ম্যারাডোনার মৃতদেহের সঙ্গে ছবি তুলে বিপাকে ওরা

বুয়েনস আয়ার্সের প্রেসিডেন্টস প্রাসাদে একটি কফিনে রাখা হয় ডিয়েগো ম্যারাডোনার মৃতদেহ। সেই ক্যাসকেটের ডালা পুরোটা সময় ছিল বন্ধ। করোনার কারণে এবং ম্যারাডোনার প্রতি সম্মান জানিয়ে সাধারণ শুভাকাক্সক্ষী তো বটেই, দেশের প্রেসিডেন্টের জন্যও তা খোলা হয়নি। কিন্তু শেষকৃত্যের জন্য প্রেসিডেন্টস প্রাসাদ থেকে কবরস্থানে নেওয়ার পথে ঘটল বিপত্তি। কফিন বয়ে নেওয়ার জন্য যাদের দায়িত্ব দেওয়া হয় তারাই গন্ডগোল বাধালেন। কর্মীদের তিনজন ডালা খুলে ম্যারাডোনার মৃতদেহের সঙ্গে ছবি তোলেন। শুধু তাই নয়, ছবিগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্টও করেন। তারপর থেকেই সমালোচনা। এমনকি মৃত্যুর হুমকিও পাচ্ছেন তারা।

ক্লদিও ফার্নান্দেজ নামের একজন কর্মী, তার ছেলে এবং আরও একজন কাজটি করেছেন। ফার্নান্দেজ রেডিও দিয়েজকে বলেন, ‘আমার ছেলে ইসমায়েল সেখানে উপস্থিত ছিল এবং অপর একজন। আমরা আগে থেকে পরিকল্পনা করে এটা করিনি। আবেগতাড়িত হয়ে মুহূর্তে আমাদের এই পরিকল্পনা আসে এবং ভুল কাজটা করে ফেলি। এজন্য চাকরি হারিয়েছি আমি।’ ফার্নান্দেজ জানান, ম্যারাডোনার পরিবারের সঙ্গে তাদের জানাশোনা আছে। তাই ফুটবল কিংবদন্তির মৃত্যুতে তিনি একটু বেশিই আবেগতাড়িত হয়ে পড়েন।  ‘ম্যারাডোনার পরিবার আমাকে চেনে। আমরা তাদের প্রতিবেশী। আমাদের মধ্যে ভালো সম্পর্ক। আমি মোটেও ম্যারাডোনাকে অসম্মান করার জন্য এটা করিনি। কিন্তু এখন আমাদের মৃত্যুর হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমরা খুবই দুশ্চিন্তায় আছি। আমরা আমাদের কাজের জন্য সবার কাছে ক্ষমা চাইছি।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা যায় একজন লোক ক্যাসকেটের ডালা খোলা অবস্থায় ম্যারাডোনার মৃতদেহের সামনে দাঁড়িয়ে। তার একটি হাতের বুড়ো আঙুল উঁচিয়ে ক্যামেরার দিকে আর অপর হাত ম্যারাডোনার মাথায়। ম্যারাডোনার শেষকৃত্য সম্পন্ন করার দায়িত্ব পাওয়া ‘ফিউনেরাল পারলার’ নামের প্রতিষ্ঠানটিও এখন বিপাকে পড়েছে। এর ম্যানেজার মাতিয়াস পিকন তার কর্মীদের ভর্ৎসনা করে বলেন, ‘আমাদের ম্যারাডোনার পরিবার চেনে। তাদের বিশ্বাসটা ভেঙে গেছে। আমরা সত্যিই লজ্জিত। ভয় পাচ্ছি আমাদের ওপর কেউ আইনি নোটিস পাঠালে আমাদের পৈতৃক ব্যবসা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হবে। আমার বাবা দীর্ঘদিন এই কাজ করেছেন। তিনি এখন ৭৫ বছরের। তিনিও ব্যাপারটা দেখে হতাশ, আমরা ভাইয়েরাও।’

এদিকে ম্যারাডোনার উকিল মাতিয়াস মোরলা এই ঘটনার জন্য ফিউনেরাল পারলারের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে রেখেছেন।