দেশে আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে হলে গ্রাম আদালতকে কার্যকর ও শক্তিশালী করার কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘গ্রাম আদালতকে শক্তিশালী করতে পারলে জেলা পর্যায়ের আদালতসমূহে মামলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে।’ গতকাল রাজধানীর একটি হোটেলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ইউএনডিপির সহায়তায় স্থানীয় সরকার বিভাগ আয়োজিত গ্রাম আদালতের আইনগত কাঠামো সংস্কার বিষয়ক জাতীয় পর্যায়ের পরামর্শ সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, ‘গ্রামাঞ্চলে অনেক ছোট ছোট এবং খুব সামান্য বিষয় নিয়ে মানুষ নানারকম বিবাদে জড়িয়ে পড়েন। স্থানীয়ভাবে এসব বিবাদ মীমাংসা করতে না পারায় তারা কোর্টে চলে যান। এতে একদিকে যেমন আদালতে মামলার জট তৈরি হয়, অন্যদিকে ভুক্তভোগীদের সময় ও অর্থের অপচয় হওয়ার পাশাপাশি তাদের রায় পেতে অনেক দেরি হয়। এ ছাড়া এক ধরনের অসাধু ব্যক্তি বিবাদ মীমাংসা করে দেওয়ার নামে উভয় পক্ষের কাছ থেকে টাকাপয়সা আদায় করেন।’
গ্রামীণ মানুষের মধ্যে দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করায় বর্তমানে গ্রাম আদালতের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পেয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘গ্রাম আদালত পরিচালন প্রক্রিয়া সহজতর করতে এর আইনকে আরো যুগোপযোগী করতে হবে। আজকের এই অনুষ্ঠানে উন্মুক্ত আলোচনার মাধ্যমে গ্রাম আদালতের আইনি কাঠামো সংশোধনের যেসব প্রস্তাবনা আসবে সেগুলোকে সন্নিবেশিত করে সংশ্লিষ্ট সবার মতামত নিয়ে আইন তৈরি করলে গ্রাম পর্যায়ে স্থানীয় বিচারব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে।’
তিনি বলেন, ‘সারা বিশ্বে সময়-পরিস্থিতি ও মানুষের কল্যাণের কথা বিবেচনা করে আইনের পরিবর্তন করা হয়। গ্রাম আদালত আইনের পাশাপাশি স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীনে অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর আইন যুগোপযোগী করার জন্য সরকার কাজ করছে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা-এসডিজির সকল টার্গেট পূরণ করতে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। শহর এবং গ্রামের মানুষের মধ্যে বৈষম্য নিরসনে সরকার কাজ করছে।’
তাজুল ইসলাম বলেন, ‘গ্রাম আদালত সক্রিয় করার কার্যক্রম পরিচালনায় এক দশক জুড়ে নিরবচ্ছিন্নভাবে সরকারের পাশে থাকায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ইউএনডিপির প্রতি আমরা কৃতজ্ঞতা জানাই।’
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ, ইউএনডিপি বাংলাদেশের আবাসিক প্রতিনিধি সুদীপ্ত মুখার্জি, ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত রেন্সজে তেরিংক প্রমুখ।