একনেকে উঠছে ৭ প্রকল্প

সবাই পাবে স্মার্টকার্ড

দেশের সব নাগরিকের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নিশ্চিতে ১ হাজার ৮০৯  কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্প হাতে নেওয়া হচ্ছে। ‘আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম ফর এনহ্যান্সিং একসেস টু সার্ভিসেস (আইডিইএ) (দ্বিতীয় পর্যায়)’ শীর্ষক প্রকল্পটি সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়ন করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আজ মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হচ্ছে। এছাড়া সভায় আরও ৬টি প্রকল্প উঠবে। প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হবে। 

পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, একনেক সভায় প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য  টেবিলে উপস্থাপিত হওয়ার কথা রয়েছে। প্রকল্পটি চলতি বছরের জুলাই থেকে ২০২৫ সালের জুনের মধ্যে বাস্তবায়ন করা হবে। প্রকল্পের মাধ্যমে ডাটা সেন্টার ও ডিজাস্টার রিকভারি সাইটের বিদ্যমান সার্ভারকে অধিকতর দক্ষতাসম্পন্ন নতুন সার্ভারের মাধ্যমে প্রতিস্থাপন, উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ করা; বিভিন্ন ধরনের নির্বাচনের জন্য ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রণয়নে নির্বাচন কমিশনকে সহায়তা করা; ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের সব নাগরিককে জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদান করে ইসিকে সহায়তা করা; সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাকে সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে বর্তমান জাতীয় পরিচয়পত্র শনাক্তকারী ব্যবস্থা বিকেন্দ্রীকরণ ও বিস্তৃত করা; ইসির কেন্দ্রীয় ও মাঠ পর্যায়ের কার্যালয়গুলোতে ছবিসহ ভোটার নিবন্ধন ও জাতীয় পরিচিতি সেবা বাস্তবায়নের উপযোগী আইসিটি অবকাঠামো উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ করা; জনবান্ধব জাতীয় পরিচিতি সেবা প্রদানের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে।

জানা গেছে, এখন পর্যন্ত এনআইডি ডেটাবেজ সার্ভারে নিবন্ধিত মোট নাগরিক সংখ্যা ১১ কোটি ২১ লাখ ৬৯ হাজার ৮১৮ জন। এর মধ্যে ভোটার সংখ্যা ১০ কোটি ৯৮ লাখ ১৮ হাজার ৮১৭ জন। অবশিষ্ট ২৩ লাখ ৫১ হাজার ১ জন ভোটার তালিকায় এখনো অন্তর্ভুক্ত হয়নি।

প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভায় পরিকল্পনা কমিশন বলেছে, ভবিষ্যতে জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদানের এই রুটিন কার্যক্রম প্রকল্পের মাধ্যমে না করে রাজস্ব খাত  থেকে বাস্তবায়ন করতে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানিয়েছে ইসি। প্রকল্পের যৌক্তিকতায় ইসি বলেছে, ২০০৭/২০০৮ সালে ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রণয়নের জন্য প্রায় ৮ দশমিক ৫ কোটি ভোটারের ডেমোগ্রাফিক ও বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ করে একটি তথ্যভাণ্ডার গড়া হয়েছে। এর মাধ্যমে ছবিসহ  ভোটার তালিকা প্রস্তুত এবং নিবন্ধিত সব ভোটারকে জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদান করা হয়। এছাড়া নিবন্ধিত ভোটারদের ডেমোগ্রাফিক ও বায়োমেট্রিক তথ্যের সমন্বয়ে নাগরিক নিবন্ধন তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলা হয়। ২০১০ সালে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন আইন- ২০১০ প্রণয়নের মাধ্যমে ইসিকে জাতীয় পরিচয়পত্র সংক্রান্ত কার্যক্রমের দায়িত্ব প্রদান করা হলেও অর্পিত দায়িত্ব পালনের জন্য কমিশন ২০১১ সালে ৭১ জনবল বিশিষ্ট জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগ চালু করে।

২০১১ সালের জুলাইয়ে বিশ্বব্যাংক ও জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি- ইউএনডিপির সহায়তায় ১ হাজার ৩৬৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম ফর এনহ্যান্সিং অ্যাক্সেস টু সার্ভিস’ (আইডিইএ) প্রকল্পের আওতায়  নাগরিককে ৯ কোটি স্মার্টকার্ড দেওয়ার চুক্তি হয়। সরকার চুক্তি মোতাবেক প্রকল্পের জন্য ১৪ কোটি ১৯ লাখ টাকা দেবে। বিশ্বব্যাংকের বাকি অর্থ সহায়তা করার কথা থাকলেও বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে চুক্তির শর্তগুলো পূরণ করতে না পারায় প্রকল্প শুরু করতেই প্রায় ৩০ মাস বা আড়াই বছর সময় লেগে যায়। ২০১৬ সালের জুন মাসে প্রকল্পটির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল। সময়মতো কাজ না হওয়ায় মেয়াদ বাড়ানো হয়। ২০১৮ সালের  ফেব্রুয়ারিতে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর বিশ্বব্যাংক আর চুক্তির মেয়াদ বাড়ায়নি। পরে  সরকারি অর্থায়নে প্রকল্পের সময় কয়েক দফা বাড়ানো হয়, যা শেষ হবে আগামী ডিসেম্বরে।

কমিশনের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, আইডিইএ প্রকল্পের আওতায় নিবন্ধিত নাগরিকদের তথ্য সংরক্ষণ, ভোটার তালিকা, ৯ কোটি স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র প্রস্তুত ও বিতরণ, নাগরিকদের পরিচিতি সেবা, কর্মকর্তা/কর্মচারীদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণ প্রদান ইত্যাদি কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এছাড়া দুটি সরকারি ও দুটি  বেসরকারিসহ মোট চারটি প্রতিষ্ঠানকে পরিচিতি যাচাই সেবা প্রদানের লক্ষ্য নির্ধারণ এবং সে উপযোগী তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলা হলেও বর্তমানে ১৩৭টি প্রতিষ্ঠানকে সার্বক্ষণিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া, ভবিষ্যতে এ  সেবার চাহিদা আরও বৃদ্ধি পাবে।

এ পরিপ্রেক্ষিতে চলমান আইডিইএ প্রকল্পের কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা রক্ষাসহ ভবিষ্যতে অধিকতর দক্ষতার সঙ্গে সুচারুরূপে সেবা প্রদান কার্যক্রম বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশনের ২০১৭ সালের নভেম্বরের এক সভায় প্রস্তাবিত প্রকল্পটি গ্রহণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

আরও ৬ প্রকল্প : প্রাণী পুষ্টির উন্নয়নে উন্নত জাতের ঘাস চাষ সম্প্রসারণ ও লাগসই প্রযুক্তি হস্তান্তর প্রকল্প, ব্যয় হবে ১০১ কোটি টাকা, খুরুশরুল বিশেষ আশ্রয়ণ প্রকল্প, ব্যয় হবে ১ হাজার ৩৩৩ কোটি টাকা, গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, বাজার সম্প্রসারণ ও বিপণন প্রকৃতি কাজ সম্প্রদানে প্রকল্পে ব্যয় হবে হবে ২১৮১ কোটি টাকা, ঝিনাইদাহ যশোর মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় হবে ৪১৮৭ কোটি টাকা। এছাড়া পায়রা বন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্প, শেখ হাসিনা তাঁতপল্লী স্থাপন প্রকল্প সংশোধন করা হবে। দুটিরই ব্যয় বাড়বে।