মাথাব্যথা যে কারোরই হতে পারে। এটি কোনো রোগ নয়, বরং রোগের উপসর্গ। কাজের চাপ, আবহাওয়া পরিবর্তন সহ নানা কারণে মাথা যন্ত্রণা হতে পারে। মাথাব্যথা সমস্যার উপশম ঘটাতে গেলে আগে জানতে হবে মাথাব্যথার ধরন ও কারণ।
মাথাব্যথার ধরন
মাথার একপাশে : সাধারণত মাইগ্রেন হলে মাথার একপাশে ব্যথা অনুভূত হয়। মাথায় ধকধকানি ও স্পন্দন
অনুভূত হয়।
মাথার চারদিকে : মানসিক চাপ বা বিষণœতার কারণে পুরো মাথার চারদিকে ব্যথা হয়ে থাকে। একে বলে টেনশন হেডেক। রোগীরা প্রায় সময় বলেন, এ ব্যথায় আঁটসাঁট কোনো কিছু মাথার চারদিকে চেপে আছে বলে
মনে হয়।
পুরো মুখে : মুখমণ্ডলে, বিশেষত চোখের চারপাশে, কোটরে, গালে চাপ ও ব্যথা অনুভূত হয়। এটি সাইনাস হেডেক। সাইনোসাইটিসের কারণে এ ধরনের ব্যথা হয়ে থাকে।
মাথার যেকোনো অংশে : একে বলা হয় থান্ডারক্ল্যাম্প হেডেক। হঠাৎ করেই মাথার যেকোনো অংশে তীব্র ব্যথা হতে থাকে।
এটি গুরুতর সমস্যা যেমন হেমারেজ, স্ট্রোক ইত্যাদির নির্দেশক। এ ছাড়া আরও কয়েক ধরনের মাথাব্যথা রয়েছে, যেমন ভ্রমণের কারণে মাথার একপাশে ব্যথা হওয়া, যেকোনো পরিশ্রম করার পর মাথার যেকোনো অংশ ব্যথা হওয়া, নারীদের মাসিকের সময় মাথাব্যথা হওয়া, অতিরিক্ত গরম বা ঠা-ায় মাথাব্যথা হওয়া প্রভৃতি।
পরিত্রাণ
তাৎক্ষণিক ব্যথা কমাতে প্যারাসিটামল বা কিছু ক্ষেত্রে
ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়া যেতে পারে। তবে অতিরিক্ত ব্যথানাশক ওষুধ গ্রহণের ফলেও মাথাব্যথা হতে পারে। সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
এ ছাড়া কিছু সাধারণ নিয়ম মেনে চলা ভালো।
যেমন অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা না করা পর্যাপ্ত ঘুমানো পর্যাপ্ত আলোতে পড়াশোনা করা খুব কাছে বই রেখে না পড়া অতিরিক্ত স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে না থাকা দীর্ঘসময় কানে ইয়ারফোন গুঁজে গান শোনা থেকে বিরত থাকা ধূমপান ও মদ্যপান থেকে বিরত থাকা।
তীব্র মাথাব্যথায় ভুগলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়ে সমস্যা নিয়ে আলোচনা করা উচিত। বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজনও হতে পারে। কারণ নির্ধারণ করা গেলে মাথাব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়া সহজ হয়।