দেশে এক মাসের ব্যবধানে করোনাভাইরাস সংক্রমণের নতুন রোগী শনাক্ত ও মৃত্যু বেড়েছে। সদ্য বিদায় নেওয়া নভেম্বর মাসে আগের মাস থেকে ১৩ হাজার রোগী বেশি শনাক্ত হয়েছে। শতকরা হিসাবে নভেম্বরে অক্টোবরের চেয়ে প্রায় ৩০ শতাংশ রোগী বেশি শনাক্ত হয়েছে। একই সঙ্গে নভেম্বরে শনাক্তের হারও বেড়েছে দুই শতাংশের মতো এবং প্রায় অর্ধশত মৃত্যু বেশি হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করোনাবিষয়ক তথ্য বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য জানা গেছে। অধিদপ্তরের তথ্যমতে, নভেম্বরে ৪ লাখ ৩৬ হাজার ৪৩৯টি নমুনা পরীক্ষায় ৫৭ হাজার ২৪৮ জনের মধ্যে করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের শতকরা হার ছিল ১৩ দশমিক ১২ শতাংশ। আর অক্টোবরে ৩ লাখ ৮৮ হাজার ৬০৭টি নমুনা পরীক্ষায় শনাক্ত হয়েছিল ৪৪ হাজার ২০৫ জন রোগী। শনাক্তের হার ছিল ১১ দশমিক ৩৮ শতাংশ। দেখা যাচ্ছে, অক্টোবরের তুলনায় নভেম্বরে পরীক্ষা মাত্র ১২ শতাংশ বাড়লেও শনাক্ত বেড়েছে ৩০ শতাংশ। নভেম্বরে ১৩ হাজার ৪৩ জন করোনা রোগী বেশি শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া নভেম্বরে মৃত্যু বেড়েছে ৭ শতাংশের বেশি। অক্টোবরে মারা যায় ৬৭২ জন এবং নভেম্বরে মারা যায় ৭২১ জন। নভেম্বরে সুস্থও বেড়েছে। অক্টোবরে ৪৮ হাজার ৬৫৮ জন এবং নভেম্বরে ৫৬ হাজার ৫৬৬ জন রোগী করোনামুক্ত হন।
এদিকে গতকাল মঙ্গলবার ডিসেম্বরের প্রথম দিন অধিদপ্তরের নিয়মিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ২ হাজার ২৯৩ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। এদিন সাড়ে ১৫ হাজার পরীক্ষায় ১৪ দশমিক ৭৯ শতাংশ হারে রোগী শনাক্ত হয়, যা আগের দিনের চেয়ে কম। আগের দিন সোমবার ৮৯ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ ১৬ দশমিক ৪৩ শতাংশ হারে রোগী শনাক্ত হয়। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ৩১ জন করোনা রোগীর মৃত্যু হয়ে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। এদিন মৃতদের মধ্যে ১৪ জনই নারী, যা অন্যান্য দিনের চেয়ে তুলনামূলক বেশি।
গতকাল ছিল দেশে প্রথম করোনা শনাক্তের পর ২৬৯তম দিন। অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সারা দেশে ১১৮টি পরীক্ষাগারে করোনার নমুনা পরীক্ষা চলমান। এসব পরীক্ষাগারে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় (সোমবার দুপুর ১২টা থেকে মঙ্গলবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত) ১৫ হাজার ৯৬৯টি নমুনা সংগৃহীত হয়। পরীক্ষা করা হয় ১৫ হাজার ৫০১টি। এসব পরীক্ষায় ২ হাজার ২৯৩ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়। শনাক্তের হার ছিল ১৪ দশমিক ৭৯ শতাংশ। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩১ রোগীর মৃত্যু হয়েছে এবং বাসা ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও ২ হাজার ৫১৩ রোগী সুস্থ হয়েছে।
এতে বলা হয়, দেশে গতকাল পর্যন্ত ২৭ লাখ ৮৮ হাজার ২০২টি নমুনা পরীক্ষায় ৪ লাখ ৬৭ হাজার ২২৫ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে মারা গেছে ৬ হাজার ৬৭৫ এবং সুস্থ হয়েছে ৩ লাখ ৮৩ হাজার ২২৪ জন। বাকিরা চিকিৎসাধীন। এ পর্যন্ত যত পরীক্ষা হয়েছে তার বিপরীতে রোগী শনাক্ত হয়েছে ১৬ দশমিক ৭৬ শতাংশ। শনাক্তদের মধ্যে এখন পর্যন্ত মৃত্যুহার ১ দশমিক ৪৩ ও সুস্থতার হার ৮২ দশমিক ০২ শতাংশ।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় মৃতদের মধ্যে পুরুষ ১৭ ও নারী ১৪ জন। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে ২৩, চট্টগ্রামে ৫ এবং রাজশাহী, সিলেট ও ময়মনসিংহে ১ জন করে মারা গেছে। মৃতদের মধ্যে ষাটোর্ধ্ব ১৯, ৫১-৬০ বছরের ৭, ৪১-৫০ বছরের ১, ৩১-৪০ বছরের ২ এবং ২১-৩০ বছরের ছিল ২ জন। ৩১ জনের সবাই হাসপাতালে মারা গেছে।
অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে করোনায় এ পর্যন্ত মৃতদের মধ্যে পুরুষ ৫ হাজার ১১৬ ও নারী ১ হাজার ৫৫৯ জন। শতকরা হিসাবে পুরুষ ৭৬ দশমিক ৬৪ ও নারী ২৩ দশমিক ৩৬ শতাংশ। সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৫৮৮ জন মারা গেছে ঢাকা বিভাগে। এছাড়া চট্টগ্রামে ১ হাজার ২৬২, খুলনায় ৪৯৮, রাজশাহীতে ৪০৭, রংপুরে ৩০১, সিলেটে ২৬৬, বরিশালে ২১৯ এবং সর্বনিম্ন ১৩৪ জন মারা গেছে ময়মনসিংহ বিভাগে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ২৬১ রোগীকে আইসোলেশনে ও ১ হাজার ১৬২ জনকে কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে আইসোলেশনে ১২ হাজার ৯২৯ ও কোয়ারেন্টাইনে আছে ৪০ হাজার ৭৮৩ জন। সারা দেশে কভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালগুলোতে ১১ হাজার ৩৩৮টি সাধারণ বেডের মধ্যে গতকাল রোগী ভর্তি ছিল ৩ হাজার ৪টিতে। বাকিগুলো খালি ছিল। এছাড়া ৫৭৪টি আইসিইউর মধ্যে রোগী ভর্তি ছিল ৩২৮টিতে।