বড় আন্দোলনে যেতে পারেন ‘বঞ্চিত’ পোশাকশ্রমিকরা

তাজরীন ফ্যাশনসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিক পরিবারগুলো টানা ৭৫ দিন ধরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে। তবে আড়াই মাসে আশ্বাস ছাড়া কিছুই মেলেনি এককালীন ক্ষতিপূরণ, পুনর্বাসন ও সুচিকিৎসার দাবিতে অবস্থান নেওয়া শ্রমিকদের। গতকাল বুধবার তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন ঢাকা ইপিজেডের এ-ওয়ান বিডি গার্মেন্টসের শতাধিক শ্রমিক। গত বছরের মাঝামাঝি কারখানা বন্ধ হলেও এখনো তারা বকেয়া বেতন-ভাতাদি বুঝে পাননি। মালিকপক্ষ কিংবা বাংলাদেশ এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোনস অথরিটির (বেপজা) পক্ষ থেকে পাননি কোনো সাড়া। এই অবস্থায় তারাও ঘোষণা দিয়েছেন, বকেয়া বুঝে না পাওয়া পর্যন্ত তাজরীনের শ্রমিকদের মতো তারাও অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন। শ্রমিক নেতারা বলছেন, আগামীতে ড্রাগন গার্মেন্টস ও রানা প্লাজার আহত শ্রমিকরাও যুক্ত হতে পারেন এই কর্মসূচিতে। দাবি না মানলে তখন আন্দোলন আরও জোরালো হতে পারে।

এ-ওয়ান বিডি গার্মেন্টসের শ্রমিকরা বলছেন, গত বছরের মাঝামাঝি কারখানা বন্ধ হলেও এখনো তাদের বকেয়া পরিশোধ করেনি মালিকপক্ষ এবং বাংলাদেশ এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোনস অথরিটি (বেপজা)। শ্রমিকদের পাওনা সংক্রান্ত বিষয় দেখভাল করা শ্রম মন্ত্রণালয়ের কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর থেকে এ বিষয়ে দেশ রূপান্তরকে বলা হয়, এ-ওয়ান শ্রমিকদের দাবি-দাওয়া সম্পর্কিত স্মারকলিপি তারা পেয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করতে বেপজাকে সুপারিশ করবে মন্ত্রণালয়। কারণ ইপিজেডের কারখানাগুলো পরিচালিত হয় ইপিজেড আইন দ্বারা। এখানের বিষয় খতিয়ে দেখার সরাসরি আইনি অধিকার শ্রম মন্ত্রণালয়ের নেই। সুতরাং বেপজাকে সুপারিশ করার চেয়ে বেশি কিছু করা মন্ত্রণালয়ের পক্ষে সম্ভব নয়।

এদিকে গত নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে তাজরীন ফ্যাশনসে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিপূরণ বঞ্চিত শ্রমিকদের তালিকা চেয়ে দেশের গার্মেন্টস মালিকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ-কে চিঠি দিয়েছে কলকারখানা অধিদপ্তর। জানা গেছে, চিঠিতে সুনির্দিষ্টভাবে ৩৬ শ্রমিকের তথ্য জানতে চাওয়া হয়েছে। সেই চিঠির উত্তর এখনো দেয়নি বিজিএমইএ। এ ব্যাপারে জানতে দেশ রূপান্তরের পক্ষ থেকে বিজিএমইএতে যোগাযোগ করলে বলা হয়, চিঠি সম্পর্কিত কিছু তাদের জানা নেই। আবার অধিদপ্তর বলছে, চিঠির উত্তর না এলে আপাতত কিছু করার নেই।

কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের ঢাকা জেলা কার্যালয়ের মহাপরিচালক এ কে এম সালাউদ্দিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, শ্রম প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশে আমরা স্মারকলিপি রিসিভ করেছি। তবে এ-ওয়ান শ্রমিকদের পাওনা টাকার ব্যাপারে সরাসরি কিছু করার আইনি উপায় আমাদের নেই। প্রতিমন্ত্রী ইতিমধ্যেই বিষয়টি তদন্ত করতে বেপজার চেয়ারম্যানকে অনুরোধ করেছেন। যেহেতু শ্রমিকরা এসেছেন তাই তিনি আবার অনুরোধ করবেন।

তাজরীন শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণের বিষয়ে সালাউদ্দিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমরা বিজিএমইএতে শ্রমিকের তালিকা এবং প্রত্যয়নপত্র চেয়ে চিঠি দিয়েছি। তারা সম্ভবত বিষয়টি যাচাই-বাছাই করছে। এ চিঠির উত্তর এলে বাকি কাজ এগোবে।

বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতির সাধারণ সম্পাদক জুলহাসনাইন বাবু দেশ রূপান্তরকে বলেন, এ-ওয়ানের শ্রমিকরা গত নভেম্বরে দুই দফায় ছয় দিন সাভার প্রেস ক্লাবে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে তারা পাওনা টাকা চেয়ে স্মারকলিপিও দিয়েছেন কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। আজ (গতকাল) শ্রম প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন শ্রমিকরা। এরপর মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয় কলকারখানা অধিদপ্তরে যোগাযোগ করতে। সেখানেও স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। প্রাপ্য টাকা বুঝে পাওয়ার আগ পর্যন্ত প্রেস ক্লাবে শ্রমিকদের অবস্থান কর্মসূচি চলবে।

গার্মেন্টস শ্রমিক মুক্তি আন্দোলনের সভাপতি শবনম হাফিজ দেশ রূপান্তরকে বলেন, যেহেতু তাজরীন শ্রমিকদের মতো এ-ওয়ান শ্রমিকদেরও প্রাপ্য টাকা বকেয়া রয়েছে তাই দুই কারখানার শ্রমিকরা এখন যুগপৎ আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। সামনে এ আন্দোলনে ড্রাগন গার্মেন্টসের শ্রমিক ও রানা প্লাজার আহত শ্রমিকরাও যুক্ত হতে পারেন। দাবি মেনে না নিলে সব মিলিয়ে বৃহত্তর শ্রমিক আন্দোলন গড়ে উঠবে। এখান থেকে যদি কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে তাহলে তার দায় কিন্তু সরকারকেই নিতে হবে।

কলকারখানা অধিদপ্তরের চিঠির বিষয়ে বিজিএমইএর অন্যতম পরিচালক রেদওয়ান সেলিম দেশ রূপান্তরকে বলেন, এ ধরনের কোনো চিঠির ব্যাপারে আমার কিছু জানা নেই। চিঠি এসেছে কি-না তাও বলতে পারছি না। বিষয়টির খোঁজ নেব।