পি কে হালদারকে দেশে আনার পদক্ষেপ জানতে চায় হাইকোর্ট

সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠার পর কানাডায় পাড়ি দেওয়া এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক ও রিলায়েন্স ফাইন্যান্স লিমিটেডের সাবেক এমডি পি কে হালদারকে দেশে ফিরিয়ে আনতে এবং তাকে গ্রেপ্তারে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা জানতে চেয়েছে উচ্চ আদালত। গতকাল বৃহস্পতিবার বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে রুলসহ এ আদেশ দেয়। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যানকে ১০ দিনের মধ্যে এ বিষয়ে জানাতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে পি কে হালদারকে দেশে ফিরিয়ে আনতে কিংবা গ্রেপ্তারে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না সে ব্যাখ্যা দিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, এ মর্মে রুল দিয়েছে হাইকোর্ট। দুদক চেয়ারম্যান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব ও ঢাকা জেলা প্রশাসককে ১০ দিনের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। ভিডিও কনফারেন্সে দুদকের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মো. খুরশিদ আলম খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক।

শুনানিকালে পি কে হালদারের বর্তমান অবস্থান এবং আত্মসাৎ করা অর্থ তিনি দেশের বাইরে পাঠিয়েছেন কি না আদালতের এমন প্রশ্নের জবাবে অ্যাডভোকেট খুরশিদ আলম খান জানান, দেশে আসার কথা বলেও তিনি আসেননি। এখন ইন্টারপোলের মাধ্যমে তাকে ধরে আনার চেষ্টা চলছে। এছাড়া আত্মসাৎ করা অনেক অর্থ তিনি বিদেশে পাঠিয়েছেন। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে। বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারক এ সময় বলেন, ‘কেউ দেশের হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার করবে, জাতিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাবে, ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকবে, এটা মগের মুল্লুক নাকি!’ আদালত আরও বলে, ‘কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। তাকে অবশ্যই দেশে ফিরিয়ে আনতে হবে, আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে হবে। তাকে অবশ্যই জবাবদিহি করতে হবে।’

এর আগে গত ২১ অক্টোবর হাইকোর্টের এই বেঞ্চ এক আদেশে পি কে হালদার দেশে ফেরার সঙ্গে সঙ্গে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার নির্দেশ দেয়। একই সঙ্গে তিনি যাতে নিরাপদে দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণ করতে পারেন, সে ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়।

পি কে হালদার প্রথমে রিলায়েন্স ফাইন্যান্স ও পরে এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের এমডি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ব্যাংকবহির্ভূত আরও চারটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান নিজ কর্তৃত্বে ও নিয়ন্ত্রণে নেন। পরে এসব প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণের নামে সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগ উঠে পি কে হালদার ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। অবৈধ ব্যবসা ও কার্যক্রমের মাধ্যমে পৌনে ৩০০ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে পি কে হালদারের বিরুদ্ধে গত ৮ জানুয়ারি মামলা করে দুদক। অভিযোগ ওঠার পরপরই কানাডায় পাড়ি দেন তিনি। চলতি বছরের শুরুর দিকে পি কে হালদার ও তার পরিবারের কয়েকজন সদস্যসহ ২০ জনের ব্যাংক হিসাব ও পাসপোর্ট জব্দের নির্দেশ দেয় উচ্চ আদালত।