অধ্যক্ষ-উপাধ্যক্ষ, কর্মকর্তা নেই

বাউফল সরকারি কলেজের শিক্ষকরা বেতন পান না ৫ মাস

পটুয়াখালীর বাউফল সরকারি কলেজের কর্মচারীরা ১০ মাস এবং শিক্ষকরা পাঁচ মাস ধরে বেতন ভাতা পাচ্ছেন না। অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ) এবং আয়ন-ব্যয়ন কর্মকর্তার (ডিডিও) পদগুলো শূন্য থাকায় এ জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে মানবেতর জীবনযাপন করছেন কলেজটিতে নিয়োজিত শিক্ষক-কর্মচারীরা।

বাউফল সরকারি কলেজ সূত্রে জানা গেছে, ১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠিত কলেজটি ২০১৬ সালের ১২ এপ্রিল জাতীয়করণ হয়। পরে চলতি বছরের ২৫ জানুয়ারি পটুয়াখালী সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রফিকুল ইসলামকে বাউফল সরকারি কলেজে অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হলেও তার যোগদানের মাত্র ২৫ দিনের মাথায় গত ২০ ফেব্রুয়ারি ‘অদৃশ্য কারণে’ তাকে বদলি করা হয়। কিন্তু এরপর আর কোনো অধ্যক্ষ নিয়োগ দেওয়া হয়নি। এতে বেতন বিলে সই করার কেউ না থানায় বিপাকে পড়েছেন কলেজটিতে কর্মরতরা। ওই কলেজে বর্তমানে ২৭ জন শিক্ষক, ১০ জন তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীসহ মোট ৩৭ জন কর্মরত আছেন। বেতন ভাতা না পেয়ে তারা পরিবার-পরিজন নিয়ে কষ্টে আছেন।

এছাড়াও সম্প্রতি উচ্চ মাধ্যমিকে (এইচএসসি) উত্তীর্ণ (সরকারি ঘোষণা মতে) শিক্ষার্থীরা প্রশংসাপত্র তুলতে বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন।

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, স্নাতকে ভর্তি হতে হলে এইচএসসি পাসের প্রশংসাপত্র লাগে। যেখানে অধ্যক্ষের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক। অধ্যক্ষ না থাকায় ওই কলেজ থেকে সম্প্রতি উচ্চ মাধ্যমিকে (এইচএসসি) পাস করা (অটো) ৬৮০ শিক্ষার্থী প্রশংসাপত্র নিতে গিয়ে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। কখনো কখনো তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আবার কখনো প্রশংসাপত্রে অধ্যক্ষের স্বাক্ষরের স্থানে একেক সময় একেক শিক্ষকের স্বাক্ষর দিয়ে কোনো কোনো শিক্ষার্থীকে বিদায় করা হচ্ছে, যা নিয়মবহির্ভূত।

ওই কলেজের শিক্ষক লুৎফর রহমান বলেন, ‘সব শিক্ষক-কর্মচারী মিলে রেজল্যুশন করে কলেজটিতে অধ্যক্ষ দেওয়ার জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মহোদয়ের বরাবরে আবেদন করেছি। এখনো নতুন অধ্যক্ষ নিয়োগ দেওয়ার ব্যাপারে কোনো সুরাহা হয়নি।’

চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নুপুর বেগম বলেন, ‘চার সদস্যের সংসার চলে আমার বেতনে। দশ মাস ধরে বেতন-ভাতা পাচ্ছি না। এর মধ্যে দুটি ঈদ গেল। টাকার অভাবে বাচ্চাদের নতুন পোশাক কেনা হয়নি। কোরবানিও দিতে পারিনি। ধারদেনা করে খুবই মানবেতর জীবনযাপন করছি।’

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক মুঠোফোনে বলেন, ‘শিগগির যাতে কলেজটির শিক্ষক-কর্মচারীরা বেতন-ভাতা পান এবং অন্যান্য সমস্যার সমাধান হয় সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’