সাভারের জামশিং এলাকায় ছিনতাইয়ে ব্যর্থ হয়ে অটোরিকশা চালক শেখ মিন্টুকে ছুরিকাঘাতে হত্যার চার মাস পর হত্যাকারী আলী হায়দার নাহিদকে (২৮) গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা জেলা পিবিআইয়ের সদস্যরা। এ ঘটনায় জড়িত আরও দুজন পলাতক রয়েছে।
শুক্রবার সকালে ঢাকা জেলা পিবিআই এর কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে সাভার থেকে আলী হায়দার নাহিদকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ১৩ জুলাই সন্ধ্যার পর গ্রেপ্তারকৃত নাহিদসহ আরও দুজন শেখ মিন্টুর ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা ভাড়া করে আশুলিয়ার গেরুয়া হতে জামশিং যাওয়ার পথে কৌশলে অন্ধকার রাস্তা দিয়ে যেতে বলেন। এ সময় চালক শেখ মিন্টু তাদের কথা না মানায় নাহিদ ও তার দুই সহযোগী মিলে শেখ মিন্টুকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে অটোরিকশার ব্যাটারি ছিনতাইয়ের চেষ্টা করে। কিন্তু চালক মিন্টুর চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসায় ছিনতাইকারীরা ব্যর্থ হয়ে পালিয়ে যায়।
পরে অটো চালক শেখ মিন্টুকে উদ্ধার করে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতেই তিনি মারা যান।
এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে ঢাকা জেলা পিবিআই উদ্যোগী হয়ে মামলার তদন্ত শুরু করে এবং চার মাস পর হত্যাকাণ্ডের মূল হোতাকে গ্রেপ্তার করে।
নিহত মিন্টু শেখ নড়াইল জেলার লোহাগড়া থানার পানপাড়া গ্রামের সোলেমান মিয়ার ছেলে। তিনি সাভারের ছায়াবীথি এলাকায় একটি বাড়িতে ভাড়া থেকে অটোরিকশা চালাতেন।
পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিগেশনের ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার মো.খোরশেদ আলম জানান, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত সুইচ গিয়ার চাকুটি পাশের জলাশয়ে ফেলে দেয় নাহিদ। গ্রেপ্তারকৃত নাহিদের স্বীকারোক্তি ও দেখানো স্থান হতে তার স্যান্ডেল ও সুইচ গিয়ার চাকুটি উদ্ধার করা হয়েছে। নাহিদ অটোরিকশার ব্যাটারি ছিনতাই চক্রের দলনেতা। তারা দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় অটোরিকশার ব্যাটারি ছিনতাই করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করে আসছিল।