পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেছেন, আমাদের টাকার অভাব নেই। তবে এখন লক্ষ্যভিত্তিক অর্থ ব্যয়ের দিকে যাচ্ছে সরকার। গত একনেক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, অর্থ ব্যয় কোথায় হচ্ছে সেটি দেখতে হবে। তাই এখন থেকে ব্যয়টা লক্ষ্যভিত্তিক করা হচ্ছে। প্রধান লক্ষ্য থাকবে পানি। এর সঙ্গে হাইজিন ও স্যানিটেশন। রাষ্ট্রের অর্থ বেশি খরচ হবে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য। গতকাল পানি, স্যানিটেশন ও হাইজিনবিষয়ক ন্যায্যতাভিত্তিক বাজে বরাদ্দ শীর্ষক এক ওয়েবিনারে তিনি এসব কথা বলেন। আগামী ২ ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় এশিয়া প্যাসিফিক অর্থমন্ত্রী সভা উপলক্ষে এই সভা আয়োজন করে ডেভেলপমেন্ট জার্নালিস্ট ফোরাম অব বাংলাদেশ (ডিজেএফবি) এবং ডরপ।
ডিজেএফবির সদস্য সুশান্ত সিনহার সঞ্চালনায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য ড. শামসুল আলম। পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, আমরা উন্নত দেশের কাতারে যেতে চাইছি। উন্নত দেশের প্রধান পরিচয় হবে সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ। আমরা সেই চেষ্টা করছি। অনেকটা সফলও হয়েছি। বাজেটে ওয়াশ সেক্টরে বরাদ্দ আরও বাড়ানো প্রয়োজন। আমাদের অর্থ খরচের লক্ষ্য নিয়ে অনেক সময় ঝামেলা হয়। এ জন্য এক রাতেই ওয়াশ সেক্টরে বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়তো সম্ভব নয়। কিন্তু সরকার বরাদ্দ বাড়াচ্ছে এবং সেটি অব্যাহত থাকবে। সম্প্রতি হাওর এলাকায় বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের জন্য ৮০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে একনেক। স্যানিটেশনের জন্যও প্রকল্প হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী গ্রামকে শহরে পরিণত করার ঘোষণা দিয়েছেন। কিন্তু এটি রাতারাতি হবে না। তবে বিভিন্ন পরিকল্পনার মাধ্যমে এটি করা হচ্ছে। শহরের সব সুবিধা গ্রামে পৌঁছানো আমাদের সাংবিধানিক ও নৈতিক দায়িত্ব।
মূল প্রবন্ধে ড. শামসুল আলম বলেন, উন্নয়নের জন্য ওয়াশ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) গোল-৬-এর সঙ্গে যুক্ত এটি। এই পানি, স্যানিটেশন ও হাইজিন (ওয়াশ) বাস্তবায়ন না হলে এসডিজির অনেক অভীষ্টই অর্জন হবে না। এসডিজির লক্ষ্য পূরণে বাজেটে ওয়াশ খাতের ব্যয় কয়েক গুণ বাড়াতে হবে। অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় এগুলো নিয়ে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ রয়েছে। যেমর রেইন ওয়াটার হারভেস্ট, আর্সেনিকমুক্ত পানি প্রাপ্তি নিশ্চিত, নদীগুলোয় জলাধার সৃষ্টি করা এবং পানির মান বাড়ানো হবে। গ্রামগুলোয় পাইপের মাধ্যমে পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করা হবে। এ ছাড়া উন্নতমানের পায়খানা স্থাপন করা হবে। পানির দাম নির্ধারণে কর্তৃপক্ষ গঠনের কথা বলা হয়েছে।