তাজরীন ট্র্যাজেডির ৮ বছর: ভবন ভেঙে দেওয়ার দাবি

১১৩ শ্রমিকের জীবন কেড়ে নেওয়া আশুলিয়ার তাজরীন ফ্যাশনে অগ্নিকাণ্ডের আট বছর পূর্ণ হবে মঙ্গলবার।

ঘটনার পর পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাননি দাবি করে ক্ষতিপূরণ ও সুচিকিৎসার দাবিতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে গত ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন ওই দুর্ঘটনায় আহত শ্রমিকরা।

 একই সঙ্গে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনটি ভেঙে সেখানে নিহতদের পরিবার ও আহতদের পুনর্বাসন করার দাবিও জানিয়েছেন তারা। গত ৬৭ দিন কর্মসূচি পালনের পরও দাবি পূরণ না হওয়ায় আজ কাফনের কাপড় পরে গণভবন অভিমুখে ‘জিন্দা লাশ মিছিল’ করার ঘোষণা দিয়েছেন শ্রমিকরা।

গার্মেন্টস শ্রমিক মুক্তি আন্দোলনের সভাপতি শবনম হাফিজ সোমবার দেশ রূপান্তরকে বলেন, পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ না পাওয়ায় চিকিৎসার অভাবে বিভিন্ন সময়ে মারা গেছেন তিন শ্রমিক। যারা প্রেস ক্লাবে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন তাদের আর পিছু ফেরার কোনো রাস্তা নেই। বর্তমান সরকার নিজেদের শ্রমিকবান্ধব বলে দাবি করে। আমরা চাই প্রধানমন্ত্রী শ্রমিকদের পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ, পুনর্বাসন ও সুচিকিৎসার দাবি মেনে নিয়ে শ্রমিকবান্ধব হওয়ার প্রমাণ দেবেন। আর এ শ্রমিকদের যদি কিছু হয়ে যায় তাহলে তার দায় সরকারকেই নিতে হবে।

কর্মসূচিতে থাকা আহত শ্রমিক জরিনা বেগম বলেন, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় যেসব আহত শ্রমিক রয়েছে তাদের জন্য এ ভবনটি ভেঙে পুনর্বাসন করা হোক। যাতে আহত শ্রমিকরা ও নিহত শ্রমিকের পরিবার থাকতে পারে।

সরেজমিন সোমবার দুপুরে দেখা গেছে, পুড়ে যাওয়া তাজরীন ফ্যাশন ভবনটির প্রধান গেটে তালা দেওয়া। এখনো ভবনটির প্রতিটি জানালায় আগুনের ছাপ লেগে আছে। পাশের চায়ের দোকানের মালিক হাবিবুর রহমান বলেন, ‘কারও যদি মেরুদণ্ড ভেঙে যায় তাহলে কি সে দাঁড়াতে পারে, পারে না। আমি মনে করি, এ ভবনটির মেরুদণ্ড ভেঙে গেছে। এ ভবনের কারণে আরও দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।’

ঘটনায় নিহত ১১৩ শ্রমিকের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ও তাদের স্মরণে তাজরীন ভবনের প্রধান গেটের সামনে সন্ধ্যায় আহত শ্রমিকদের পাশাপাশি মোমবাতি প্রজ্জ্বালন করেছে বিভিন্ন সংগঠন।

এ সময় তারা বলেন, এ দুর্ঘটনার আট বছর হচ্ছে। ওইদিন আগুনে পুড়ে ১১৩ জনের মৃত্যুসহ আহত হয় দুই শতাধিক শ্রমিক। আহত শ্রমিক ও নিহত শ্রমিকদের স্বজনরা আজও অসহায়ভাবে জীবনযাপন করছেন। তারা তেমন কোনো ক্ষতিপূরণ পাননি। এ ঘটনায় যে মামলা হয়েছে তারও কোনো অগ্রগতি নেই।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদের (স্কপ) অ্যাডভোকেট আবদুল আওয়াল, ইন্ডাস্ট্রিয়াল বাংলাদেশ কাউন্সিল (আইবিসি) ও বাংলাদেশ বস্ত্র ও পোশাক শিল্প শ্রমিক লীগ ফেডারেশনের সাংগঠনিক সম্পাদক সরোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশন আশুলিয়া থানা সভাপতি ইসমাইল হোসেন ঠাণ্ডুসহ ৩৫টি সংগঠনের নেতাকর্মী।