পিআরআই ওয়েবিনার

রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানি বন্ধ করা উচিত হবে না

দেশের বাজারে বিক্রিত মোট গাড়ির ৭০ শতাংশ হচ্ছে রিকন্ডিশন্ড গাড়ি। এর ৮০ শতাংশই জাপান থেকে আমদানি করা ও স্বল্পব্যবহৃত। তবে বর্তমানে গাড়ি আমদানির ক্ষেত্রে ১২৮ থেকে ৮২৭ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক কাঠামো রয়েছে, যা অত্যন্ত বেশি। বিলাসবহুল শুল্ক কমানো হলে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়বে। এছাড়া নতুন গাড়ির চাহিদা বৃদ্ধি পেলেও প্রস্তাবিত অটোমোবাইল শিল্প উন্নয়ন নীতিমালায় রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানি বন্ধ করা উচিত হবে না। কিন্তু ক্রেতারা যাতে দক্ষ, নিরাপদ এবং পরিবেশবান্ধব গাড়ি পান সে বিষয়টিতে লক্ষ রাখতে হবে।

পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (পিআরআই) গতকাল বুধবার ‘কার মার্কেট ইন বাংলাদেশ : চ্যালেঞ্জেস অ্যান্ড প্রসপেক্টস’ শীর্ষক এক ওয়েবিনার আয়োজন করে। এ সময় বক্তরা এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি খাতবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে ওয়েবিনারে যুক্ত ছিলেন। বিশ্বব্যাংক ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন ওয়েবিনারটির সমন্বয়ক ছিলেন। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পিআরআইয়ের চেয়ারম্যান ড. আহসান এইচ মনসুর।

সালমান এফ রহমান বলেন, বর্তমান সরকার গাড়ি নির্মাণ শিল্পে নতুন প্রযুক্তির পথে চলছে। বিনিয়োগকারীদের সরকার বিনামূল্যে জমি প্রদানেও প্রস্তুত রয়েছে। সরকার অবশ্যই দেশে পুরনো প্রযুক্তির কোনো গাড়ি নির্মাণ শিল্প স্থাপন করতে দেবে না। তিনি আরও বলেন, উচ্চ সিসির গাড়িতে আমদানি শুল্ক কমানো হলে রাজস্ব আয় বাড়বে। বর্তমানে গাড়ি আমদানির ক্ষেত্রে ১২৮ থেকে ৮২৭ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক কাঠামো রয়েছে, যা অত্যন্ত বেশি। শুল্ক কাঠামো কমানো হলে দেশের আরও বেশিসংখ্যক লোক বিলাসবহুল গাড়ি কিনবে।

পিআরআইয়ের চেয়ারম্যান ড. আহসান এইচ মনসুর তার মূল প্রবন্ধে বলেন, দেশে সৌর এবং জ¦ালানিভিত্তিক মোটরগাড়ি নির্মাণ শিল্প স্থাপন করতে হবে। এ দেশে গাড়ি নির্মাণ শিল্পকে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। এজন্য নতুন গাড়ির চাহিদা বৃদ্ধি পেলেও প্রস্তাবিত অটোমোবাইল শিল্প উন্নয়ন নীতিমালায় রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানি বন্ধ করা উচিত হবে না। এ বিষয়ে ভারতের অভিজ্ঞতা ভালো নয়। তাছাড়া বাংলাদেশে বিক্রিত মোট গাড়ির ৭০ শতাংশ হচ্ছে রিকন্ডিশন্ড গাড়ি যেগুলোর ৮০ শতাংশই জাপান থেকে আমদানি করা এবং স্বল্প ব্যবহৃত। দেশে যেন কোনো স্ক্রু ড্রাইভিং শিল্প স্থাপন না করা হয়, নীতিমালা প্রণয়নের ক্ষেত্রে সে বিষয়টি লক্ষ রাখতে হবে।

ওয়েবিনারের সমন্বয়ক বিশ^ ব্যাংক ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন তার বক্তব্যে বলেন, ক্রেতারা যাতে দক্ষ, নিরাপদ এবং পরিবেশবান্ধব গাড়ি পান সে বিষয়টিতে লক্ষ রাখতে হবে।

বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিক্যালস ইম্পোর্টার্স অ্যান্ড ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বারভিডা) প্রেসিডেন্ট আবদুল হক বলেন, সরকারকে দেশ এবং আঞ্চলিক ও বৈশি^ক অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিয়ে অটোমোবাইল শিল্প উন্নয়ন নীতিমালাটি চূড়ান্ত করতে হবে। জার্মানি, জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশগুলো যেহেতু বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাণের দিকে অগ্রসর হচ্ছে তাই আমাদেরও উচ্চপ্রযুক্তির পথে এগোতে হবে। সরকারকে বিদ্যমান বিনিয়োগ, লক্ষাধিক মানুষের কর্মসংস্থান এবং পরিবেশ রক্ষার বিষয়টি মাথায় রেখে নতুন প্রযুক্তি গ্রহণের মাধ্যমে অটোমোবাইল শিল্প উন্নয়ন নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে।

এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মজিদ বলেন, স্থানীয় বাজার ও রপ্তানি বাজার এবং ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ টার্গেট করে যদি নতুন বিনিয়োগ নিশ্চিত করা যায় তবে দেশে গাড়ি নির্মাণ শিল্পের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।

এনবিআরের সদস্য সৈয়দ গোলাম কিবরিয়া বলেন, বর্তমানে গাড়ি আমদানির ক্ষেত্রে ১২৮ থেকে ৮২৭ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক কাঠামো রয়েছে, যা অত্যন্ত বেশি। আগামী অর্থবছরের বাজেটে সিকেডি এবং সিবিইউর ওপর বিদ্যমান শুল্ক পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে।

শিল্প মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব আনোয়ারুল আলম বলেন, সরকার প্রস্তাবিত নীতিমালাটি চূড়ান্ত করার আগে সব ঝুঁকিগ্রহীতার মতামত গ্রহণ করবে। এছাড়া এ নীতিটি চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকও হবে।