ইরানের শীর্ষ পরমাণু বিজ্ঞানী আততায়ীর হামলায় নিহত

ইরানের অন্যতম শীর্ষ পরমাণু বিজ্ঞানী মোহসেন ফখরিজাদাহ রাজধানী তেহরানের কাছে আততায়ীর হামলায় নিহত হয়েছেন। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে গতকাল শুক্রবার রাতে বিবিসি এ তথ্য জানিয়েছে।

পশ্চিমা বিশ্বের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ফখরিজাদাহকে ইরানের গোপন পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচির মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে বিবেচনা করে থাকে। এছাড়া আন্তর্জাতিক কূটনীতিকরা তাকে ‘ইরানি বোমার জনক’ হিসেবে অভিহিত করতেন।

জানা গেছে, তেহরানের দামাবন্দ এলাকায় ফখরিজাদাহর ওপর হামলার পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা যায়, কালো একটি গাড়ির জানালায় বুলেটের ক্ষত এবং গাড়ির পাশে রাস্তায় রক্ত।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, ফখরিজাদাহের গাড়িতে গুলি চালানোর আগে হামলাকারীরা একটি গাড়িতে বোমার বিস্ফোরণও ঘটায়। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়, সেখানেই তিনি মারা যান।

এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাভেদ জারিফ ফখরিজাদাহ হত্যার ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে একে কোনো ‘রাষ্ট্রের মদদে’ হয়েছে বলে দাবি করেছেন। তবে এর সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

মোহসেন ফাখরিজাদাহ ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের গবেষণা ও উদ্ভাবনবিষয়ক সংস্থার প্রধান ছিলেন। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা তার গাড়ি লক্ষ্য করে হামলা চালায়। এ সময় তার দেহরক্ষী ও সন্ত্রাসীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে গুরুতর আহত হন ফাখরিজাদাহ।

ইরান নতুন করে পারমাণবিক কর্মসূচি শুরুর পর ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বাড়িয়েছে। এ নিয়ে পশ্চিমা বিশ্ব উদ্বেগও প্রকাশ করছে। এরই মধ্যে এমন হামলার ঘটনা ঘটল।

ইরানের পরমাণুবিজ্ঞানীদের হত্যার ঘটনা এটাই প্রথম নয়। ২০১০ সাল থেকে ২০১২ সালের মধ্যে দেশটির চারজন বিজ্ঞানী হত্যার শিকার হয়। এসব হত্যাকাণ্ডের জন্য ইসরায়েলকে দায়ী করেছিল ইরান। সর্বশেষ হামলার জন্যও দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফের করা টুইট বার্তায় ইসরায়েলকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। আর এই হামলার জন্য যেই দায়ী হোক না কেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিদায়ের আগ দিয়ে এমন ঘটনায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা নিশ্চিতভাবেই বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।