বভুক্ত হয়, ৯ মাস সোভিয়েত ইউনিয়নে ছিলেন, রুশ ভাষায় তার দক্ষতাই তার বিরুদ্ধে গোয়েন্দাগিরির অভিযোগ তোলার অন্যতম কারণ। তিনি ১৯৭৭-৮০ ব্যাংকের ডেপুটি চিফ ক্যাশিয়ার, ১৯৮০-৮২ অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর, ১৯৮২-৯০ এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর, ডেপুটি গভর্নর ১৯৯০ থেকে ১৯৯৩ আর ১৯৯৩ থেকে ২০০৩ গভর্নর। ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের ৩৮০ বছরের ইতিহাসে তিনি প্রথম রাজনীতির প্রভাব বলয়ের বাইরে থেকে ব্যাংকের সুদ ব্যবস্থাপনা পরিচালনা করেছেন। ব্রিটিশ রক্ষণশীল বলয়ে একালের অর্থনীতিবিদ ব্যাংকাররা স্বীকার করেন প্রকৃত অর্থে এডি জর্জই প্রথম স্বাধীন ‘আধুনিক ব্যাংকার অব সেন্ট্রাল ব্যাংক’ আর ঠিক আগের দশ বছর গভর্নর ছিলেন রবিন লেহ-পেম্বারটন গভর্নর অবস্থায় তাকে দেখাত প্রতিটি ইঞ্চি লর্ড লেফটেন্যান্টের মতো; আর পোস্ট অফিসের কেরানির সন্তান এডি জর্জকে মনে হতো ‘গায়ে খাটা ব্যাংক ম্যানেজার’। তার সময়ই বিসিসিআই এবং বেয়ারিং ব্যাংক ডুবলেও তার সুকৃতি এসব ব্যর্থতা মøান করে দিয়েছে। চ্যান্সেলর অব এক্সচেকার টোরি দলের কেম ক্লার্কের সঙ্গে নীতিগত এত মিল দেখা যেত যে, তখন ঠাট্টা করা হতো ‘দ্য কেম অ্যান্ড এডি শো’ তারপরও সরকারকে তোয়াক্কা না করে পেশাজীবীর মতো চালিয়ে নিতে নিতেই তিনি অভ্যস্ত হয়ে ওঠেন। লেবার দলের চ্যান্সেলর অব এক্সচেকার গর্ডন ব্রাউন তার ওপর এতটাই বিরক্ত ছিলেন যে, গভর্নর বদল করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তারই হাতে অধিকতর স্বাধীনতা দিয়ে এডিকে দ্বিতীয় পাঁচ বছরের জন্য গভর্নর করা হয়। নতুন ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস অ্যাগ্রিমেন্ট ব্যাংকের ওপর থেকে সরকারের তপ্ত নিঃশ্বাস দূর করে দেয়। ব্যাংক পর্ব শেষ করার পর তাকে ব্যারন করা হয়, তখন তিনি লর্ড জর্জ। ১৮ এপ্রিল ২০০৯ ক্যানসার আক্রান্ত অবস্থায় সত্তর বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন।

১৯৬৬ থেকে ১৯৭৩ সাত বছর ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের গভর্নর ছিলেন লেসলি ও’ব্রায়েন (১৯০৮-১৯৯৫), তার ক্ষেত্রে একটি অবিশ^াস্য অর্জন হচ্ছে মাত্র স্কুল পাস একটি বালক এসে ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের সবচেয়ে নিচু পদের একটিতে যোগ দেন ১৯২৭ সালে। তার আর বিশ^বিদ্যালয় পাঠ নেওয়া হয়নি। তিনি চাকরি করতে করতে একধাপ একধাপ করে উঠে ১৯৫৫ সালে হলেন ব্যাংকের চিফ ক্যাশিয়ার, ১৯৬৬ সালে ডেপুটি গভর্নর এবং সে বছরই গভর্নর তিনি ৪৪ বছর ব্যাংক অব ইংল্যান্ডে কাজ করেছেন। ১৯৬৭ সালে গভর্নর হিসেবে তার হাতে পাউন্ড স্টার্লিং ডিভ্যালুয়েশন অর্থনীতিতে ইতিবাচক মোড় এনে দিয়েছে। তিনি সরকারের আর্থিক কর্মকা- নিয়ে সমালোচনামুখর ছিলেন পরিস্থিতি এমনই ছিল তখন ব্যাংকের জন্য তার চেয়ে দক্ষ ও চৌকস কাউকে পাওয়া অসম্ভব ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তখনকার চ্যান্সেলর অব এক্সচেকার এবং সরকারের কাজে গভর্নরের হস্তক্ষেপ ও ডিকটেশনে বিব্রত হতেন। তারপরও তাকে রাখতে হয়েছে, লেসলি যা করছেন দেশের স্বার্থেই করছেন। এমন পেশাজীবীই কি প্রত্যাশিত নয় কী বলেন, গভর্নর সাহেব?

লেখক সাবেক সরকারি কর্মকর্তা ও কলামনিস্ট

momen98765@gmail.com