বঙ্গবন্ধুর চার খুনির খেতাব বাতিল চেয়ে রিট

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকারী ও ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত চারজনের মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের খেতাব বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে। গত বুধবার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সুবীর নন্দী দাসের পক্ষে অ্যাডভোকেট এ কে খান এ আবেদনটি করেন। এতে বঙ্গবন্ধুর খুনি শরীফুল হক ডালিম, এসএইচএমবি নুর চৌধুরী, এ এম রাশেদ চৌধুরী ও মোসলেহ উদ্দীন ওরফে মুসলেম উদ্দীনের রাষ্ট্রীয় খেতাব বাতিল চাওয়ার পাশাপাশি খেতাব বাতিলে সরকারের নিষ্ক্রিয়তা চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে।

আবেদনের বরাত দিয়ে রিটকারী সুবীর নন্দী দাস জানান, মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ১৯৭৩ সালে সরকার ৭ জনকে বীরশ্রেষ্ঠ, ৬৮ জনকে বীর উত্তম, ১৭৫ জনকে বীর বিক্রম ও ৪২৬ জনকে বীরপ্রতীক উপাধি দেয়। একই বছরের ১৫ ডিসেম্বর এ সংক্রান্ত গেজেট জারি হয়। এর মধ্যে শরীফুল হক ডালিমকে বীর উত্তম, নুর চৌধুরীকে বীর বিক্রম এবং রাশেদ চৌধুরী ও মোসলেহ উদ্দিনকে বীরপ্রতীক খেতাব দেওয়া হয়।

আইনজীবী বলেন, জাতির পিতাকে হত্যাকারী এই চারজনের খেতাব এখনো বাতিল করা হয়নি। বিশে^র বিভিন্ন দেশে এ রকম পরিস্থিতিতে খেতাব বাতিলের নজির রয়েছে। জাতির পিতা হত্যা মামলায় দন্ডিত ও পলাতক এই চার আসামির খেতাব বাতিলে বিবাদীর নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ হবে না, এ মর্মে রুলের আর্জিসহ এই খেতাব ফিরিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। কার্যতালিকায় এলে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট একটি বেঞ্চে আগামী সপ্তাহে শুনানি হবে। আবেদনে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সচিব, মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার দীর্ঘ দিন পর আদালতের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১০ সালের ২৮ জানুয়ারি রাতে পাঁচ খুনি সৈয়দ ফারুক রহমান, সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খান, বজলুল হুদা, মহিউদ্দিন আহমেদ ও এ কে এম মহিউদ্দিনের ফাঁসি কার্যকর করা হয়। এ ছাড়া গত ১১ এপ্রিল রাতে বঙ্গবন্ধুর আরেক খুনি আবদুল মাজেদের ফাঁসি কার্যকর হয়। তবে এখনো পলাতক  পাঁচ খুনির মধ্যে রাশেদ চৌধুরী যুক্তরাষ্ট্রে এবং নুর চৌধুরী কানাডায় রয়েছেন বলে সরকার নিশ্চিত হয়েছে। খন্দকার আবদুর রশিদ, শরীফুল হক ডালিম ও মোসলেহ উদ্দিন কোন দেশে অবস্থান করছেনম সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি সরকার।