১৫, ১২, ৩, ১১; এরপর ১৪। ব্যাটে সাকিব আল হাসানের সময়টা এমন বাজে এখন। বোলিংয়ে ৫ ম্যাচের ৩টিতে একটি করে উইকেট। বিশ্বের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডারকে অনেকটা তার ছায়ার মতো দেখাচ্ছে। কিন্তু একটা বড় কাজ হয়েছে কাল। সাকিবদের জেমকন খুলনা টানা দুই ম্যাচ জিতে পয়েন্ট টেবিলের ২ নম্বর জায়গায় এখন (দিনের প্রথম ম্যাচের পর)। নিদারুণ দুর্দশার মধ্যে থাকা তামিম ইকবালের ফরচুন বরিশালকে গতকালের প্রথম ম্যাচে খুলনা হারিয়েছে ৪৮ রানে।
মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে বঙ্গবন্ধু কাপে সব হিসাবে খুলনা শক্তিশালী। এই ম্যাচের আগে ৪ ম্যাচে মাত্র ১ জয়ে ২ পয়েন্ট ছিল তামিমদের। তা-ই রইল। টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ওপেনার উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান জাকির হাসানের দুর্ধর্ষ ব্যাটিংয়ে শেষ পর্যন্ত ৬ উইকেটে ১৭৩ তোলে খুলনা। মিরপুরে এখন এটা বিশাল স্কোর। বরিশাল ১৯.১ ওভারে ১২৫ রানে অল আউট। এবারের টুর্নামেন্টে জাকিরের প্রথম ম্যাচ ছিল এটি। ৪২ বলে ১০ চারে ৬৩ রান করে ‘ম্যান অব দ্য ম্যাচ’। এমন পারফরম্যান্সের পর এনামুল হক বিজয়ের আবার একাদশে ফেরার পথটাও কঠিন করে দিলেন ২২ বছরের বাঁহাতি তরুণ জাকির। এই ম্যাচটা আসলে জাকিরের। প্রতিভাবান। সুযোগ সব সময় কাজে লাগে না। তাই অনেক কিছু মিস হয়ে যায়। এই যেমন শেষ মার্চে করোনাভাইরাসের কারণে ঘরবন্দি হওয়ার আগে খেলেছিলেন লিগে হওয়া একমাত্র ম্যাচটি। এরপর?
খুলনায় উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান বেশি। জাকিরের নাম আসে একটু দেরিতে। কিন্তু তিন দলের ওয়ানডে টুর্নামেন্টে ব্যর্থ ছিলেন বিজয়। এরপর ৫ দলের এই কুড়ি ওভারের আসরে ৪ ম্যাচে সাকুল্যে করলেন ৪১ রান। ক্যাচ ১টি। ম্যানেজমেন্ট সাহস করল।
খুলনা তাই ওপেনিংয়ে নতুন চেষ্টা দেখাতে চেয়েই সফল। জাকিরের জন্যও হয়তো টার্নিং পয়েন্ট হতে পারে। খুলনার জহুরুল ইসলাম পেসার তাসকিন আহমেদের বলে বোল্ড হওয়ার পর ব্যাটিংটা আসলে জমে ওঠে। ছটফটে জাকির অনেক শট খেলতে জানেন। স্পিন, পেসে কিংবা বৈচিত্র্যে শুরু থেকে সমস্যা ছিল না। আজকাল একটু নিচের দিকে খেললেও নিয়মিত আগ্রাসী খেলা ইমরুল কায়েস চলে আসায় বুঝি জাকিরের উপকার হলো। শুরুতেই ছক্কা-চারের প্রদর্শনী ইমরুলের।
জাকির যে পুরোপুরি তার নিজের খেলাটা খেলেছেন তা নয়। যেহেতু রান আসছিল তাই বাতাসের ওপর সেভাবে ভর করেননি। একটাও ছক্কা মারেননি। ৩৪ বলে ৩৭ করে ইমরুল ফিরলে দুই বাঁহাতি সাকিব ও জাকিরে জমতে পারত। দুই বাউন্ডারিতে শুরু করা সাকিবের ইঙ্গিত ছিল ভালো। তবে এবার ১০ বলে ১৪। জাকির অবশ্য ৫৯ রানে নতুন জীবন পেয়েও সেটাকে সামনে নিতে পারেননি। ১১৭ রানের সময় তৃতীয় উইকেটের পতন। এরপর সাকিবের বিদায়। অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ এসেই প্রায় নির্বিষ বোলারদের পিটিয়ে স্কোর বাড়াতে চাইলেন। ১৪ বলে ২৪। অভিজ্ঞ পেসার কামরুল ইসলাম রাব্বির শিকার হয়েছেন। ৩৩ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ইনিংসের সেরা বোলার রাব্বি। ৪৪ রানে ২ উইকেট তাসকিনের।
বরিশালের ইনিংস নিয়ে কী লিখবেন? আসলে স্পিনার শুভাগত হোম ও সাকিব মিলে বরিশালকে ডোবালেন। বরিশাল ৫৭ রান করে ফেলল দুই ওপেনারের ব্যাটে। দারুণ সম্ভাবনা। তখনো অষ্টম ওভার। ওই ওভারের দ্বিতীয় ও ষষ্ঠ বলটা সম্ভবত সব পাল্টে দেওয়ার ভিত গড়ে দিল। ২৬ বলে ১৯ ইমনের। ২১ বলে ৩২ করে বিদায় বরিশাল নেতার। ধারাবাহিক পারফরমার তৌহিদ হৃদয় ৩৩ করেছেন। কিন্তু নিজের দোষে রান আউট ব্যর্থতার মধ্যে ঢুকতে যাওয়া সেনসেশনাল আফিফ হোসেন ধ্রুব (৩)। ইরফান শুক্কুরের ১৬। সাকিবের (৪-০-২২-১) একমাত্র শিকার। মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন ১০ করলেও বরিশালের ব্যাটিংয়ের শেষটা করুণ। ৪ উইকেটে ১২১ রান থেকে ১২৫ রানে গিয়ে অল আউট হয়েছে। শেষ ৬ উইকেটের মূল্য মাত্র ৫ রান! দুই পেসার শহিদুল ইসলাম ও হাসান মাহমুদ ২টি করে উইকেট নিয়ে নিজেদের মেলে ধরার চেষ্টায় নিয়মিত সাফল্যই পাচ্ছেন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
জেমকন খুলনা : ২০ ওভারে ১৭৩/৬ (জাকির ৬৩, সাকিব ১৪, মাহমুদউল্লাহ ২৪; রাব্বি ৩/৩৩)। ফরচুন বরিশাল : ১৯.৫ ওভারে ১২৫ (তামিম ৩২, সাকিব ১/২২)। ফল : খুলনা ৪৮ রানে জয়ী।
ম্যাচসেরা : জাকির হাসান।