অর্থ পাচারকারী ও দুর্নীতিবাজদের ছাড় দেওয়া যাবে না জানিয়ে উচ্চ আদালত বলেছেÑ ‘যত বড় রুই-কাতল হোক না কেন, তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে।’ প্রায় সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠার পর কানাডায় পাড়ি দেওয়া এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক ও রিলায়েন্স ফাইন্যান্স লিমিটেডের সাবেক এমডি (ব্যবস্থাপনা পরিচালক) পি কে (প্রশান্ত কুমার) হালদারকে দেশে ফিরিয়ে আনা এবং গ্রেপ্তারের বিষয়ে প্রতিবেদনের ওপর গতকাল বুধবার শুনানিকালে এমন মন্তব্য করে হাইকোর্ট। বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের ভার্চুয়াল বেঞ্চ এ সংক্রান্ত শুনানির জন্য আগামী ৯ ডিসেম্বর দিন ধার্য রাখে। এই সময়ের মধ্যে বিচারিক আদালতে পি কে হালদারের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পারোয়ানা জারি নিয়ে প্রতিবেদন দিতে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট।
ভিডিও কনফারেন্সে দুদকের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন অ্যাডভোকেট খুরশিদ আলম খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডি এ জি) এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক। এদিকে শুনানিকালে পি কে হালদারের বিরুদ্ধে এখনো গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি না হওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করে হাইকোর্ট। বিচারিক আদালতে দুদকের আইনজীবী মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীর সন্ধ্যায় দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘পি কে হালদারের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করতে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে করা একটি আবেদন গত ২৬ নভেম্বর মৌখিকভাবে মঞ্জুর করেছেন বিচারক। তবে বিচারকের স্বাক্ষর সংবলিত আদেশ এখনো হাতে আসেনি।’
পি কে হালদারকে দেশে ফিরিয়ে আনা এবং তাকে গ্রেপ্তারে পদক্ষেপের বিষয়ে গত ১৯ নভেম্বর স্বতঃপ্রণোদিত এক আদেশে তা জানতে চেয়ে ১০ দিন সময় দেয় হাইকোর্ট। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল দুদক একটি প্রতিবেদন উপস্থাপনের মাধ্যমে আদালতকে জানায়, তাকে (পি কে হালদার) গ্রেপ্তারে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করতে সংশ্লিষ্ট বিচারিক আদালতে আবেদন করা হয়েছে। হাইকোর্ট এ সময় বলে, ‘যারা দুর্নীতিবাজ, অর্থ পাচারকারী তাদের ছাড় দেওয়া যাবে না। যত বড় রুই-কাতল হোক না কেন তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে। তারা যাতে আইনের জালে ধরা পড়ে সে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।’ হাইকোর্ট বলে, ‘আমাদের সবার উচিত দেশের সম্পদ রক্ষা করা। সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এটা আমাদের সাংবিধানিক অধিকার। কাজেই শুধু আদালত নয়, সবাইকে এ দায়িত্ব পালন করতে হবে।’
পি কে হালদার প্রথমে রিলায়েন্স ফাইন্যান্স ও পরে এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের এমডি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ব্যাংকবহির্ভূত আরও চারটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান নিজ কর্তৃত্বে ও নিয়ন্ত্রণে নেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে এসব প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণের নামে সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগ ওঠে পি কে হালদার ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। অবৈধ ব্যবসা ও কার্যক্রমের মাধ্যমে পৌনে ৩০০ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে পি কে হালদারের বিরুদ্ধে গত ৮ জানুয়ারি মামলা করে দুদক। অভিযোগ ওঠার পরপরই কানাডায় পাড়ি দেন তিনি। এক বিনিয়োগকারীর আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ১৯ জানুয়ারি পি কে হালদার ও তার পরিবারের কয়েকজন সদস্যসহ ২০ জনের ব্যাংক হিসাব ও পাসপোর্ট জব্দের নির্দেশ দেয় উচ্চ আদালত।