গর্ভাবস্থায় বিষণ্নতা অবহেলা না করে এর প্রতিকার জরুরি। গর্ভধারণের আগে ও গর্ভাবস্থায় বিষণ্নতা প্রসব পরবর্তী বিষণ্নতা থেকে ভিন্ন। postpartum depression সাধারণত বাচ্চা প্রসবের পর দেখা যায়। বিষন্নতার সঙ্গে মানিয়ে চলা কঠিন, গর্ভাবস্থায় আরও কঠিন হয়ে ওঠে। গবেষণায় দেখা গেছে প্রতি দশজনের মধ্যে ১ জন গর্ভাবস্থায় বিষণ্নতার শিকার হন। চিকিৎসা ছাড়া ঠিক হওয়ার সম্ভাবনা কম। চিকিৎসা নিলে দ্রুতই সুস্থ হওয়া যায়।
কেন হয়?
গর্ভাবস্থায় বিষণ্নতা কেন হয় নির্দিষ্ট করে বলা যায় না। বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে, যেমন হরমোন, গর্ভাবস্থায় মায়েদের শরীরে হরমোন উৎপাদন বেড়ে যাওয়া। এসব হরমোন মস্তিষ্কের সেসব অংশকে প্রভাবিত করে অনুভূতি নিয়ন্ত্রণ করে। অন্যান্য কারণেও বিষণ্নতা দেখা দিতে পারে। অতীতে বিষণ্নতায় ভুগলে বা পরিবারের কারও সমস্যা থাকলে। পূর্ববতী গর্ভধারণের সময় বা প্রসব পরবর্তী বিষণ্নতায় আক্রান্ত হওয়ার ইতিহাস থাকলে পরবর্তী গর্ভধারণের সময় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়।
গর্ভাবস্থায় বিভিন্ন ধরনের শারীরিক সমস্য, মর্নিং সিকনেস, অ্যানেমিয়া, গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস ইত্যাদি কারণে স্বাভাবিকভাবে দুর্বল ও ক্লান্ত হয়ে পড়ে। এই সময়ে হবু মা দুর্বলতা ও ক্লান্তির কারণে স্বাভাবিক কাজকর্ম করতে পারে না। ফলে মনে হতাশা ও বিষণ্নতা তৈরি হয়।
পরিবারের অন্য সদস্যদের থেকে সহযোগিতা না পেলে বা ভালো সম্পর্ক না থাকে। ঐ সময়ে হবু মাকে যদি একা থাকতে হয়। চাওয়া-পাওয়ার টানাপড়েনসহ সম্পর্কে অস্থিরতা তৈরি হয়। যা হবু মাকে বিষণ্ন করে তুলতে পারে।
লক্ষণ
গভীর দুঃখবোধ ও হতাশা।
সবসময় কান্না আসা।
অকারণে অস্থির লাগা।
বিরক্ত বোধ করা, অল্পতেই রাগ হয়ে যাওয়া।
কোনো কিছুতে মনোযোগ দিতে না পারা, বিচ্ছিন্ন বোধ করা।
খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আসা।
বেশি ঘুম বা ঘুমহীন অবস্থার মধ্য দিয়ে যাওয়া।
নিজেকে অকারণে দোষী বা মূল্যহীন ভাবা।
অন্যদের থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখা।
প্রতিকার : মুক্তি পেতে থেরাপি ও চিকিৎসার পাশাপাশি নিজেকে প্রস্তুত করতে হয়। ইচ্ছা না থাকলে মুক্তি পাওয়া অসম্ভব। কাজকর্ম, খাওয়া-দাওয়া, জীবনযাপন, চিন্তা-ভাবনায়ও পরিবর্তন আনতে হবে।
এক্ষেত্রে আপনাকে সাইকিয়াট্রিস্ট বা কাউন্সেলরের সঙ্গে আলোচনা করার পরামর্শ নিতে হবে। বিষণ্নতার ওষুধ হিসেবে গর্ভাবস্থায় antidepressants দেওয়া হতে পারে। তবে এসবের জন্য অবশ্যই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।