ফিলিপাইনজুড়ে মা ও শিশুর বিচ্ছেদ বেদনা

মায়েরা কখনই সন্তানকে ছেড়ে যেতে চায় না। কিন্তু ফিলিপাইনে মা ও সন্তানের বিচ্ছেদ যেন নতুন বাস্তবতা। দেশটির প্রায় ২২ লাখ মানুষ বিদেশের মাটিতে অবস্থান করছে অর্থ উপার্জনের আশায়, যার বেশিরভাগই নারী। সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবেই তাদের ছেড়ে বিদেশে পাড়ি জমায় মায়েরা। এমন আত্মত্যাগে শুধু গত বছরেই ফিলিপাইনে রেমিট্যান্স এসেছে প্রায় ৩৩.৫ বিলিয়ন ডলার। সিএনএন অবলম্বনে লিখেছেন পরাগ মাঝি

ফিলিপাইনের নারীরা অর্থ উপার্জনের আশায় সবচেয়ে বেশি হারে যেসব দেশে যায়, তার প্রথম পাঁচটিই এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশ। অর্থ উপার্জন করতে গিয়ে তাদের ব্যক্তিগত জীবনের অনেক বড় মূল্য চুকাতে হয়। এমনও মায়েরা আছেন যারা তাদের সন্তানদের শিশুকাল কখনোই দেখেননি। এমনও অনেকে আছেন বহু বছর বিদেশে থেকে দেশে ফিরে গেলেও সন্তানের সঙ্গে দূরত্ব তারা কখনই ঘোচাতে পারেন না।

ফিলিপাইন থেকে যেসব নারী হংকংয়ে যান, তাদের বেশিরভাগই গৃহকর্মে নিযুক্ত হন। প্রায় সময়ই তারা গৃহকর্তার সন্তানদের মানুষ করার দায়িত্ব পালন করেন। হংকংয়ে থাকা এমন কিছু মা ও ফিলিপাইনে থাকা কয়েকজন সন্তানের সঙ্গে সম্প্রতি যোগাযোগ করে সিএনএন।

ডলর্সকে চিনতেই পারেনি তার ছেলে

সাত বছর বয়সী ছেলের সঙ্গে এখন পর্যন্ত কতবার দেখা হয়েছে তা হাতে গুনে বলে দিতে পারেন ডলর্স। ছয় মাস বয়সী ছেলেকে দাদির কাছে রেখে ফিলিপাইন ছেড়েছিলেন তিনি। সন্তান জন্ম দেওয়ার জন্যই তিনি ফিলিপাইন গিয়েছিলেন। তাই ছেলের জন্মের ছয় মাসের মধ্যেই আবারও তড়িঘড়ি করে হংকংয়ের উদ্দেশে যাত্রা করেন। সেখানে তার ভাইপো ছাড়াও পরিবারের আরও কয়েক সদস্য কাজ করেন। তার স্বামীও অন্য কোনো দেশে কর্মরত আছেন।

চাকরিতে খুব বেশি ছুটি না থাকায় এবং ঘন ঘন বাড়িতে যাওয়ার মতো খরচ বহন করতে না পারায় ছেলের সঙ্গে ডলর্সের দ্বিতীয়বার যখন দেখা হয় তত দিনে তার আড়াই বছর বয়স হয়ে গেছে। ডলর্স বলেন, ‘এটা খুব কঠিন যে, একেবারে অবুঝ বয়সে আপনি যদি আপনার সন্তানকে রেখে দূরে কোথাও চলে যান। পরে যখন সন্তানের সঙ্গে আবার দেখা হয় এবং সন্তান যদি তত দিনে কথা বলা ও দৌড়ঝাঁপ করা শিখে যায় এবং সে যদি আপনাকে চিনতে না পারে!’

ছেলের পাঁচ বছর বয়স পর্যন্ত সময়টি ডলর্সের জন্য ছিল হৃদয়বিদারক। কারণ এ সময়টিতে প্রতি সপ্তাহে তিনি মাত্র দুবার মোবাইলে কল দিতেন। কারণ সে সময়টিতে তার দেশের বাড়িতে কোনো ইন্টারনেট সংযোগ ছিল না। কাজ শেষ করে গভীর রাতে ফোন দিতেন শুধু ছেলের মুখ থেকে এলোমেলো কথা ও শিশুসুলভ কাণ্ডকারখানা শোনার জন্য।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনেক কিছুই এখন সহজ হয়ে গেছে। এখন ডলর্সের দেশের বাড়িতেও ইন্টারনেট আছে। প্রতিদিন এখন অন্তত তিনবার ভিডিও কলে বাড়ির সঙ্গে কথা হয় তার। কিন্তু এতেও মায়ের মন ভরছে না। ফিলিপাইনে থাকা সন্তান কীভাবে মানুষ হবে সেই চিন্তা সারাক্ষণ মাথায় থাকে। ছেলে স্কুল থেকে ফিরে আসার পর তার হোমওয়ার্কে কোনো সাহায্য করতে না পেরে খুব আফসোস হয় ডলর্সের। তিনি জানান, ছেলের সঙ্গে দূরত্বটা সবচেয়ে বেশি অনুভূত হয়েছিল দুই বছর আগে। কারণ সে সময় একটি কানে কিছু একটা ঢুকে যাওয়ার পর তার ছেলেকে হাসপাতালে ভর্তি করাতে হয়েছিল। এমন দুঃসময়ে তিনি এমনকি তার স্বামীও ছেলের পাশে থাকতে পারেননি। অপারেশনের পর বেশ কিছুদিন তারা ছেলের সঙ্গে ফোনেও কথা বলতে পারেননি।

কেন এই ছেড়ে যাওয়া

বিগত দশকগুলোতে ফিলিপাইনের উচ্চ জন্মহার একটি নতুন শ্রমশক্তি সৃষ্টি করেছে। এই শ্রমশক্তির আয়তন যত দ্রুত বাড়ছে, কাজের ক্ষেত্রগুলো তত দ্রুত বাড়ছে না। ফলে বেকারত্বের মতো সমস্যা হুহু করে বাড়তে শুরু করে। এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য অনেকেই কাজের সন্ধানে বিদেশে পাড়ি জমানোর চেষ্টা করে।

এশিয়ার অন্যতম ধনী দেশ হংকংয়ে অন্তত চার লাখ গৃহকর্মী কাজ করে। এসব গৃহকর্মীর বেশির ভাগই ফিলিপিনো নারী। প্রতি মাসে তারা কম করে হলেও ৬০০ ডলার আয় করতে পারে, যেখানে ফিলিপাইনের ন্যূনতম মজুরি মাত্র ২১৩ ডলার। এই অবস্থাটি বহু বছর ধরেই বিরাজ করছে। ফলে গত কয়েক বছরে একটু বেশি আয়ের আশায় লাখ লাখ ফিলিপিনো দেশ ছেড়ে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছে। বর্তমানে তারা বিপুল হারে দেশে রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছে। ২০১৯ সালে দেওয়া এক ভাষণে ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতার্তে বিদেশে থাকা কর্মীদের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

ফ্রান্সিস টাম্পালানের মাকে দেখা

মায়ের বাড়ি ছাড়ার কথা এখন আর মনে নেই ফ্রান্সিস টাম্পালানের। সে সময় তার বয়স ছিল মাত্র চার বছর। ছোটবেলায় দাদা-দাদির সঙ্গে কুঁচকানো পোশাক পরে স্কুলে যাওয়ার স্মৃতি মনে আছে শুধু। দাদা-দাদিই তাকে বড় করেছেন।

মায়ের সঙ্গে ফ্রান্সিস টাম্পালানের দেখা হতো দুই বছর পরপর। আর এই দেখা হওয়াটিকে তার কাছে বরাবরই কল্পনার মতো মনে হতো। কারণ মা-ছেলের পুনর্মিলনটি খুব বেশি দিন স্থায়ী হতো না। মায়ের আত্মত্যাগ ফ্রান্সিসকে বেশ কিছু সুযোগ তৈরি করে দিয়েছিল। পড়াশোনার জন্য টাকা পাঠাতেন তার মা। পরে স্কুল পাস করে তিনি যখন কলেজে গেলেন তখন মায়ের অনুশাসন না থাকার কারণে পড়াশোনার চেয়ে বন্ধু-বান্ধব আর প্রেমেই বেশি মজে গিয়েছিলেন তিনি। ফলে স্নাতক শেষ হওয়ার আগেই তাকে ঝরে পড়তে হয়।

ফ্রান্সিসের বয়স এখন ২২ বছর। তার মা এখনো হংকংয়ে কাজ করেন। ইন্টারনেট ব্যবস্থার উন্নতির ফলে বর্তমানে প্রায় প্রতি রাতেই মা-ছেলের মধ্যে নানা বিষয়ে ফোনে কথা হয়। এই দীর্ঘ কথোপকথন দুদেশে থাকা মা ও সন্তানকে একে অন্যকে বুঝতে সহায়তা করছে। এখন ফ্রান্সিস বুঝতে পারেন যে, কেন তার মা ছোটবেলায় তাকে বাড়িতে রেখে বিদেশে চলে গিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমার প্রয়োজন মেটাতেই বিদেশে কষ্টের জীবন বেছে নিয়েছিলেন আমার মা। এখন আমি স্বপ্ন দেখি তিনি বাড়িতে ফিরে আসবেন এবং এক দিন আমি তাকে ভালো জীবনযাপনের সুযোগ করে দেব।

হংকংয়ে থাকা ফ্রান্সিসের মায়ের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিলেন সিএনএন প্রতিবেদক। কিন্তু কাজে ব্যস্ততার দরুন তিনি সময় দিতে পারেননি। ফান্সিস আশা করছেন শিগগিরই তিনি দেশের ভেতরে একটি অটোমোবাইল কোম্পানিতে যোগ দেবেন। পাশাপাশি তার স্ত্রী ছোট্ট একটি দোকানও চালাচ্ছে। ফলে দুজনের উপার্জন শুরু হলে তারা খুব ভালো করেই সংসার চালাতে পারবেন। ফ্রান্সিস চান না, তার মেয়ে বাবা কিংবা মাকে ছাড়াই বেড়ে উঠুক।

অন্যের সন্তান দেখেন ক্যাটালিনা ম্যাঙ্গো

ক্যাটালিনা ম্যাঙ্গো ও তার স্বামী একসঙ্গেই চাকরি হারিয়েছিলেন ২০০১ সালে। কয়েক মাস বেকার থাকা অবস্থায় তাদের সব সঞ্চয় খরচ হয়ে যায়। দুই ছেলেকে নিয়ে বড় বিপদে পড়ে যান তারা। এ সময়ই হংকংয়ে একটি কাজের সুযোগ পেয়ে যান ক্যাটালিনা। তাই সন্তানদের বাবার কাছে রেখেই বিদেশে পাড়ি জমান তিনি। সন্তানদের মধ্যে এক ছেলের বয়স তখন মাত্র চার বছর, অন্যজন আরও ছোট মাত্র এক বছর।

বিদেশে পাড়ি জমানোর সময় ক্যাটালিনার একটাই উদ্দেশ ছিল যেন তার সন্তানরা পড়াশোনা করে কলেজে যেতে পারে। কিন্তু বছরের পর বছর চলে যাওয়ার পর বাড়িতে না থাকার কারণ জানতে চায় তার সন্তানরা। ক্যাটালিনা জানান, ছয় বছর বয়সে তার বড় ছেলে তাকে প্রশ্ন করেছিল ‘আমাদের দেখাশোনা না করে তুমি কেন অন্য ছেলেমেয়েদের দেখাশোনা করো?’

বছরে দুবার দেশে ছুটি কাটাতে যান ক্যাটালিনা। অন্যদের তুলনায় যা অনেক বেশি। ছেলের প্রশ্নে তিনি জবাব দিয়েছিলেন, ‘এটা একটা ভারসাম্য। আমি অন্যদের দেখাশোনা করি যেন তোমরা স্কুলে যেতে পারো। বেশি পড়াশোনা করতে পারো।’ যদিও এই কথাগুলো বোঝার বয়স ক্যাটালিনার সন্তানদের তখনো হয়নি।

ক্যাটালিনার দুই ছেলের বয়স এখন যথাক্রমে ২১ ও ২৩ বছর। দুজনই ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়ছিল। দুঃখজনক হলো দুজনই কলেজ থেকে বিতাড়িত হয়েছে পাস করার আগেই। বিদেশে বসে এ সংবাদটি শুনে সহ্য করতে পারছিলেন না ক্যাটালিনা। তিনি বলেন, ‘আমি প্রথমে বিশ্বাস করিনি। এটা খুব কষ্টের, খুবই কষ্টের।’

ক্যাটালিনার দুই ছেলের মধ্যে একজন বর্তমানে একটি কল সেন্টারে কাজ করে। অন্যজন অনলাইনে কিছু একটা করার চেষ্টা করছে। ছেলেদের ইঞ্জিনিয়ারিং পড়া শেষ করতে না পারার দুঃখ এখনো ভুলতে পারছেন না মা। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে দূরত্ব ও ভুল বোঝাবুঝিরও সৃষ্টি হচ্ছে। ক্যাটালিনা মনে করেন, সন্তানরা এভাবে পড়াশোনা থেকে ঝরে পড়বে জানলে তিনি কখনোই হংকংয়ে কাজ করতে যেতেন না।

দুঃখজনক ব্যাপার হলো গবেষকরা দেখেছেন, যদি কোনো সন্তানের বাবা-মা বিদেশে থাকেন তবে সেই ছেলেমেয়েরা স্কুলের পড়াশোনায় সচরাচর ভালো করতে পারে না। ২০১৩ সালে একটি জরিপ চালিয়ে ফিলিপিনো গবেষকরা দেখেছিলেন, স্কুলপর্যায়ে যেসব ছেলেমেয়ের মা বিদেশে থাকেন তারা অন্যদের তুলনায় কম নম্বর পেত।’

অর্পিলার মা ভালদেজের ফিরে আসা

কিশোরী বয়সে ক্রিজেল অর্পিলা যখন প্রথমবারের মতো ঋতুমতী হন তখন তিনি পরিবারের সবার সঙ্গে ছুটি কাটাচ্ছিলেন। এ ধরনের ঘটনায় সাধারণত যা হয়, মেয়েরা তাদের মায়ের কাছে সাহায্য ও পরামর্শ চায়। কিন্তু অর্পিলার ক্ষেত্রে এমনটি ঘটেনি। তার মা ডিভাইনা ভালদেজ তাকে ১০ বছর বয়সেই বাড়িতে রেখে তাইওয়ান ও পরে হংকংয়ে চলে গিয়েছিলেন। তাই ওই ছুটিতে মা সঙ্গে থাকলেও ঋতুস্রাবের ব্যাপারে মায়ের কাছে কোনো পরামর্শ চায়নি অর্পিলা। ঘটনাটি ঘটে যাওয়ার পর সে তার বড় বোনকে ডাকে এবং বড় বোনই মায়ের মতো করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে। ছোটবেলায় মা চলে যাওয়ার পর অর্পিলা ও তার সহোদররা দাদা-দাদির কাছেই ছিল।

২০০৩ সালে ডিভাইনা ভালদেজ যখন পাকাপাকিভাবে দেশে চলে আসেন তখন অর্পিলার বয়স ছিল ১৫ বছর। দেশে ফিরলেও এক বছরের মধ্যেই যেন সবকিছু ওলট-পালট হয়ে যায়। কারণ সে সময় ডিভাইনা ভালদেজের কোলন ক্যানসার ধরা পড়ে।

বর্তমানে অর্পিলার বয়স ৩২ বছর। মায়ের অসুস্থতা ধরা পড়ার স্মৃতি মনে করে তিনি বলেন, ‘মনে হচ্ছিল যে ভাগ্য আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। যখন মা আমাদের কাছে চলে এসেছে তখনই তার ক্যানসার ধরা পড়ে।’

অর্পিলা মায়ের আত্মত্যাগ স্মরণ করে আরও বলেন, ‘মায়ের মতো করে আমি আমার সন্তানদের ছেড়ে কখনোই থাকতে পারব না। আমি কখনোই সন্তানদের রেখে বিদেশে যেতে পারব না। আমার মা যে আত্মত্যাগ করেছেন তা আমি কোনো দিনও পারব না।’

তবে, সবচেয়ে আনন্দের ব্যাপার হলো ডিভাইনা ভালদেজের কোলন ক্যানসার ধরা পড়েছিল একেবারে সূচনাতেই। ফলে তিনি পুরোপুরি সুস্থ হয়ে যান। অর্পিলার সন্তানদের সঙ্গেই তার এখন দারুণ সময় কেটে যায়।

বিদেশে গিয়ে কাজ করার পরিকল্পনা কখনোই ছিল না ডিভাইনা ভালদেজের। কিন্তু সন্তানরা যখন বড় হচ্ছিল তখন তিনি চিন্তিত হন এই ভেবে যে, তাদের স্কুলে পাঠানোর মতো পর্যাপ্ত অর্থ ছিল না তার কাছে। কারণ তাদের পারিবারিক খামারটি বন্যায় ভেসে গিয়েছিল। পরিবারের আয়ের উপায় বলতে আর কিছুই ছিল না। উপায় না দেখে ভালদেজ এবং তার স্বামী প্রথমে তাইওয়ান পরে হংকং চলে যান। ছয় বছর পর স্বামীকে বিদেশে রেখেই ভালদেজ পরিবারের কাছে ফিরে আসেন। বিদেশে থাকা অবস্থায় সন্তানদের কাছে তিনি প্রায় প্রতি সপ্তাহেই চিঠি লিখতেন এবং তাদের চিঠির উত্তর দিতেন। তার কাছে মনে হয়, যথার্থ সময়েই তিনি বিদেশ যাওয়ার সিদ্ধান্তটি নিয়েছিলেন। তাদের আয়ও বেশ ভালো ছিল। ফলে যথেষ্ট অর্থ সঞ্চয় করতে পেরেছিলেন। এই অর্থ দিয়ে ফিলিপাইনে তারা একটি বড় বাড়ি নির্মাণ করেছেন। তার তিন সন্তানই কলেজ থেকে স্নাতক পাস করেছে। সবার বড়জন একজন ইঞ্জিনিয়ার, মেজ যিনি তিনি একজন শিক্ষক আর সবার ছোট অর্পিলা বেছে নিয়েছেন নার্সিং সেবাকে। মা-বাবাকে ছাড়াই সন্তানদের এমন সাফল্যের জন্য গর্ববোধ করেন ভালদেজ।