রংপুরে হানাদার বাহিনীর টর্চার সেলের পাশে মানুষের হাড়

রংপুর মহানগরীতে টাউন হলের পাশে মহান মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্থান হানাদার বাহিনীর ব্যবহৃত  টর্চার সেলের পাশের বধ্যভূমি থেকে মানুষের হাড়-হাড্ডি ও দাঁতের অংশ বিশেষ পাওয়া গেছে। 

এ খবর ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষজন ছুটে যান টাউন হল বধ্যভূমি চত্বরে। পরে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও বধ্যভূমি এলাকা পরিদর্শন করেন।

সোমবার সকালে ওই বধ্যভূমিতে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ কাজের জন্য শ্রমিকরা মাটি খুঁড়লে এসব হাড়গোড় বের হয়।
এদিকে, খনন কাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা জানান, মাটিতে ভরাট হওয়া কুয়ার উপরিভাগ কেবল খোঁড়া হয়েছে। পুরো কুয়া খুঁড়লে মুক্তিযুদ্ধকালীন নির্যাতনের শিকার হয়ে মারা যাওয়া মানুষের আরো হাড়গোড় পাওয়া যেতে পারে।

জানা যায়, বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মারক এই টাউন হল বধ্যভূমি। পাকিস্থান হানাদার বাহিনী টাউন হলে টর্চার সেল করেছিল। মুক্তিকামী বাঙালি, মুক্তিযোদ্ধা ও নিরীহ মানুষদের ধরে এনে টর্চার সেলে নির্যাতন ও হত্যা করেছিল। মা-বোনদের ইজ্জত লুটসহ তাদের হত্যা করে ফেলে দেয়া হয়েছিলো টাউন হলের পাশের কুয়াতে।  

এদিকে বিষয়টি জানাজানি হলে সংস্কৃতিকর্মী ও সংগঠকরা বধ্যভূমি পরিদর্শনে আসেন।

সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ১৬ নভেম্বর ওই স্থানে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করা হয়। ঐতিহাসিক টাউন হল ও আশপাশের সৌন্দর্যবর্ধন বৃদ্ধিসহ মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত বধ্যভূমিটি সংরক্ষণে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করছে রংপুর জেলা প্রশাসন। বধ্যভূমিতে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ ও সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ আগামী বছরের জুনে শেষ হবে। এর নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৪ লাখ টাকা।