জাপানি অ্যানিমেশনের পথিকৃৎ স্টুডিও জিবলি

আশির দশকেও জাপানে অ্যানিমেশনকে নিম্নস্তরের শিল্প ভাবা হতো। এই ভাবনা পরিবর্তনে কাজ শুরু করেন হায়াও মিয়াজাকি। দর্শকদের একের পর এক দুর্দান্ত সিনেমা উপহার দিয়ে স্টুডিও জিবলি প্রতিষ্ঠিত করে অ্যানিমেশন মানেই শিশুদের চলচ্চিত্র নয়।জাপানি চলচ্চিত্রের ধারাকে ভিন্নমাত্রায় নিয়ে যাওয়া স্টুডিও জিবলি নিয়ে লিখেছেন আরফাতুন নাবিলা

শুরুর গল্প

জাপানিজ আর্ট সব সময়ই নিজেদের সংস্কৃতিতে ব্যতিক্রমী একটি ধারা বজায় রেখেছে। কাঠের ব্লক থেকে শুরু করে বিশ্বখ্যাত হাইকু (জাপানি কবিতার সংক্ষিপ্ত রূপ), আর এখন অ্যানিমেশন-শিল্প সব ক্ষেত্রেই জাপান বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। জাপানিজ অ্যানিমেশন বেশি পরিচিত অ্যানিমি নামে। শুধু জাপানেই নয়, বিশ্বজুড়ে তাদের অ্যানিমেশনকে এখন একনামে সবাই চেনে। নব্বইয়ের দশক থেকে অ্যানিমি চলচ্চিত্রগুলো চলচ্চিত্রমাধ্যমে যে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে সে পথচলা দেখে মনে হয়, এ পথ থেমে যাওয়ার নয়। জনপ্রিয় এই অ্যানিমি জগতে, ধরতে গেলে পুরো চলচ্চিত্র জগতের অন্যতম খেলোয়াড় স্টুডিও জিবলি ও এর প্রতিষ্ঠাতা হায়াও মিয়াজাকি। আশির দশকের মধ্যভাগ থেকে জাপানি চলচ্চিত্র বেশ বড় একটি পরিবর্তন নিয়ে আসে। এর মূল মাধ্যমটাই হয় অ্যানিমি। অ্যানিমিকে ঘিরে যে নতুন সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল তাকে বলা হতো ওটাকু সংস্কৃতি। এখন বেশ মজার হলেও শুরুর দিকে অ্যানিমিকে বেশ ব্যঙ্গ করা হতো। এই ওটাকু নামটা মানুষের মধ্যে ইতিবাচক ও নেতিবাচক দুই ধরনের প্রভাবই ফেলেছিল। এই ওটাকু সংস্কৃতি এখনো বেশ বিতর্কিত একটি শব্দ। অনেকেই এটিকে প্রযুক্তিগতভাবে সাবলীল সংস্কৃতি হিসেবে দেখেন। আবার অনেকের কাছে এটি বাস্তবতাবহির্ভূত।

অ্যানিমি নিয়ে যখন বিতর্ক আরও ডালপালা মেলছে, তখন সেই পালে হাওয়া দিতে এই জগতে পা রাখল স্টুডিও জিবলি। জাপানিজ এই চলচ্চিত্র প্রতিষ্ঠানটি চালু হওয়ার দশ বছরের মধ্যে অ্যানিমি দুনিয়ার পাওয়ার হাউজ হয়ে ওঠে। বক্স অফিসে তারা এক রকম আধিপত্য বিস্তার লাভ করা শুরু করে। ডিজনির সহায়তায় আন্তর্জাতিকভাবে বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশে সাফল্যের সঙ্গে বিচরণ শুরু হয় তাদের। ১৯৮৫ সালে স্টুডিও জিবলির জন্ম হয় হায়াও মিয়াজাকি, ইসাও তাকাহাতা ও তোশিও সুজুকির হাত ধরে। স্টুডিও জিবলির আরবি নামের অর্থ ‘সাহারা মরুভূমির গরম বাতাস’। এমন নাম রাখার কারণ, তারা চাচ্ছিলেন অ্যানিমি জগৎকে নতুন বাতাসে ভর দিয়ে ওড়াতে। এ জগতে পা রাখার পর স্টুডিও জিবলির প্রথম সিনেমা ‘ক্যাসেল ইন দ্য স্কাই’ মুক্তি পায় ১৯৮৬ সালে। সিনেমা লেখা ও পরিচালনার কাজ মিয়াজাকি নিজেই করেন। সিনেমাটি যখন মুক্তি পায় তখনো অ্যানিমিকে তুচ্ছই ভাবা হতো। আর মিয়াজাকি নিজেও আজকের মতো সম্মান তখন পাননি।

দুই বছর পর ‘গ্রেভ অব দ্য ফায়ারফ্লাইস’ ও ‘মাই নেইবর টটোরো’ নামে আরও দুটি নতুন সিনেমা নিয়ে আসে তারা। সে সময় এ দুটো সিনেমাও খুব বড় সাফল্য দেখাতে পারেনি। ১৯৮৯ সালে যখন ‘কিকি’স ডেলিভারি সার্ভিস’ মুক্তি পায় তখন থেকেই মূলত স্টুডিও জিবলি সবার নজর কাড়তে শুরু করে। যদিও এই সিনেমার প্রচারণা করা হয়েছিল টেলিভিশনে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে।

এভাবেই চলছিল স্টুডিও জিবলি। প্রতিষ্ঠার পর কয়েকটি সিনেমা নিয়ে এলেও যখন সাফল্য সেভাবে ধরা দেয়নি, তখন তারা বেশ খানিকটা নীরব হয়ে যায়। ২০০১ সালে মিয়াজাকি নিয়ে আসেন নতুন সিনেমা ‘স্পিরিটেড অ্যাওয়ে’। আন্তর্জাতিকভাবে এই সিনেমাই মিয়াজাকিকে পরিচিত করে তোলে চলচ্চিত্র জগতে। এই সিনেমাটি অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় জাপানের অন্যতম লাভজনক সিনেমা। যদিও এ সিনেমাটির জন্য মিয়াজাকি চুক্তি করেছিলেন ডিজনি ও পিক্সারের চিফ ক্রিয়েটিভ অফিসার জন ল্যাসটারের সঙ্গে। এই চুক্তির মূল কারণ ছিল আমেরিকায় এই সিনেমার মুক্তি। আমেরিকায় মুক্তির পর অ্যানিমেশন জগৎ ও মিয়াজাকির জীবনে আমূল পরিবর্তন আসে। সিনেমাটি এতটাই জনপ্রিয়তা পায় যে সেরা অ্যানিমেটেড ফিচার ক্যাটাগরিতে অস্কার জেতেন মিয়াজাকি। স্টুডিও জিবলির এই প্রতিষ্ঠাতা যতভাবে তার সিনেমাকে মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছিলেন এটি ছিল সেই মাধ্যমের একটি। বিশ্বের কোনায় কোনায় পৌঁছানোর জন্য যত সুযোগ মিয়াজাকি পেয়েছেন তার কোনোটাই তিনি হাতছাড়া করেননি।

এভাবেই শুরু হলো স্টুডিও জিবলির বিরামহীন পথচলা। অ্যানিমি চলচ্চিত্রজগতে মিয়াজাকি নব্বইয়ের দশক থেকে শুরু করে টানা ২০১৪ সাল পর্যন্ত একচেটিয়া রাজত্ব করে গেছেন। এরপর তিনি অবসরে যান। তার পর স্টুডিও জিবলি পরিচালনার দায়িত্ব নেন তোশিও সুজুকি। স্টুডিওর সামনে তখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল মিয়াজাকিকে ছাড়া একা পথচলা। ২০১৭ সালে মিয়াজাকি ঘোষণা দেন অবসর থেকে মুক্তি নিয়ে তিনি আবারও ফিরছেন চলচ্চিত্র নির্মাণে। স্টুডিওর জন্য নতুন সিনেমা লিখবেন ও পরিচালনা করবেন তিনি। অবশ্য এ ঘোষণা দেওয়ার আগে থেকেই অবসরে তিনি সিনেমা নিয়ে কাজ করছিলেন নিভৃতে। ২০১৯ অথবা ২০২০-এর যেকোনো সময় মুক্তি দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল ঘোষণায়।

অবশেষে ছয় বছর বিরতির পর স্টুডিওর নতুন সিনেমা ‘আয়া টু মাজো’ (অুধ ধহফ ঃযব ডরঃপয) মুক্তি পায় জুন মাসে। নতুন এই সিনেমাটি ছিল কম্পিউটার গ্রাফিকস অর্থাৎ সিজিআই (ঈড়সঢ়ঁঃবৎ-মবহবৎধঃবফ রসধমবৎু) পদ্ধতিতে করা। বলাবাহুল্য, এত বছর ধরে স্টুডিও জিবলির নিজস্বতায় সিনেমাগুলো যেভাবে দর্শকপ্রিয়তা ধরে রেখেছিল, এই পদ্ধতিতে তারা সেই আগের ভালো লাগা দর্শককে দিতে পারেনি।

অ্যানিমেশন সিনেমা

১৯৮৮ সালে স্টুডিও জিবলি ‘গ্রেভ দ্য ফায়ারফ্লাইস’ ও ‘মাই নেইবর টটোরো’ নামে দুটি সিনেমা মুক্তি দেয়। প্রথম সিনেমা ‘ক্যাসল ইন দ্য স্কাই’-এর তুলনায় এই দুটো সিনেমা দর্শকজনপ্রিয়তা পেলেও একই বছর দুটো সিনেমা বের করায় স্টুডিও জিবলি নিজেদের প্রত্যাশাই পূরণ করতে পারেনি। টটোরো সিনেমায় বিশালাকৃতির খরগোশের মতো দেখতে ‘টটোরো’ নামে যে চরিত্রটি আছে সেটি শিশু থেকে শুরু করে প্রাপ্তবয়স্ক সবার কাছেই ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। সিনেমাটি মুক্তি পাওয়ার পর এই চরিত্রের পুতুলও চলে আসে। যেটি খেলনার দুনিয়ায় অন্যতম জনপ্রিয়তা অর্জন করে। এক কথায়, এই খেলনাই স্টুডিও জিবলিকে সফল হতে অনেক সহায়তা করেছিল। পরের দৃশ্যপট পাল্টে যায় খুব দ্রুত। সিনেমার বিভিন্ন চরিত্র অনুযায়ী খেলনার চাহিদা দিন দিন বাড়তে থাকে। স্টুডিও নিজেও চাহিদা অনুযায়ী খেলনা নির্মাণ করতে থাকে। বিক্রি এতটাই বেড়ে যায় যে, সিনেমা বানাতে যে টাকা খরচ হয়েছিল তার পুরোটাই উঠে আসে এই খেলনা বিক্রি থেকে। তবে স্টুডিওর সহ-প্রতিষ্ঠাতা সুজুকির কাছে ব্যাপারটা খুব বেশি ভালো লাগেনি। তিনি ঘোষণা দেন সবার আগে সিনেমা, এরপর বিভিন্ন জিনিস। স্টুডিও তখন থেকে খেলনার বিক্রি কমিয়ে দেয়। তাদের তখন থেকে টার্গেট শুরু হয় ‘আগে সিনেমা বিক্রি, এরপর অন্য সবকিছু’।

সিনেমার মার্কেটিং

টটোরো সিনেমার চরিত্র দিয়ে খেলনা বানানোর পর যখন সাফল্য ধরা দেয়, তখন স্টুডিও জিবলি সিদ্ধান্ত নেয় পরবর্তী সিনেমা কিকি’স ডেলিভারি সার্ভিস নিয়ে অন্যভাবে মার্কেটিং করার। এজন্য অভিনব একটি আইডিয়া নিয়ে সামনে আসে তারা। আগের দুটো সিনেমা বানাতে আর্থিক সমস্যার মুখোমুখি হলেও তারা বরাবর গুণগত সিনেমা নির্মাণের দিকেই মনোযোগী ছিল। ১৯৮৯ সালে টিভিতে প্রথমবার ‘মাই নেইবর টটোরো’ সিনেমাটি দেখানো হয়। এরপরই তারা কিকি’স ডেলিভারি সার্ভিসের প্রচারে নামে। এই সিনেমার মূল চরিত্র কিকি’র বয়স ১৩ বছর। ন্যাশনাল টেলিভিশনে এই বয়সী মেয়েদের নিয়ে অনুষ্ঠান প্রচার করা হয়। এ ছাড়া জিবলির আগের সিনেমাগুলো নিয়ে নিয়মিত কমার্শিয়াল বিজ্ঞাপন প্রচার করা হতো টেলিভিশনে।

মার্কেটিংয়ের এমন নানা পদ্ধতি অবলম্বন করায় স্টুডিও জিবলির সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহ দেখায় আরও অনেক প্রতিষ্ঠান। তারা স্টুডিওর বিভিন্ন ক্যাম্পেইনে নিয়মিত অংশীদার হিসেবে কাজ করতে থাকে। নিজেদের পণ্য বিক্রি না করে জিবলির সঙ্গে সংযুক্ত তার বিষয়টি ফলাও করে প্রকাশ করে। সহজ ভাষায়, জিবলিকে ব্যবহার করে নিজেদের প্রচারণাও বাড়াতে থাকে তারা। এই প্রচারণাই দিন দিন এত বাড়তে থাকে যে ৩০ বছর ধরে একনামে স্টুডিও জিবলি তাদের জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে পেরেছে।

সিনেমায় অস্কার জয়

২০০১ সালে মুক্তি পায় ‘স্পিরিটেড অ্যাওয়ে’। সিনেমার গল্প দশ বছর বয়সী একটি মেয়েকে নিয়ে। মা-বাবার সঙ্গে ঘুরতে গিয়ে ভুল করে মেয়েটিসহ সবাই আত্মাদের (ংঢ়রৎরঃ) দুনিয়ায় প্রবেশ করে। নিজেকে এবং মা-বাবাকে বাঁচানোর জন্য বিভিন্ন কাজ করতে হয় তাকে। অদ্ভুত ও অন্যরকম একটি পৃথিবীতে বিভিন্ন প্রাণীর সঙ্গে থাকা, চলাফেরা এক রকম মন্ত্রমুগ্ধের মতো দর্শকদের টিভির পর্দায় আটকে রেখেছিল।

স্টুডিও জিবলি ও মিয়াজাকি তত দিনে সিনেমা জগতে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করে ফেলেছেন, আর সুজুকিও কীভাবে সিনেমার প্রচারণা চালাতে হবে সে বিষয়ে দক্ষ হয়ে উঠেছেন। ফলে সিনেমাটির জনপ্রিয়তা পেতে খুব বেশি সময় লাগল না। ফলাফল, জাপানের বক্স অফিসের ইতিহাসে অন্যতম সেরা সাফল্য নিয়ে এলো ‘স্পিরিটেড অ্যাওয়ে’।

জাপানে এই সিনেমার এমন সাফল্য চোখ এড়ায়নি বিশ্বের অন্য বড় ব্যবসায়ীদের। দ্রুত জিবলির সঙ্গে যোগাযোগ করেন পিক্সার ফিল্মসের জনপ্রিয় পরিচালক জন ল্যাসটার। তিনি নিজেও মিয়াজাকির অনেক বড় ভক্ত ছিলেন। জিবলির সঙ্গে চুক্তি করে জন সিনেমাটি ডিজনির ব্যানারে আমেরিকায় মুক্তি দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। এর ফলাফল হিসেবেও ধরা দেয় অভাবনীয় সাফল্য। বিশ্বজুড়ে বাণিজ্যিক সাফল্য যেন একের পর এক হাতের মুঠোয় এসে ধরা দেয় জিবলির। এরপর এই সিনেমা বৈশ্বিক চলচ্চিত্র জগতে নানাভাবে কাজ করে। মিয়াজাকির সিনেমায় প্রকৃতি আর মানুষের মধ্যকার সম্পর্কের অদ্ভুত একটি মেলবন্ধন আছে। এই সিনেমাটিও ঠিক তাই। কীভাবে মানুষ প্রকৃতিকে নিজ হাতে ধ্বংস করছে, নদ-নদীর ক্ষতি হচ্ছে এসব বিষয়কেই অ্যানিমেশনের মাধ্যমে স্পিরিটেড অ্যাওয়েতে তুলে ধরেছিলেন মিয়াজাকি।

মিয়াজাকির আন্তর্জাতিক পরিচিতি এবং সামগ্রিকভাবে স্টুডিও জিবলির পরিচিতিও সবার সামনে এনে দিয়েছিল এই সিনেমা। এটি নির্মাণের পরই মিয়াজাকি ও স্টুডিও জিবলি তাদের প্রথম অস্কার পায় সেরা অ্যানিমেশন ফিচারের জন্য। ডিজনির সহায়তায় শুধু আমেরিকায় নয়, বিশ্বজুড়ে মিয়াজাকি সবার নজরে আসেন। এরপর থেকেই ছোট পর্দা থেকে বড় পর্দায় স্থায়ী আসন করে নেন মিয়াজাকি।

জগৎজোড়া সাফল্য

মিয়াজাকি পৃথিবীকে সব সময় ভিন্ন চোখে দেখেছেন। যে চিন্তা আমরা সাধারণভাবে হয়তো করি না, সেটিই অ্যানিমেশনের মাধ্যমে সবার সামনে নিয়ে আসেন তিনি। পৃথিবীকে চাইলে কতভাবে দেখা যায় সেটিই খুব সূক্ষ্মভাবে এই সিনেমায় তুলে ধরা হতো তার সিনেমায়। প্রকৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে তিনি হয়তো খুব সাধারণ একটি বিষয় সবার সামনে তুলে ধরেছেন সিনেমায়, আবার একই সঙ্গে সেটি যেন পরিবারের সবার সঙ্গে মিলে দেখা যায় সেই বিষয়টির দিকেও খেয়াল রেখেছেন। আমেরিকার দর্শকদের কাছে অ্যানিমিকে ভিন্নধারায় পৌঁছে দিতে পেরেছিলেন মিয়াজাকি।

আমেরিকায় যেখানে ওটাকু সংস্কৃতিকে নিম্নস্তরের সংস্কৃতি বলে ভাবা হতো, সেখানে ডিজনির সহায়তায় আর মিয়াজাকির নিজস্ব প্রচেষ্টায় সেই সংস্কৃতিই এখন বিশ্ব দরবারে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়।

স্টুডিও জিবলি যে সাফল্য অর্জন করেছে তাতে চাইলেই তারা যে কোনো সিনেমার প্রতি আগ্রহ দেখাতে পারত। দর্শকরাও সেটি বেশ সহজভাবেই গ্রহণ করত। কিন্তু সে পথে হাঁটেনি মিয়াজাকির স্টুডিও। একের পর এক সাফল্য পেলেও তারা ঘোষণা দেয় গুণগত মানের অ্যানিমি মুভি ছাড়া অন্য কিছু তারা বানাবে না। নিজেদের কথাকে দর্শকদের কাছে আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে টেলিভিশনের মাধ্যমে একদম আলাদা ধাঁচের ক্যারিকেচার তৈরি করে নিজেদের চলচ্চিত্র প্রদর্শনের নতুন নানা পদ্ধতি অবলম্বন শুরু করা হয়।

ধীরে ধীরে দর্শকরাও বুঝতে পারে স্টুডিও জিবলি তাদের দেওয়া কথা রেখেছে। তারা উপহার পেতে যাচ্ছে একের পর এক দুর্দান্ত সিনেমা। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সিনেমার ভক্ত পাওয়ায় জাপানের অ্যানিমেশন সংস্কৃতি নতুন অভিজ্ঞতাপূর্ণ এক দুনিয়ায় সহজেই প্রবেশ করে।

চমৎকার দৃশ্যের সঙ্গে দুর্দান্ত আইডিয়ার মেলবন্ধনে স্টুডিও জিবলি ও মিয়াজাকি চলচ্চিত্র অঙ্গনে অন্য নির্মাতাদের জন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। অ্যানিমেশন মানেই যে শিশুদের চলচ্চিত্র এই ধারা তারাই সবার আগে ভাঙে। জাপানের সংস্কৃতি একের পর এক অনেক পরিবর্তিত হয়েছে, কিন্তু ৩০ বহর ধরে অ্যানিমি দুনিয়া একই রকম আছে। পশ্চিমা অ্যানিমেশনগুলোতে খুব কমসংখ্যক সিনেমা আছে যেটাতে বড়দের জন্যও ঘটনা আছে। একমাত্র পিক্সার স্টুডিও কিছুটা ব্যতিক্রম। আর এ কারণেই হয়তো জিবলির সঙ্গে পিক্সারের সম্পর্ক অন্য রকম। এই দুই প্রতিষ্ঠান মিলে বৈশ্বিক বিভিন্ন বিষয়কে সহজে বোঝার জন্য অ্যানিমেশন আর গল্পের মাধ্যমে সবার সামনে তুলে ধরে। আর এ কারণেই শিশু থেকে প্রাপ্তবয়স্ক সবাই তাদের দর্শক।