১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র বিক্রি ও হস্তান্তরের উদ্যোগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে উচ্চ আদালত। এ সংক্রান্ত একটি রিট আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মহি উদ্দিন শামীমের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেয়।
মুক্তিযুদ্ধের সময় ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র বিক্রি বা স্থানান্তর কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না এবং জাতীয় ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অবিলম্বে এসব অস্ত্র সংরক্ষণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে নারুলে তা জানতে চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের সময়ের কী পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র আছে এবং তা কি অবস্থায় রয়েছে সে বিষয়ে ছয় মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলেছে হাইকোর্ট। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সচিব, প্রতিরক্ষা সচিব, অর্থ সচিব, এবং বাণিজ্য সচিবকে রুলের জবাবসহ প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জেড আই খান পান্না। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী শামসুদ্দিন বাবুল, মো. শাহীনুজ্জামান, আইনুন্নাহার সিদ্দিকা, সৈয়দা নাসরিন ও লাবণী আক্তার। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নওরোজ রাসেল চৌধুরী। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র বিক্রি ও হস্তান্তর প্রক্রিয়ায় নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) পক্ষে গত ১৫ নভেম্বর হাইকোর্টে এ রিট আবেদনটি করা হয়। গত ৫ অক্টোবর একটি জাতীয় দৈনিকে ‘মুক্তিযুদ্ধের অস্ত্র বেচতে চায় সরকার’ শীর্ষক প্রকাশিত প্রতিবেদন যুক্ত করে আবেদনটি করা হয়।
ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, মুক্তিযুদ্ধের সময় ব্যবহৃত হয়েছে, এমন আগ্নেয়াস্ত্রগুলো সরকার বেচে দিতে চায়। সরকারের যুক্তি হচ্ছে এগুলো পুরনো, অপ্রচলিত এবং যুদ্ধাস্ত্র হিসেবে অকার্যকর। ফলে রাখার কোনো দরকার নেই। প্রাচীন নিদর্শন বা স্মৃতিচিহ্ন (অ্যান্টিক সুভ্যেনির) হিসেবে অস্ত্রগুলো কিনে নিতে আগ্রহ দেখিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি ও সুইজারল্যান্ডের একটি অস্ত্র আমদানিকারক কোম্পানি। আট শ্রেণি মিলিয়ে অস্ত্রের মোট সংখ্যা ২৭ হাজার ৬৬২। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১৪ হাজার ৪৫৪টি হচ্ছে ০.৩০৩ রাইফেল নম্বর-৪ এমকে-১। আর সবচেয়ে কম ১১৫টি হচ্ছে ৪৪ এমএম হ্যান্ড লঞ্চার এম-৫৭। রিট আবেদনে রুলের আর্জি জানানোসহ রুল বিচারাধীন থাকাবস্থায় অস্ত্র বিক্রি ও স্থানান্তরে নিষেধাজ্ঞা জারিসহ প্রয়োজনীয় নির্দেশনার আবেদন জানানো হয়।