প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘আমেরিকা প্রথম’ নীতি বদলে যুক্তরাষ্ট্র ফের বিশ্বমঞ্চে নেতৃত্ব দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেন। গত মঙ্গলবার ডেলাওয়ারের উইলমিংটনে এক অনুষ্ঠানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের পুরনো মিত্রদের নিয়ে একসঙ্গে কাজ করারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
ওইদিন নিজের পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তা দলের কর্মকর্তাদের নাম জানিয়ে বাইডেন বলেছেন, এই দলের মাধ্যমে এটাই প্রতিফলিত হতে যাচ্ছে যে ‘আমেরিকা ইজ ব্যাক’। সম্ভাব্য শীর্ষ কর্মকর্তাদের প্রশংসা করে বলেন, তারা আমেরিকার ভাবমূর্তিই শুধু পুনরুদ্ধার করবেন, এমন নয়। তারা আগামী প্রজন্মের জন্য আমেরিকার নতুন ভাবমূর্তি বিনির্মাণ করবেন।
আগামী ২০ জানুয়ারি দায়িত্বভার নেওয়ার পর ট্রাম্প অনুসৃত ‘একতরফা জাতীয়তাবাদ’ থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে দূরে সরিয়ে নেওয়ারও ইঙ্গিত দিয়েছেন বাইডেন।
এ সময় তিনি তার বক্তৃতায় বলেছেন, নির্বাচন শেষ। এখন দলীয় চিন্তা মাথা থেকে সরাতে হবে। একজন আরেকজনকে দমানোর প্রয়াস থেকে সরে দাঁড়িয়ে এখন ঐক্যবদ্ধ হওয়ার সময়। বাইডেন বলেন, এটা সেই দল যার মাধ্যমে প্রতীয়মান হবে যে, আমেরিকা ফিরছে এবং পিছু না হটে বিশ্বকে ফের নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত। ফের টেবিলে প্রধান হিসেবে বসে শত্রুদের মুখোমুখি হতে এবং মিত্রদের খারিজ না করতে প্রস্তুত, প্রস্তুত নিজেদের মূল্যবোধগুলোর জন্য দৃঢ়পায়ে দাঁড়াতে।
এদিকে একই দিন এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বাইডেন বলেছেন, তার শাসনামল ওবামার তৃতীয় দফা হবে মনে করার কোনো কারণ নেই। এমনটি হবে না। কারণ পৃথিবী বদলে গেছে। ‘আমেরিকাই প্রথম’ করার কথা বলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আমেরিকাকে একাকী করেছেন। তিনি আমেরিকার অনেক কিছুই বদলে দিয়েছেন।
বাইডেন বলেন, ক্ষমতা গ্রহণের ১০০ দিনের মধ্যেই তিনি অভিবাসন সংস্কারে উদ্যোগ নেবেন। নথিপত্রহীন ১ কোটি ১০ লাখের বেশি অভিবাসীকে আমেরিকায় নাগরিকত্ব পাওয়ার পথ প্রশস্ত করার আইন প্রস্তাব তিনি সিনেটে পাঠাবেন। এই সময়ের মধ্যেই নাগরিক প্রণোদনা আইন পাস করা হবে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যেসব বৈরী নির্বাহী আদেশ জারি করেছেন, সেসব বাতিল করবেন বলে জানিয়েছেন বাইডেন।
এনবিসি নিউজের লাসটার হল্টকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বাইডেন বলেছেন, নির্বাচনের সময় থেকে এখন পর্যন্ত ট্রাম্পের সঙ্গে তার কোনো সরাসরি কথা হয়নি। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে তার ট্রানজিশন টিমের সঙ্গে আন্তরিকভাবে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। গোয়েন্দা ব্রিফিং পাওয়ার জন্য তার প্রশাসনের উদ্যোগের কথা জানান তিনি।
এদিকে ডেমোক্র্যাট প্রার্থিতার দৌড়ে তার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামা দুই বাম ঘরানার সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স ও এলিজাবেথ ওয়ারেন নতুন মন্ত্রিসভায় স্থান পাচ্ছেন না বলেও ধারণা দিয়েছেন তিনি। বলেছেন, কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটে রিপাবলিকানদের আধিপত্য ঠেকাতে ওই দুজনের ভোট তার জন্য খুবই জরুরি।
নভেম্বরের নির্বাচনে জয়ী এ ডেমোক্র্যাট প্রার্থী এখন পর্যন্ত অ্যান্টনি ব্লিনকেন, জন কেরিসহ যে কজন কর্মকর্তা বেছে নিয়েছেন তাদের প্রায় সবাই ওবামা প্রশাসনে কোনো না কোনো দায়িত্বে ছিলেন।