ট্রাম্পের কারণেই আরও লাখো মৃত্যুর শঙ্কা বাইডেনের

করোনা বিপর্যস্ত যুক্তরাষ্ট্রে ইতিমধ্যে শনাক্ত হওয়া কভিড-১৯ রোগীর সংখ্যা ১ কোটি ১৫ লাখ ছাড়িয়েছে। মৃত্যু হয়েছে অন্তত আড়াই লাখের বেশি মানুষের। এই অবস্থায় কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা আরও দ্রুতগতিতে বাড়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের সঙ্গে এবার সুর মেলালেন দেশটির নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনও। আর তিনি এজন্য সরাসরি দোষারোপ করলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে।

গত সোমবার নিজ শহর ডেলওয়্যারে দেওয়া এক বক্তৃতায় উভয় পক্ষের আহ্বান সত্ত্বেও ট্রাম্পের পরাজয় স্বীকার না করার, একগুঁয়েমিকে ‘পুরোপুরি দায়িত্বজ্ঞানহীন’ আচরণ বলে মন্তব্য করেছেন জো বাইডেন। বাইডেন বলেছেন, করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে সমন্বয় সাধন করা দরকার। অথচ ট্রাম্প সে কাজে বাধা দিচ্ছেন।

এ কারণে টিকা সরবরাহের কাজ বিলম্বিত হতে পারে উল্লেখ করে বাইডেন বলেন, তার সম্ভাব্য প্রশাসনের কাজ ডোনাল্ড ট্রাম্পের মাধ্যমে বাধাগ্রস্ত হতে থাকলে ‘আরও লোক মারা যেতে পারে’। যুক্তরাষ্ট্রের ইলেকটোরাল কলেজে ৩০৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন বাইডেন। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ের জন্য ডেমোক্রেটিক এ প্রার্থীর ন্যূনতম ২৭০ ইলেকটোরাল ভোট দরকার ছিল। কিন্তু তা সত্ত্বেও ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বারবার নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ এনে নিজেকে জয়ী দাবি করছেন। বলছেন, নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফলের আরও অনেক বাকি। নতুন প্রশাসনের হাতে দায়িত্ব হস্তান্তরেরও কোনো উদ্যোগ নেই তার। বাইডেন শিবির ক্ষমতা হস্তান্তরের যে উদ্যোগ নিয়েছে তাতেও কোনো সহায়তা করছে না ট্রাম্প প্রশাসন।

যুক্তরাষ্ট্র সরকারের যে সংস্থা নতুন প্রেসিডেন্টের জন্য ট্রানজিশন প্রক্রিয়াগুলো শুরু করার দায়িত্ব পালন করে সেই জেনারেল সার্ভিসেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনও (জিএসএ) বাইডেন ও তার রানিং মেট কমলা হ্যারিসের জয়কে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়নি।

এ কারণে নিয়ম অনুযায়ী সম্ভাব্য পরবর্তী প্রশাসনকে যে সব বিষয়ে অবহিত করার কথা তা শুরু হয়নি, বাইডেন ও হ্যারিসও সরকারের স্পর্শকাতর ব্রিফিংয়ের বাইরে রয়ে গেছেন।

এই অবস্থায় দেশটিতে করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে বাইডেন যেসব পদক্ষেপ নিতে চাইছেন তা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। করোনার টিকা সরবরাহে সেনাবাহিনীকে কাজে লাগানোর বাইডেনের যে পরিকল্পনা তাও ব্যাহত হচ্ছে ট্রাম্পের এই একগুঁয়েমির কারণে।

এ নিয়ে বাইডেন বলেছেন, কেউ কি এটা বুঝতে পারছেন? এটি জীবন বাঁচানোর বিষয়, বাস্তবেই, এটি অতিরঞ্জিত কোনো কথা না। আমরা সমন্বয় না করলে আরও লোক মারা যেতে পারে।

সারা দেশে টিকা বিতরণের কর্মসূচিকে তিনি ‘বিরাট, বিরাট দায়িত্ব’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেছেন, তার টিমকে যদি ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত (ক্ষমতা গ্রহণের দিন) অপেক্ষা করতে হয়, সে পর্যন্ত যদি তারা বিতরণ কর্মসূচিতে কাজ শুরু করতে না পারেন তাহলে তারা ‘এক মাসেরও বেশি, দেড় মাস’ পিছিয়ে পড়বেন।

বাইডেনের এই কথা সত্যি হলে এখন থেকে টিকা বিতরণ শুরু হতে আরও অন্তত ৩ মাসের বেশি সময় লাগবে। সেক্ষেত্রে শীত শুরু হয়ে যাওয়ায় দেশটিতে করোনাভাইরাসের চলমান যে ভয়াবহতা তা আরও বাড়বে তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

আন্তর্জাতিক জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ডোমিটারসের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, চলতি নভেম্বর মাসের শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে করোনা রোগী শনাক্তে উল্লম্ফন হয়েছে। এই মাসের প্রায় সব কয় দিনই লাখের বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে দেশটিতে। কোনো কোনোদিন এই সংখ্যা ১ লাখ ৮০ হাজারও ছাড়িয়েছে গেছে। দেশটিতে এখনো হাসপাতাল বা বাসায় চিকিৎসাধীন আছে প্রায় ৪০ লাখ করোনা রোগী।

এপ্রিল-মে মাসের তুলনায় মৃত্যু কিছুটা কমলেও গড়ে হাজারের বেশি করোনা আক্রান্তের মৃত্যু হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে। এই হিসাবে এখনই টিকার ব্যবস্থা করা না গেলে এই সংখ্যা কয়েকগুণ বাড়বে। বাইডেনের আশঙ্কা মতো আগামী তিন মাসের মধ্যেও করোনার টিকা সরবরাহ করা না গেলে এই সময়ের মধ্যে লাখো মানুষের মৃত্যু হতেই পারে। তার জন্য দায়ী থাকবেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পই।