রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরীতে তিন দশকের বেশি সময় আগে গৃহবধূ সগিরা মোর্শেদ হত্যা মামলায় অভিযোগ গঠন করে ফের বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছে আদালত। গতকাল বুধবার মামলা থেকে চার আসামির অব্যাহতির আবেদন নাকচ করে আগামী ১১ জানুয়ারি সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন রেখেছেন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশ। আসামিরা হলেন নিহত সগিরা মোর্শেদের ভাশুর ডা. হাসান আলী চৌধুরী (৭০), তার স্ত্রী সায়েদাতুল মাহমুদা ওরফে শাহিন (৬৪), শাহিনের ভাই আনাছ মাহমুদ রেজওয়ান (৫৯) ও মারুফ রেজা (৫৯)। আলোচিত এ মামলার অভিযোগপত্রে ৫৭ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে বলে দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) তাপস কুমার পাল।
মামলার আরেক আসামি মিন্টু মণ্ডল ওরফে মন্টুর বিরুদ্ধে আগেই অভিযোগপত্র গঠন করা হয়। তিনি জামিনে রয়েছেন। মামলার প্রধান আসামি ডা. হাসান চৌধুরী এবং সায়েদাতুল মাহমুদা শাহিনের পক্ষে নিয়োজিত আইনজীবী এহসানুল হক সমাজী উপস্থিত ছিলেন। অপর আসামি মারুফ রেজার পক্ষে ছিলেন আইনজীবী সৈয়দ রেজাউর রহমান।
এদিকে সগিরা মোর্শেদ হত্যা মামলার আসামি সায়েদাতুল মাহমুদা ওরফে শাহিনের জামিন মঞ্জুর করেছে একই আদালত। গতকাল জামিনের আবেদনের ওপর শুনানি শেষে শর্তসাপেক্ষে এক আদেশে এক লাখ টাকা মুচলেকায় আগামী ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত আসামির জামিন মঞ্জুর করে আদালত।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী তাপস কুমার পাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আসামি নারী এবং তার বয়স, অসুস্থতা বিবেচনায় আদালত আগামী ধার্য তারিখ পর্যন্ত জামিন মঞ্জুর করেছে। তবে শর্ত হিসেবে বলা হয়েছে, তার পাসপোর্ট জমা রাখতে হবে এবং তিনি বাদীপক্ষ বা সাক্ষীকে কোনো ধরনের হুমকিধমকি দিলে জামিন বাতিল হবে।’
১৯৮৯ সালের ২৫ জুলাই ভিকারুননিসা নূন স্কুলের সামনে খুন হন সগিরা মোর্শেদ। রমনা থানায় মামলার পর মন্টু নামে একজনকে আসামি করে ঢাকার একটি আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়ার পর ১৯৯১ সালে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। সাক্ষ্যগ্রহণের সময় মারুফ রেজা নামে একজনের নাম আসায় বাদীপক্ষের আবেদনে সাড়া দিয়ে ওই বছরের ২৩ মে অধিকতর তদন্তের আদেশ দেয় আদালত। একই বছরের জুলাইতে হাইকোর্ট বিচারকাজ ও তদন্তের ওপর ছয় মাসের স্থগিতাদেশসহ রুল জারি করে। পরের বছর আগস্টে রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বিচারকাজ স্থগিত থাকবে মর্মে আদেশ দেয় হাইকোর্ট।
অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের উদ্যোগ নিলে গত বছরের ২৬ জুন স্থগিতাদেশ তুলে নেয় হাইকোর্ট। তদন্ত শেষে পিবিআই জানায়, দুই ভাইয়ের স্ত্রীদের মধ্যে ঈর্ষা থেকে খুন হয়েছিলেন ছোট ভাইয়ের স্ত্রী সগিরা মোর্শেদ। স্ত্রীর প্ররোচনায় ছোট ভাইয়ের স্ত্রীকে শায়েস্তা করতে বেইলি রোড এলাকার সন্ত্রাসী মারুফ রেজাকে ভাড়া করেছিলেন ডা. হাসান। এছাড়া মারুফকে সহযোগিতার করতে স্ত্রীর ভাই রেজওয়ানকে দায়িত্ব দিয়েছিলেন তিনি।