জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য ভাঙার ঘোষণা দিয়ে বিতর্কে জড়িয়ে পড়া হেফাজত ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গতকাল শনিবার পূর্বনির্ধারিত স্মরণসভায় আসেননি।
সভার আয়োজক খেলাফত মজলিসের দাবি, পুলিশি বাধার কারণে মাওলানা মামুনুল হক অনুষ্ঠানে আসতে পারেননি। পরে এ ঘটনার প্রতিবাদে নেতকর্মীরা সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করেন। তবে পুলিশ বাধা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
খেলাফত মজলিসের নেতারা জানান, তাদের নায়েবে আমির হাফেজ মাওলানা জুবায়ের আহমেদ আনসারী সম্প্রতি মারা যান। গতকাল সকালে শহরের বঙ্গবন্ধু স্কয়ারের সুরসম্রাট ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ পৌর মিলনায়তনে তার স্মরণে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি খেলাফত মজলিসের আমির শায়খুল হাদিস মাওলানা ইসলাম নূরপূরী ও বিশেষ অতিথি করা হয় মাওলানা মামুনুল হককে। এ বিষয়ে প্রচারপত্র বিতরণও করা হয়। কিন্তু গতকাল সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত অনুষ্ঠান চললেও সেখানে তারা দুজন আসেননি।
পরে জেলা খেলাফত মজলিসের সভাপতি মাওলানা আবদুল আজিজ খন্দকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির মাওলানা রেজাউল করিম জালালী, হেফাজত নেতা সাজিদুর রহমান, আবদুর রহিম কাসেমী প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
এ বিষয়ে খেলাফত মজলিস ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মঈনুল ইসলাম অভিযোগ করেন, মাওলানা মামুনুল হক ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আসার জন্য রওনা হন। কিন্তু পথে ভৈরবে পুলিশ তাকে আটকে দিলে ফিরে যেতে বাধ্য হন।
তবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রইছ উদ্দিন বলেন, ‘মাওলানা মামুনুল হক শনিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কোনো অনুষ্ঠানে আসেননি। পথে তাকে আটকে দেওয়ার কোনো তথ্য আমাদের জানা নেই।’
এদিকে মামুনুল হককে বাধা দেওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে দুপুরে খেলাফত মজলিস ও হেফাজতের নেতাকর্মীরা শহরের বঙ্গবন্ধু স্কয়ার, মঠের গোড়া ও থানা ব্রিজ এলাকায় সড়ক অবরোধ করে। তাদের বিক্ষোভের কারণে প্রায় আধা ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ ছিল। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেয়।