পাবনার আমিনপুরে মাছেম মীর হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামিদের ৫৪ ধারায় সন্দেহভাজন হিসেবে আদালতে সোপর্দ করাকে তদন্তকারী কর্মকর্তার গুরুতর অবহেলা ও দায়িত্বহীনতার পরিচয় বলে অভিহিত করেছে আদালত। একই সঙ্গে তদন্তকারী কর্মকর্তা আমিনপুর থানার এসআই আবদুল গাফফারের বিরুদ্ধে কেন আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে না তা জানতে চেয়ে লিখিত জবাব দেওয়ারও নির্দেশ প্রদান করেছেন বিচারক। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে পাবনার আমলি আদালত ৬-এর বিচারক জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম মো. মিলন হোসেন এ আদেশ দেন। আদেশে তাৎক্ষণিকভাবে ৫৪ ধারায় কারাগারে আটক থাকা ওই আসামিদের হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখাতে পদক্ষেপ গ্রহণেরও আদেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মামলাটির বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. আনোয়ার হোসেন।
তিনি আরও জানান, আমিনপুর থানার আহম্মদপুর ইউনিয়নের দক্ষিণচর গ্রামের মাছেম মীরের সঙ্গে জমি নিয়ে একই গ্রামের তোফাজ্জল খানের দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। গত ১৫ নভেম্বর বিকেলে এ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তোফাজ্জল সহযোগীদের সঙ্গে নিয়ে মাছেম মীরকে পেটাতে শুরু করেন। এতে গুরুতর আহত মাছেম মীর (৫৫) বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পর মারা যান। মাছেম মীরকে হত্যার খবর পেয়ে স্থানীয়রা ঘটনাস্থল থেকে তোফাজ্জল, গোলাপী ও তানিয়াকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। পরে রাতে এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই হাসেম মীর বাদী হয়ে আটক তোফাজ্জল ও গোলাপীসহ ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে আমিনপুর থানায় হত্যা মামলা করেন। তবে পুলিশ আটকদের হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার না দেখিয়ে পরদিন (১৬ নভেম্বর) ৫৪ ধারায় সন্দেহভাজন হিসেবে আদালতে সোপর্দ করে। এমন ঘটনার কারণ জানতে চাইলে তদন্ত কর্মকর্তা ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত না হওয়ায় ময়নাতদন্ত রিপোর্টে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হলে ওই আসামিদের হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হবে।
আইনজীবী আনোয়ার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘নিয়মিত হত্যা মামলা রুজু হলে এজাহারনামীয় আসামিদের সন্দেহভাজন হিসেবে আদালতে সোপর্দ করা প্রচলিত আইন পরিপন্থী। ময়নাতদন্তের রিপোর্টপ্রাপ্তির অপেক্ষায় মামলার আসামি গ্রেপ্তার ও তদন্ত কার্যক্রম থেমে থাকতে পারে না। এটি নজিরবিহীন ঘটনা এবং আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। তাই আমার মক্কেলের পক্ষে গত ১৯ নভেম্বর বিষয়টি আদালতে নজরে এনে আটক আসামিদের হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখাতে আবেদন জানাই। আদালত নথি পর্যালোচনা করে আসামিদের মাছেম মীর হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখাতে পদক্ষেপ গ্রহণের আদেশ দেন। একই সঙ্গে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. আবদুল গাফফারের বিরুদ্ধে তদন্তে অবহেলার জন্য কেন আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না জানতে চেয়ে ২৫ নভেম্বরের মধ্যে লিখিত কারণ দর্শানোর আদেশ দেন।’
আদালত আদেশের কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ ও অবগতির জন্য রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি, পাবনার পুলিশ সুপার, আমিনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক ও এসআই আবদুল গাফফারের কাছে অনুলিপি পাঠিয়েছে বলেও জানান এ আইনজীবী।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আবদুল গাফফার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আসামিদের হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। সোমবার আবেদন আদালতে প্রেরণ করা হবে।’ আগের বক্তব্য অনুযায়ী ময়নাতদন্ত রিপোর্ট না পেলেও এখন কেন গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সিনিয়র অফিসারের নির্দেশে গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে।’
অন্যদিকে আমিনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আদালতের আদেশ এখনো আমাদের হাতে পৌঁছেনি। তবে এজাহারভুক্ত আটক আসামিদের হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।’