স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বিবৃতি

২০৩০ সালের মধ্যে দেশে এইডস নির্মূল

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, ‘২০৩০ সালের মধ্যে দেশ থেকে এইডস নির্মূল করার লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার। বিশ্বের অন্যান্য দেশে যখন এইডস আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে, আমাদের দেশে এই সংখ্যা ক্রমশ হ্রাসমান রয়েছে। সরকার এইডস রোগীদের সব ধরনের চিকিৎসা ও পরীক্ষা ব্যবস্থা বিনামূল্যে চালু রেখেছে’। গতকাল মঙ্গলবার বিশ্ব এইডস দিবস উপলক্ষে এক বিবৃতিতে এ কথা বলেন তিনি।

এদিকে আগামী ফেব্রুয়ারি মাসেই করোনার টিকা পাওয়া যাবে উল্লেখ করে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. আবদুল মান্নান বলেছেন, ‘করোনাভাইরাসের টিকার বিষয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কথা হচ্ছে। যে টিকাই আগে আসবে, সেটাই আনার চেষ্টা করা হবে। ফেব্রুয়ারিতেই ভ্যাকসিন পাব বলে আশা করি। তবে তার চেয়ে বেশি দরকার স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে’। বিশ্ব এইডস দিবস উপলক্ষে রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমি হলরুমে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

টিকা পাওয়ার অগ্রাধিকারে গণমাধ্যমকর্মীদেরও রাখা হয়েছে বলে জানিয়ে সচিব বলেন, ‘সাংবাদিকরা নভেল করোনাভাইরাস মহামারীতে মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন। এ কারণে তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে’।

বিবৃতিতে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘করোনার প্রথম ঢেউ আমরা সামলাতে সক্ষম হয়েছি এবং দ্বিতীয় ঢেউ এলেও এখন আর তেমন সমস্যা হবে না। সরকারি-বেসরকারি উভয় শক্তি মিলেই করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলা করা হবে। কেননা, করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় দেশের স্বাস্থ্য খাতের এখন সব ধরনের প্রস্তুতি হাতে রয়েছে।’

জাহিদ মালেক বলেন, ‘হাসপাতাল প্রস্তুতকরণ, শয্যাসংখ্যা বৃদ্ধি করা, প্রশিক্ষণ, সেন্ট্রাল অক্সিজেন সবই এখন প্রস্তুত। তাই দ্বিতীয় ঢেউ চলে এলেও তাকে সামলানো কঠিন হবে না। তবে, দেশের মানুষকেও একই সঙ্গে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। মুখে মাস্ক পরে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কোনো বিকল্প নেই’।

দেশের স্বাস্থ্য খাতের টিকাদান কর্মসূচির সাফল্যের কথা তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘স্বাস্থ্য খাত ইতিমধ্যেই পোলিও, টিটেনাস, যক্ষ্মা রোগ নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়েছে। টিকাদান কর্মসূচির সাফল্যের কারণে প্রধানমন্ত্রী বিশ্বের মর্যাদাসম্পন্ন পুরস্কার ভ্যাকসিন হিরো হয়েছেন। বিশ্বের সবচেয়ে দুর্যোগপূর্ণ সময়ে কভিড-১৯ এর ভ্যাকসিন প্রয়োগেও আগামীতে স্বাস্থ্য খাত সফল হবে।’

সভায় সভাপতিত্ব করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. আবদুল মান্নান, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন সভায় উপস্থিত ছিলেন।