চাঁপাইনবাবগঞ্জে ধানবোঝাই ভটভটি খাদে

রুজি রোজগার নিয়ে বাড়ি ফেরা হলো না ৯ শ্রমিকের

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলায় ধানবোঝাই একটি ভটভটি উল্টে রাস্তার পাশের ডোবায় পড়ে ৯ কৃষিশ্রমিক নিহত হয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৬টার দিকে উপজেলার বারেক বাজার আঞ্চলিক সড়কের ভাঙাসাঁকো এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ সময় আরও তিনজন আহত হয়েছেন।

নিহতরা হলেন শিবগঞ্জ উপজেলার বালিয়াদীঘি গ্রামের এরফান আলীর ছেলে বাবু, শেখ মোহাম্মদের ছেলে তাজেমুল হক ও তার ছেলে মিঠুন, কাবিল উদ্দিনের ছেলে কারিম, আমানুলের ছেলে মিজানুর রহমান মিলু, নওশাদের ছেলে আবুল কাশেম, লাওঘাটা গ্রামের রহমানের ছেলে আতাউর রহমান, আজিমুল হকের ছেলে আহাদ আলী এবং হযরত আলীর ছেলে আবদুল লতিফ। নিহত সবাই নওগাঁর নিয়ামতপুর থেকে ধান কাটা শেষে ভটভটিতে ধান সঙ্গে নিয়ে ফিরছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, নওগাঁর নিয়ামতপুর এলাকার বরেন্দ্র অঞ্চল থেকে ধান কেটে বাড়ি ফিরছিলেন শিবগঞ্জ উপজেলার বালিয়াদীঘি ও লাওঘাটা গ্রামের কৃষিশ্রমিকরা। সকাল ৬টার দিকে ধানবোঝাই ভটভটিটি বারেক বাজারের ভাঙাসাঁকোর কাছে এলে ভাঙা সড়কে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাশের ডোবায় পড়ে যায়। এ সময় ভটভটিতে থাকা ১৬ কৃষিশ্রমিকের ১১ জনই ধানের বস্তার নিচে চাপা পড়েন। এতে নয়জনের প্রাণহানি ঘটে। নিহতদের মধ্যে সাতজনই বালিয়াদীঘি গ্রামের।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক সাবের আলী প্রামাণিক দেশ রূপান্তরকে বলেন, খবর পেয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় উদ্ধারকাজ শুরু করে। দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই আটজন মারা যান। একজন অ্যাম্বুলেন্সযোগে শিবগঞ্জ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে মারা গেছেন। তিনি আরও বলেন, ভটভটিটি ধানের বস্তায় ওভারলোডেড ছিল। তার ওপর শ্রমিকরা। ধারণা করা হচ্ছে, অতিরিক্ত ধান বহন ও জরাজীর্ণ রাস্তার কারণে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায়।

স্থানীয়রা জানান, ভোরের আলো ফোটার আগেই দুর্ঘটনার কবলে পড়া কৃষিশ্রমিকদের আত্মচিৎকারে তারা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। বস্তার নিচে পড়া শ্রমিকদের উদ্ধার শুরু করেন। মরদেহ উদ্ধারের পর স্থানীয় প্রশাসন সকালেই তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে বলেও জানান তারা।

বেহাল সড়ক কাল হলো : চাঁপাইনবাবগঞ্জ-সোনামসজিদ মহাসড়কের লিংক ধরে শিবগঞ্জ উপজেলার দাইপুকুরিয়া ইউনিয়নের আঞ্চলিক সড়কের নাম বারেক বাজার সড়ক। মহাসড়কের পর পিচ ঢালাইয়ের এ আঞ্চলিক সড়কটির বারেক বাজার এলাকায় ভাঙাসাঁকোর অবস্থান। সড়কের একধারে পুকুর অন্যধারে জলাশয়। পুকুরের পাড়ঘেঁষে যাওয়া অংশটি দীর্ঘদিন ধরেই ভাঙা। কোনো অংশে সড়কের ধার থেকে মাটি সরে গেছে। আবার কোনো অংশে দেবে গিয়ে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।

বারেক বাজার এলাকার শমসের আলী বলেন, ‘সড়কটি বরেন্দ্র অঞ্চলের আবাদি জমিতে যোগাযোগের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। প্রতিদিন কৃষিপণ্যবাহী প্রচুর ইঞ্জিনচালিত ভটভটি ও অন্যান্য যান চলাচল করে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে রয়েছে। সড়কটি সংস্কারের জন্য বারবার ইউনিয়ন পরিষদে ধরনা দিয়েও লাভ হয়নি।’ স্থানীয়রা জানান, বারেক বাজার সড়কের বিভিন্ন অংশে দেবে যাওয়া ও গর্ত সৃষ্টির ফলে মাঝেমধ্যেই দুর্ঘটনা ঘটে।

তীরেই ডুবল তরী : সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে সাতজনই সোনামসজিদ বালিয়াদীঘি গ্রামের। জীবিকার তাড়নায় তারা ধান কাটতে গিয়েছিলেন নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলায়। বালিয়াদীঘি থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট ও গোমস্তাপুর উপজেলা পেরিয়ে নিয়ামতপুর উপজেলা। সেই নিয়ামতপুর উপজেলা থেকে ধান কাটার কাজ করার পর পারিশ্রমিক হিসেবে পাওয়া ধান নিয়ে রাত আড়াইটার দিকে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন কৃষিশ্রমিকরা। তাদের ভটভটিতে ছিল ৭৫ বস্তা ধান। দীর্ঘ শ্রমের বিনিময়ে অর্জিত ধান নিয়ে একেবারে বাড়ির কাছে এসেই জীবন প্রদীপ নিভে গেল হতদরিদ্র শ্রমিকদের। দুর্ঘটনাস্থল বারেক বাজার থেকে বালিয়াদীঘির দূরত্ব মাত্র ৪ থেকে ৫ কিলোমিটার। এ পথটুকু পেরোলেই ধান নিয়ে স্বজনদের মাঝে ফিরতে পারতেন হতদরিদ্র শ্রমিকরা।

শোকের ছায়া, লাশের মিছিল : গতকাল দুপুর ২টার কিছু পর বালিয়াদীঘির মসজিদের মাইকে ইমাম সাহেবের ঘোষণা, ‘আজ শোকের মাঝে গোটা বালিয়াদীঘিবাসী। মর্মান্তিকভাবে মারা যাওয়া ভাইদের লাশ এখন গোরস্তান অভিমুখে রওনা করবে। আপনাদের সবাইকে যাওয়ার জন্য বলা হলো।’ ইমামের এ ঘোষণার পর একে একে বাড়ি থেকে বের হতে শুরু করল মরদেহবাহী খাটিয়া।

খাটিয়াগুলো যখন গোরস্তান অভিমুখে যাচ্ছিল তখন মনে হচ্ছিল লাশের মিছিল যাচ্ছে। চারদিকে আহাজারি আর মাতম। দূর-দূরান্তের শোকাতুর হাজার হাজার মানুষ সমবেদনা জানাতে এসে ভিড় করেন মারা যাওয়া বালিয়াদীঘির সাত কৃষিশ্রমিকের বাড়িতে। গ্রামের তামিম হোসেন বলেন, ‘আমার গ্রামে একসঙ্গে সাতজনের মৃত্যুর ঘটনা এই প্রথম। মারা যাওয়া সাতজনের মধ্যে ছয়জনই তরতাজা যুবক। চোখের সামনে চলাফেরা করা যুবকরা আজ লাশ। মেনে নিতে খুবই কষ্ট হচ্ছে।’

এদিকে দুপুর আড়াইটায় সোনামসজিদ স্থলবন্দরসংলগ্ন মাঠে সাতজনের জানাজা শেষে বালিয়াদীঘি কেন্দ্রীয় গোরস্তানে তাদের দাফন করা হয়েছে। জানাজায় অসংখ্য মানুষ অংশ নেন।

দুর্ঘটনার পর চাঁপাইনবাবগঞ্জের পুলিশ সুপার এইচএম আবদুর রকিব, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক তাজকির উজ জামানসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাকিব আল রাব্বী জানান, নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১০ হাজার টাকা প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া চিকিৎসার জন্য অ্যাম্বুলেন্স পরিবহন খরচও বহন করা হবে।

একসঙ্গে বিধবা হলেন বউ-শাশুড়ি: গরিবের সংসার। টানাটানির কারণে নওগাঁর নিয়ামতপুরে ধান কাটতে গিয়েছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার বালিয়াদীঘি গ্রামের তাজমুল হক (৫০) ও তার ছেলে মিঠুন (২৩)। সেই ধান দিয়েই চলত তাদের সারা বছরের খাবার। ধান আনতে গিয়ে গতকাল লাশ হয়ে ফিরলেন বাবা-ছেলে। আর একসঙ্গে বিধবা হলেন বউ-শাশুড়ি।

গতকাল সকাল ৬টার দিকে শিবগঞ্জ উপজেলার বারিক বাজার আঞ্চলিক সড়কের ভাঙাসাঁকো এলাকায় ধানবোঝাই ভটভটি উল্টে রাস্তার পাশের ডোবায় পড়ে ৯ কৃষিশ্রমিক নিহত হন। তাদের মধ্যে রয়েছেন তাজমুল ও মিঠুন।

উপার্জনক্ষম দুজনকে হারিয়ে বেসামাল তাজমুলের পরিবার। চলছে মাতম। মাত্র কয়েক মাস আগেই মিঠুনের সঙ্গে বিবাহে আবদ্ধ হয়ে সংসারে আসেন তাজরিন। স্বামী ও শ্বশুরকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ তিনি। মাঝেমধ্যে হাউমাউ করে কেঁদে উঠছেন। আবার নিশ্চুপ থাকছেন। স্বামী ও ছেলেকে হারিয়ে সানোয়ারা বেগমও পাগলপ্রায়।

মিঠুন পাঁচ মাস আগে বিয়ে করেছিলেন পার্শ্ববর্তী গ্রামের তাজরিনকে। অভাব-অনটনের সংসার হলেও দুজনে নতুন স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। ঘরে ধান থাকলে, কোনো রকমে সারা বছরই চলে যাওয়া যাবে। এমন চিন্তা থেকে নঁওগায় ধান কাটতে যান মিঠুন। ২১ দিন আগে বাবার সঙ্গে ধান কাটতে যান তিনি। সারা দিন ধান কেটে রাতে ঠিকই সময় করে মায়ের সঙ্গে কথা বলতেন মিঠুন। সর্বশেষ মায়ের সঙ্গে কথাও হয়েছিল ধান কাটা শেষ প্রায়, চলে আসবেন তারা।

তাজরিন বলেন, ‘কাল (বুধবার) রাতে তাকে ফোন দিয়ে বলেছিল (মিঠুন) ধান কাটা শ্যাষ। ১০ মণ মতো জিন (মজুরি) পায়াছি। সব ধান একঠে কর‌্যা ল্যিয়া আসছি। তুমি একটা ভ্যান ঠিক কর‌্যা রাখিও, যাতে বাড়ি পর্যন্ত ধান লিয়্যা যাওয়া যায়।’ রাতের পর ফজরের নামাজের একটু আগে ফের ফোন করে তাজরিনকে জানিয়েছিলেন মিঠুন, ‘বাড়ির কাছাকাছি চল্যা অ্যাসছি, ভ্যানটা দিয়্যা পাঠাও।’ এর কিছুক্ষণ পরই তাজরিন জানতে পারেন ধানের ট্রাক্টর উল্টে তার স্বামী মারা গেছেন। দুপুরের দিকে ধান নয়, বাড়িতে এলো প্রিয় মানুষটির মরদেহ। মিঠুনের সঙ্গে থাকা তার বাবা তাজমুলও মারা গেছেন। পরিবারের দুই সদস্যকে হারিয়ে শোকে পাথর স্বজনরা। তাদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে চারপাশ।

মিঠুনরা এতটাই গরিব যে, তাদের বাড়িতে দুটি মরদেহ রাখা ও মরদেহ দেখতে আসা মানুষ দাঁড়াতে পারবে না বলে পাশের একজনের বাড়িতে রাখা হয় তাদের মরদেহ জানান তাজমুলের মামা কামাল উদ্দীন। তিনি বলেন. ‘ওরঘে (মিঠুনদের) বাড়িতে জায়গা হবে না দেখ্যাই তো এখানে লাশ রাখা হয়েছে, ম্যালা মানুষ শেষ দেখ্যা দেখতে আসবে, রহার (দাঁড়াবার) জায়গা হবে না, তাই এখানে রাখছি।’ এ দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়াদের মধ্যে আলিম হোসেনের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, তাকে স্যালাইন দেওয়া হয়েছে। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যান। ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা রাত ২টার দিকে নওগাঁর নিয়ামতপুর থেকে ধান নিয়ে বাড়ি ফিরছিলাম। বারিক বাজারের কাছাকাছি আসলে, রাস্তা ভাঙা থাকার কারণে চালক ব্রেক করেন, কিন্তু গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায়। ভটভটিতে চালকসহ ১৬ জন ছিলাম। আমি চালকের পাশে বসে থাকায় বেঁচে গেছি। উপরে যারা ছিলেন সবাই বস্তার নিচে চাপা পড়েন।’

সকাল হয় স্বামী ফেরে না সুমির : বুধবার রাত তখন প্রায় সাড়ে ৮টা। স্বামীর সঙ্গে শেষ কথা হয় সুমি আক্তারের। ২০ দিন পর বাড়িতে আসবে বলে মোবাইল ফোনে কল দিয়ে খবর দেন হামিদুল হক। স্ত্রীকে বলেছিলেন রাতেই গাড়ি ধরব। সকালে বাড়ি ফিরব। সকাল হয় কিন্তু স্বামী বাড়ি ফেরে না। মোবাইলে ফোন দিয়ে সেটি বন্ধ পান সুমি। দুশ্চিন্তা চাপে মাথায়। এরই মধ্যে খবর আসে বাড়ি থেকে দুই কিলোমিটার দূরে দুর্ঘটনা ঘটেছে। ট্রাক্টর উল্টে অনেকেই মারা গেছেন। খবর পেয়ে ছুটে যান সুমি। সেখানেই খুঁজে পান স্বামী হামিদুলকে। আহত অবস্থায় ছটপট করছেন তিনি। সেখান থেকে আহতদের সঙ্গে হামিদুলকেও উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয় স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। অবস্থা খারাপ হওয়ায় হামিদুলসহ দুজনকে স্থানান্তর করা হয় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে। হামিদুলদের চিকিৎসা চলছে রামেক হাসপাতালের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে। তার অবস্থা এখনো সংকটাপন্ন। যন্ত্রণায় ছটপট করছেন। স্বামীর পাশে সুমিও অস্থির।

শিবগঞ্জ উপজেলার বালিয়াদীঘি গ্রামের রবিউল ইসলামের ছেলে হামিদুল হক। সুমি জানান, রাত শেষে ভোর হতে শুরু করলেও স্বামী আসে না বাড়িতে। চিন্তা বাড়তে থাকে। সকাল হলে ফোন দিতে থাকেন তার ফোনে, সেটিও বন্ধ। এরই মাঝে এলাকায় খবর ছড়িয়ে পড়ে দুর্ঘটনার। ছুটে যান তিনি। স্বামীর জ্ঞান নেই, কথা নেই। যন্ত্রণায় এপাশ-ওপাশ করছেন। পাশেই বসে সুমি চোখ মুছছেন আর বলছেন বারবার ‘রাতেই হাসলো আর ভালো ভালো কথা বললো সকালে এমন হয়ে গেল...।’ হামিদুলের পাশেই অসাড় পড়ে আছেন আরেক আহত আবদুল লতিফ (৫০)। তার পাশে বসে আছেন স্ত্রী নাহার বেগম ও ছেলে আকাশ ইসলাম। আকাশ বলেন, ‘আমার সঙ্গে গত দুই দিন আগে বাবার কথা হয়েছে। আজ আসার কথা ছিল। কিন্তু এই দুর্ঘটনা হয়ে গেল। এখন বাবার জ্ঞান নেই।’

রামেক হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস জানান, লতিফ ও হামিদুলকে ৮ নম্বর ওয়ার্ডে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাদের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। তবে দুজনই কিছুটা শঙ্কার মধ্যে রয়েছেন।