হাসপাতাল শূন্য রেখে কর্মদিবসে ছুটি না নিয়েই গোপনে পিকনিকে যাওয়া মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালের সাত চিকিৎসককে কারণ দর্শানোর নোটিস দিয়েছে হাসপাতালটির কর্র্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে ওই চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। গত বুধবার এসব চিকিৎসক হাসপাতালে রোগীদের সেবা না দিয়ে ইন্টার্ন ডাক্তার, নার্স ও কিছু ক্লিনিক মালিকদের আয়োজনে যশোরের অন্যন্যা পার্কে বনভোজনে যান। গতকাল বৃহস্পতিবার দৈনিক দেশ রূপান্তরে এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলো।
কারণ দর্শানোর নোটিস পাওয়া চিকিৎসকরা হলেন হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসক এমএ রশিদ, শিশু চিকিৎসক মাহাবুবা তানমিলা, সার্জারি বিভাগের চিকিৎসক ফজলুর রহমান ও আশিকুজ্জামান মানিক, চর্ম ও যৌন রোগ বিভাগের চিকিৎসক সফিউল্লাহ সবুজ, গাইনি বিভাগের চিকিৎসক সোনিয়া আহমেদ এবং নাক, কান ও গলা বিভাগের চিকিৎসক এএস গাজী শরীফউদ্দিন আহমেদ। তারা হাসপাতালের রোগী সেবা কক্ষে তালা লাগিয়ে কর্মদিবসে কোনো ধরনের ছুটি না নিয়েই অনুপস্থিত থেকে গোপনে গিয়েছিলেন বনভোজনে। একসঙ্গে এত চিকিৎসক যখন জরুরি ও মুমূর্ষু রোগী ফেলে ধুমধাম আয়োজনের বনভোজনে আনন্দ করছিলেন তখন মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে শতাধিক রোগী নানা রোগ যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছিলেন। ওইদিন জেলার দূর-দূরান্ত থেকে যাওয়া শত শত রোগী হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসক শূন্য দেখে চিকিৎসা না পেয়ে হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরে যান। সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকদের এমন কাণ্ডে বিস্মিত হয়েছেন জেলায় কর্মরত অন্য চিকিৎসকরা।
মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে এমনিতেই রয়েছে চরম চিকিৎসক সংকট। ৬৪ জন চিকিৎসকের স্থলে আছেন মাত্র ১১ জন। তার মধ্যে চারজন আছেন আবার ছুটিতে। কর্মরত সাত চিকিৎসক। যারা সবাই হাসপাতাল শূন্য করে রোগী ফেলে গিয়েছিলেন বনভোজনে। বুধবার এই প্রতিবেদকের মাধ্যমে হাসপাতাল সুপার প্রথম জানতে পারেন তার হাসপাতাল চিকিৎসকশূন্য।
এ ব্যাপারে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক (সুপার) রফিকুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কর্মদিবসে ছুটি ছাড়াই গোপনে অনুপস্থিত থেকে এবং রোগী ফেলে চিকিৎসকদের পিকনিকে যাওয়ার ঘটনাটা সত্যিই দুঃখজনক। অভিযুক্ত চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থাসহ কারণ দর্শানোর চিঠি দেওয়া হয়েছে। যেটুকু ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সেটুকুই ওই চিকিৎসকদের চাকরি জীবনের জন্য অনেক ক্ষতির। ঘটনার জন্য অনেক চিকিৎসক দুঃখ প্রকাশ করেছেন। কিন্তু কর্র্তৃপক্ষকে না জানিয়ে এবং ছুটি না নিয়ে পিকনিকে যাওয়ার ঘটনাটি ক্ষমার অযোগ্য হওয়ায় অভিযুক্ত চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে কোনো ছাড় দেওয়া হয়নি।’