ডিআরইউতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী

হাসিনা-মোদি বৈঠকে তিস্তা নিয়ে চমক থাকবে না

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বৈঠকে তিস্তা নিয়ে কোনো ম্যাজিক বা চমক থাকছে না। তবে ওই বৈঠকে চারটি সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন। গতকাল বুধবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে তিনি এ তথ্য জানান। ডিআরইউর সভাপতি রফিকুল ইসলাম আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ চৌধুরী।

ডিআরইউতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এখানে (হাসিনা-মোদি বৈঠকে) কোনো ম্যাজিক থাকবে না। হঠাৎ করে এটি (তিস্তা চুক্তি) সই হবে, এটি আমরা মনে করি না। তবে যেটা হবে তিস্তাটা মোটামুটি রেডি হয়ে আছে। আপনারা জানেন, এর চুক্তি সম্মত হয়ে আছে। কিন্তু সই হয়নি। ভারত সরকার কখনো বলেনি যে এটি তারা সই করবে না। তারা যেটা বলছে, তাদের ‘অভ্যন্তরীণ সমস্যা’র কারণে সই করতে পারছে না। এটি ওই পর্যায়ে আছে। নতুন কোনো অগ্রগতি হয়নি। নদী বিষয়ে একটি টেকনিক্যাল কমিটি আগামী মাসে ভারতে যাবে এবং আলাপ করবে। বাকি সাতটি নদীর বিষয়েও একটি কাঠামো নিয়ে আলোচনা হবে।

বৈঠকে চারটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হতে পারে জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বৈঠকের এখনো তারিখ ঠিক হয়নি। সম্ভবত হতে পারে ১৭ ডিসেম্বর। আমাদের পররাষ্ট্র সচিব ভারতে যাবেন আগামী মাসে। তখন তারিখ ঠিক হবে। এটি প্রধানত আমাদের সম্পর্ককে চাঙ্গা করা। ১৬ ডিসেম্বর যেমন আমাদের অর্জন, তেমনি ভারতেরও অর্জন।’

রাজনীতিবিদরা নয়, বিদেশে বেশি অর্থ পাচার করে সরকারি কর্মচারীরা জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গোপনে কানাডার টরন্টোতে অবস্থিত বাংলাদেশিদের বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হয়েছে। আমার ধারণা ছিল রাজনীতিবিদদের সংখ্যা বেশি হবে। কিন্তু আমার কাছে যে তথ্য এসেছে, যদিও এটি সামগ্রিক তথ্য নয়, সেটিতে আমি অবাক হয়েছি। সংখ্যার দিক থেকে আমাদের অনেক সরকারি কর্মচারীর বাড়িঘর সেখানে বেশি আছে এবং তাদের ছেলেমেয়েরা সেখানে থাকে। আমার কাছে ২৮টি কেস এসেছে এবং এর মধ্যে রাজনীতিবিদ হলেন চারজন। এ ছাড়া কিছু আছেন আমাদের তৈরি পোশাকশিল্পের ব্যবসায়ীরা। আমরা আরও তথ্য সংগ্রহ করছি।’

তিনি আরও বলেন, শুধু কানাডা নয়, মালয়েশিয়ায়ও একই অবস্থা। তবে তথ্য পাওয়া খুব কঠিন। বিভিন্ন মিডিয়ায় যে তথ্য বের হয়, হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার হচ্ছে, আসলে সংখ্যাটি তত নয়। এর জন্য বিদেশি সরকারও কিছুটা দায়ী। যেমন সুইজারল্যান্ডে কে ব্যাংকে টাকা রাখল, সেই তথ্য আমাদের দেয় না। তারা ট্রান্সপারেন্সির কথা বলে, কিন্তু যদি বলি কার কার টাকা আছে, সেই তথ্য দাও, তখন তারা দেয় না। এটি একটি ডাবল স্ট্যান্ডার্ড।